মোড়েলগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি বেদখল গাছ কেটে নিয়েছে প্রভাবশালীরা

0
53

এম.পলাশ শরীফ, মোড়েলগঞ্জ থেকে॥
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ১০৬ নং বি. উমাজুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি বেদখল ও গাছ কেটে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। এ ঘটনায় একাধিকবার জমির পরিমাপ করেও স্কুল কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করতে পারেনি স্কুলের বেদখলকৃত ২৭ শতক জমি।

সরেজমিনে ও অভিযোগে জানাগেছে, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের উমাজুরি গ্রামের বি.উমাজুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৪৯ শতক জমি’র ওপর স্থাপিত ১৯৫২ সালে। বিদ্যালয়টি স্থাপিতকালে তৎকালিন জমিদাতা ভান্ডারিয়া উপজেলার চোহুরিয়া গ্রামের আপেল হাওলাদারের ছেলে মেনাজ উদ্দিন হাওলাদার ৪৯ শতক জমি দান করেন। পরবর্তীতে ওই গ্রামের মেনাজ উদ্দিন তালকদারের পুত্র মোসলেম আলী তালকদার ৫শতক জমি দান করেন এ নিয়ে মোট ৫৪ শতক জমি’র ওপর নির্মিত এ বিদ্যালয়টি। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের জমি স্থানীয় প্রভাবশালী মোসলেম আলী তালকদারের পুত্র আক্তারুজ্জামান কবির, মো. লতিফ খান, খলিল আকনসহ কয়েকজনে জমির অধিকাংশ যায়গা বেদখল করে ভোগদখল করে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মো. আকবর আলী স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের সিমানা ও সঠিক জমি পরিমাপের জন্য মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে সরকারি সার্ভেয়ার চেয়ে একটি আবেদন করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহকারি কমিশনার(ভূমি)কে সার্ভেয়ার দ্বারা স্কুলের জমি পরিমাপের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে।

তাৎক্ষনিক স্থানীয় আমিন দ্বারা ওই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু, মেম্বর আলম মৃধা, সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টার এডহক কমিটির সভাপতি সহকারি শিক্ষা অফিসার অসীম কুমার সরকার ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মো. আকবর আলীর স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে জমিটি পরিমাপে দেখা যায় বেদখলকৃত ২৭ শতক জমি আক্তারুজ্জামান কবির, মো. লতিফ খান ও খলিল আকনের দখলে। বিদ্যালয়টির জমি সঠিক পরিমাপ অনুযায়ী সিমানাস্তরে পিলার বসানো হয়। পরবর্তীতে লিখিত আকারে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। ২০১৮ সালে এ বিদ্যালয়ের জমি পরিমাপ করে পিলার বসানো হলেও অদ্যবধি পর্যন্ত ২৭ শতক জমি এখনও রয়েছে দখলকারিদের কবলে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের ৫টি তালগাছ ও ১২টি সুপারি গাছ কেটে নিয়েছে স্থানীয় আক্তারুজ্জামান কবিরসহ বিপুল তালকদার এদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের আরেক জমিদাতা আব্দুল মজিদ হাওলাদার। এদিকে সাবেক প্রধান শিক্ষক শেখ আকবর আলী’র বিদ্যালয়ের জমি পরিমাপ করার কারনে জমি বেদখলকারিরা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে হয়রানি মূলক একটি অভিযোগ দায়ের করছেন তার বিরুদ্ধে।
এ সর্ম্পকে বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. মাসুম জাকারিয়া বলেন, তিনি এ বিদ্যালয়ে সদ্য প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন। তবে তার জানামতে ৫৪ শতক জমি এ বিদ্যালয়ের নামে রয়েছে। ইতোপূর্বে সাবেক প্রধান শিক্ষক থাকাকালিন এ জমি নিয়ে পরিমাপ করা হয়েছিলো। বিদ্যালয়ের নামে সঠিক জমি দখলে নেই ।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সহকারি শিক্ষা অফিসার অসীম কুমার সরকার বলেন, ১ বছর পূর্বে বিদ্যালয়টির জমি বের করার জন্য পরিমাপ করা হয়েছিলো। পরিমাপে দেখা গেছে অধিকাংশ জমি বেদখলকারিদের দখলে। বিষয়টি তথনই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছিলো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.কামরুজ্জামান বলেন, বি. উমাজুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির সঠিক জমি বের করার জন্য ইতোপূর্বে সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাকে সরকারি সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো তখন সরকারি সার্ভেয়ার না থাকায় বিষয়টি নিস্পত্তি করা যায়নি। এখন সার্ভেয়ার এসেছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কথা হয় আক্তারুজ্জামান কবিরের সাথে তিনি বলেন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি নিজের পৈত্তিক সম্পত্তি ভোগ দখল করছেন।


একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here