হাসপাতালে ধূমপান বন্ধে কঠোর হওয়া জরুরি

0
157

অসুস্থ হয়ে মানুষ চিকিৎসা সেবা পেতে হাসপাতালে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে যদি উল্টো আক্রান্ত হয়ে পড়ে তাহলে সেটা কোনভাবেই স্বাভাবিক ব্যাপার হতে পারে না। তবে এমনটাই ঘটছে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে। ঢাকার ৭১ শতাংশ সরকারি হাসপাতালে ধূমপান হয় বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ। সম্প্রতি ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন পরিস্থিতি জানতে ৫১টি হাসপাতালে এ জরিপ চালানো হয় বলে জানায় এ সংস্থা। জরিপে এক-তৃতীয়াংশ হাসপাতালে কাউকে না কাউকে সরাসরি ধূমপান করতে দেখা যায়। প্রমাণ হিসেবে মেলে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ, ধোঁয়ার গন্ধ ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হাসপাতালে ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের প্রমাণ হিসেবে পাওয়া যায় পানের পিক, চুনের দাগ ইত্যাদি। এ বাদে সরাসরি ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করতে দেখা গেছে প্রায় অর্ধেক হাসপাতালে।
এদিকে ঢাকার ৮০ শতাংশ সরকারি হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকপণ্য বিক্রি হয় বলে জানায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন। এমনকি ১৮ শতাংশ হাসপাতালের সীমানার মধ্যেই এমন দোকান রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে আগত রোগী ও দর্শনার্থীদের তামাক ছাড়ার ব্যাপারে সহায়তা দিতে তামাক নিবৃত্তকরণ ক্লিনিক থাকা জরুরি। কিন্তু ৫১টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র একটিতে এ সুবিধা রয়েছে বলে জরিপে দেখা যায়।
দেশের সব হাসপাতালে আইন অনুসারে পর্যাপ্ত পরিমাণ তামাকবিরোধী সাইনেজ স্থাপন ও হাসপাতালগুলোর ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকপণ্য বিক্রি বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে। তামাকজাত দ্রব্যের মধ্যে সিগারেট, বিড়ির মতো ধোঁয়াযুক্ত পণ্যগুলো শুধু সেবনকারীর স্বাস্থ্যেরই মারাত্মক ক্ষতি করে না, আশপাশের মানুষেরও সমান ক্ষতি করে। পরোক্ষ ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, স্ট্রোক ও প্রজনন সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭-এ দেখা যায়, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও প্রায় ১৩ ভাগ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। হাসপাতালগুলোকে তামাকমুক্ত করতে কর্তৃপক্ষের সচেতন হওয়া জরুরি। দেশে প্রকাশ্যে ধূমপান বিরোধী আইন থাকলেও সেটির যথাযথ প্রয়োগ নেই। গণপরিবহনে ধূমপান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বা সচেতনতার কারণে মানুষ গাড়িতে চড়ে ধূমপান করে না। কিন্ত হাসপাতালের মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ধূমপান না করার বিষয়ে সচেতনতার যে অভাব রয়েছে তা বোঝা যায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের জরিপ থেকে। বহুলাংশে দেখা যায় ‘ধূমপানমুক্ত এলাকা’ লেখা সাইনবোর্ড থাকলেও মানুষ সেখানে দেদারসে ধূমপান করছে। তাই সরকারি হাসপাতালে ধূমপান বন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আরও কঠোর হতে হবে এবং সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।