কৃষি প্রণোদনা পেতে মন্ত্রণালয় নয় দফা শর্ত আরোপ করেছে

0
879

বজ্ঞিপ্ত: শীতকালীন শাক-সবজি ও বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনা পেতে মন্ত্রণালয় নয় দফা শর্ত আরোপ করেছে। এ শর্তে অন্যতম দফা হচ্ছে, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা কৃষকের তালিকা তৈরি করবেন। বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার পেতে কৃষকের ছবি ও স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দক্ষিণঞ্চলের চার জেলায় ২৪ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ২৬ লাখ টাকার কৃষি উপকরণ বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

ঢাকাস্থ খামার বাড়ি কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের সহকারী সচিব (প্রতিকল্প) মোঃ রেজাউল করিম খান এক দাপ্তরিক পত্রে জেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নয় দফা শর্ত সম্পর্কে অবহিত করেছেন। শর্তের উল্লেখযোগ্য দিক গুলো হচ্ছে, উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক এ অনুদান সহায়তা পাবে, ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্যরা তালিকা তৈরি করবেন, নির্দিষ্ট ফসল ছাড়া অন্য খাতে বীজ ও সার দেওয়া যাবে না, উপজেলা সদর থেকে কৃষি উপকরণ নিতে হবে কৃষকের ছবি সংবলিত মাস্টার রোলের মাধ্যমে প্রণোদনা বিতরণ করতে হবে, মাস্টার রোলে উপকরণ গ্রহণকারী কৃষকের স্বাক্ষর বা টিপসই থাকতে হবে এবং অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ দায়ী থাকবে। স্থানীয় সূত্র জানান, ভূট্রা, সরিষা, খেসারী ডাল, বিটি বেগুন,বোরো ধান, গ্রীষ্মকালীন তিল ও মুগ চাষে খুলনা জেলায় ৩৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা মূল্যের, সাতক্ষিরা জেলায় ৭০ লাখ ৭ হাজার টাকা মূল্যের, বাগেরহাট জেলায় ৫৯লাখ ৯৮ হাজার টাকা মূল্যের এবং নড়াইল জেলায় ৫৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা মূল্যের কৃষি উপকরণ বিনামূল্যের বিতরণ করা হবে। এ চার জেলার ২৪ হাজার ৬৫৫ জন কৃষক এ সুবিধা পাবে।

 

সূত্র জানান, ২২ অক্টোবর থেকে আগামী বছর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে।  নড়াইল জেলা কৃষি সম্পসারন কর্মকর্তা চিন্ময় রায়ের কাছে জানতে চাইলে বলেন, মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সকল শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তবলীর বাইরে অনুকম্পা করার সুযোগ নেই। উপজেলা সদর থেকে নির্বাচিত কৃষকে উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে। গতকাল বুধবার এ বিষয়ে স্থানীয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ অক্টোবর নড়াইলের কৃষদের তালিকা প্রস্তুক করা হবে।

 

কৃষি সম্পসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নিত্যরঞ্জন বিশ্বাস জানান, তালিকা তৈরি থেকে কৃষি উপকরণ পর্যন্ত মনিটরিং থাকবে। জেলা প্রশাসক তালিকা চুড়ান্ত করবেন। সরকারি নীতিমালার আলোকে তিনি নির্দেশনা দিবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তদরকি করবেন। ফলে প্রণোদনার ক্ষেত্রে দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি  সম্ভাবনা থাকবে না।