৯৮ বিশ্বকাপের সমর্থকই সেমিতে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ

0
269

স্পোর্টস ডেস্ক:
ভাইদের সঙ্গে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের জার্সিতে হ্যাজার্ড (ডানে)
এবারের বিশ্বকাপ থাকছে ইউরোপেই। ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিদায়ের পর নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। এই নিয়ে ২০০৬ সালের পর থেকে টানা চারবার বিশ্বকাপ ইউরোপিয়ান কোনও দেশ নিয়ে যাচ্ছে। সেমিফাইনালে লড়ছে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া।

এর মধ্যে ফ্রান্স ও বেলজিয়াম প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কারা ফাইনাল ওঠে সেটাই দেখার।

লস ব্লুজদের চলতি বিশ্বকাপে অনেকেই ‘কালো ঘোড়া’ বলছিল তবে গ্রুপ পর্বে সেরা হয়ে শেষ ষোলোয় ওঠে। তার পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চের আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শেষ আটে নিশ্চিত করে দিদিয়েরে দেশমের শিষ্যরা। কোয়ার্টার ফাইনালে আরেক লাতিন দেশ উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পায় আতোঁয়া গ্রিজম্যান, কিলিয়ান এমবাপেরা। সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়ে বিশ্বকাপ জেতার অন্যতম দাবিদার হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এদিকে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বেলজিয়ামকেও ‘কালো ঘোড়া’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। গ্রুপ পর্বে তিউনেশিয়া, পানামা ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শীর্ষ থেকে পরের রাউন্ডে উঠেছে বেলজিয়ানরা। রাশিয়ায় তো বটেই, গেলো ২৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের দল।

বিশ্বকাপ জিতলে অপরাজিত থেকেই হ্যাজার্ডের নেতৃত্বাধীন দলটি শিরোপা ঘরে তুলবে। শেষ ষোলোর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে জয় পায় রেড ডেভিলসরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের মতো পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ডি ব্রুইন-রুমেলু লুকাকুরা।

ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় পাওয়ার পর আর কোনও দলকে ভয় পাচ্ছে না বেলজিয়াম। এমনটাই জানিয়েছেন জাপান ম্যাচে জেতানোর নায়ক নাসের চ্যাডলি।

মনে করা হচ্ছে, এই ম্যাচে যারা জিতবেন, তাদের হাতেই উঠতে পারে বিশ্বকাপ। বেলজিয়াম এর আগে কোনওদিন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেনি। ফ্রান্স ২ বার ফাইনাল খেললেও ১৯৯৮ সালে একবারই ট্রফি জিতেছে।

মজার বিষয় হচ্ছে ২০ বছর আগের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জার্সি পরেই বিশ্বকাপ উত্তেজনায় মেতে উঠেছিলেন ক্ষুদে হ্যাজার্ড। ফ্রান্সের সীমান্তবর্তী এলাকায় লা লওভিয়েরিতে জন্ম নেন ১৯৯১ সালে। কথাও বলেন ফ্রেঞ্চ ভাষায়।

মঙ্গলবার হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে মাঠে নামার আগে কথা বলেছেন বেলজিয়াম দলপতি। সেসময় জানালেন ভিন্নরকম তথ্য।

হ্যাজার্ড বলেন, আমার ভাইদের নিয়ে আমি ফ্রান্সের সমর্থক ছিলাম। কারণ আমাদের সময়টা ছিলই এমন। সেসময় আমার কাছে বেলজিয়ামে জার্সি ছিল না।

কিশোর বয়সেই ফ্রান্সের লিলেতে পাড়ি জমান। ঐতিহাসিক ক্লাবটির হয়ে নিজেকে পরিপূর্ণ করেন। ২০০৮ সালে জাতীয় দলে যোগ দিয়ে বেলজিয়ামকে নিয়ে যান ইতিহাসের সবচেয়ে সোনালী যুগে। ২০১২ সালে যোগ দেন ইংলিশ পাওয়ার হাউজ চেলসিতে।

ফ্রান্সকে সমর্থন করার বিষয়ে ২৭ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, সে সময়কার বেলজিয়াম দলকে হেয় করতে চাই না। তৎকালীন দলেও ভালো ফুটবলার ছিলেন। তবে সময়টা আসলে ফ্রান্সেরই ছিল।