’৭৫-এর পট পরিবর্তন বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হতে পিছিয়ে দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

0
538

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার দশ বছরের মধ্যেই একটি উন্নত দেশে পরিণত হতে পারতো যদি ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনা জাতির জীবনে না আসতো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে তিন বছরের মধ্যেই যখন আমরা স্বল্পোন্নত দেশ হয়েছিলাম। আর ৫টি বছর হাতে পেলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হতে পারতো। এটি আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত হতে পারতো। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ৪৭ বছর লেগে গেছে উন্নয়নশীল দেশ হতে। আর যাতে বাংলাদেশ না এগুতে পারে সেজন্যেই ছিল ষড়যন্ত্র।

তিনি এই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি ভালই উপলব্ধি করতে পারেন উল্লেখ করে বলেন, ’৭৫ সালের পর ছয় বছর তাঁকে শরণার্থী হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছিল। আর যখন ’৮১ সালে দেশে ফিরে রাজনীতি শুরু করেন-প্রতি পদেই বাধার সম্মুখীন হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেলে জাতির পিতার ৮৯তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় যারা এক সময় আমাদের করুণার চোখে দেখতো, আর একটা ঋণ নিতে গেলে একটা প্রকল্প করতে গেলে হাজার রকম শর্ত জুড়ে দিতো, আর দুর্নীতি না করলেও দুর্নীতির অপবাদ দিয়ে প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দিত (যেমন পদ্মা সেতু), তারা আর এটা করতে পারবে না। সেই সাহস আর পাবে না।

তিনি বলেন, আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ ঋণ পেতে আর সমস্যা হবে না, হয়তো একটু সুদ বেশি দিতে হবে। তাতে কিছু আসে যায় না। ঐটুক আমরা দিতে পারি। মানুষের জন্য আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করলে যে দেশের উন্নযন করা যায় এটি তাঁর সরকার প্রমাণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলাম বলেই আজকে উন্নয়নের ছোঁয়াটা মানুষ পাচ্ছে।
যদি আমরা ক্ষমতায় না আসতে পারতাম, তাহলে ২০০১ সালের বিএনপি-জামায়াতের মত আমাদের উন্নয়ন অর্জনগুলো আবার নষ্ট করে দিতো,বলেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় সংসদের উপনেতা এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, আব্দুল মতিন খসরু এবং এম এ মান্নান, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, শিল্পী হাশেম খান এবং সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন।দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
বাসস