৩৬ ঘন্টা পর মংলা বন্দরে কার্যক্রম শুরু : জাহাজ আসা-যাওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

0
946

মাহমুদ হাসান, মংলা:
বঙ্গেপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় তিতলি ভারতে আঘাত করার পর মংলা সমুদ্র বন্দরে ৪ নম্বর সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। তিতলির জন্য বুধবার ১০ অক্টোবর সকাল থেকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সতর্কতা দেখাতে বলা হয় মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বন্দরে বিশেষ সর্তকবার্তা এলার্ট-২ জারি করে এবং দেশী-বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজ ও দুরপাল্লার সকল নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষনা করা হয়।

আবহাওয়াবিদ মোঃ রুহুল কুদ্দুস সন্ধ্যা ৬টায় এ তথ্য জানিয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৬-৭ টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় তিতলি ভারতের উড়িষ্যা ও অন্ধ্র উপকুলে আঘাত হানে, যা এখনও চলোমান। তবে এ ঘুর্নিঝড় অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ঘন্টা ঝড় বাতাস এবং ভারী বৃস্টিপাত হতে পারে। তিনি আরো বলেন, দুপুরে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ সংকেত ৪নং সংকেত থেকে নামিয়ে ৩নং সংকেত পরিবর্তন করা হয়। তবে আবহাওয়া অধিদফতর থেকে সংকেত পরিবর্তন করা হলে দুপুর ২টা থেকে বন্দরে বানিজ্যিক জাহাজ আসা ও যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার দুরুল হুদা বলেন, বন্দরে সার, ক্লিংকার, মেশিনারি, জিপসাম ও গ্যাসসহ ১৯টি জাহাজে বানিজ্যিক পণ্য খারাস-বোঝাইয়ের কাজ দুপুরের পালা থেকে ডিলেডালা ভাবে চলতে শুরু করেছে এবং বন্দরে জাহাজ চলাচলও শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর বৃহস্পতিবার বন্দরে কোনও জাহাজ আসার শিডিউল না থাকলেও সিঙ্গাপুর পতাকাবাহী এম ভি ওয়েস্টার্ন, এম ভি ছেলসি, পানামা পতাকাবাহী সাই হেলস, লাইব্রেরিয়ান পতাকাবাহী এম ভি অ্যামিথি ও হংকং পতাকাবাহী এম ভি হ্যানজিন নামে বিদেশি এ ৫টি জাহাজ পণ্য খালাস করে মংলা বন্দর ত্যাগ করেছে। এছাড়াও সকাল ১১টার পর থেকে মংলা বন্দর ও এর আশপাশ এলাকায় বৃষ্টিপাত বন্ধ রয়েছে। আকাশ কিছুটা মেঘলা রয়েছে তাই সতর্ক অবস্থানে থেকে বন্দর জেঠিতে পন্য উঠানামার কাজও শুরু হয়েছে। তবে আহবাওয়া ভালো থাকলে রাতের পালা থেকে বহিনোঙ্গরে অবস্থানরত ১৪টি বানিজ্যিক জাহাজে পন্য খালাস-বোঝাইয়ের কাজ পুরোদমে চলবে বলেও জানান বন্দরের এ কর্মকর্তা।

 

 

দুবলার ফিশারম্যান গ্রুপের সাধারন সম্পাদক মোঃ কামাল উদ্দিন জানায়, ঘুর্নিঝড় তিতলির প্রভাবে বঙ্গোপসাগর প্রচন্ড উত্তল থাকার ফলে উপকুলে জেলেরা টিকতে না পেরে বনের বিভিন্ন ছোট ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে এবং অনেক জেলে রাতভর চেষ্টায় সাগর থেকে কিনারে ফিড়ে আসছে। যারা ওখানে রয়েগেছে তারা গতকাল বিকাল পর্যন্ত সাগর বা নদীতে নামতে পারছেনা। এদিকে মংলা বন্দরসহ উপকুলীয় এলাকায় বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও পশুর চ্যানেলে বেশ কিছু কার্গো জাহাজ নদীর চরে উঠে আটকে পরেছে। এছাড়াও ঘুর্নিঝড় তিতলির ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সকল কিছু প্রস্তুত রেখেছিল মংলা বন্দর। প্রস্তুত রয়েছিল বন বিভাগ,নৌ-বাহিনী, কোষ্টগার্ড ও উপজেলা প্রসাশন। ঘূর্ণিঝড় তিতলি’র তান্ডব মোকাবেলায় উপজেলা প্রসাশন প্রস্তুতিমুলক সভা করে ৭৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখলেও লোকজনের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়াজন পড়েনি।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্রের কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ঘূর্ণিঝড় তিতলি’র প্রভাবে সাগরের তীব্র শ্রোত ও বিশাল-বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ায় দুবলা ফরেস্ট অফিসের জেটি বিধস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সর্তকতা হিসেবে বুধবার সন্ধ্যার আগেই সুন্দরবনের সকল পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে বন বিভাগ।