২ মাসে ৭ কোটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার

0
460

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সামাজিক যগাযগমাধ্যম টুইটার গত মে ও জুন মাস জুড়ে প্রায় ৭ কোটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। জুলাই মাসেও প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি থামছে না। তাদের লক্ষ্য মাধ্যমটিতে থাকা ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও কমপিউটার চালিত বট অ্যাকাউন্টগুলিকে চিহ্নিত করে বন্ধ করে দেওয়া। এর আগে অপব্যবাহার রোধে টুইটার ‘অপারেশন মেগাফোন’ নামের প্রকল্প চালু করেছিল ভুয়া অ্যাকাউন্ট কিনে নিতে। টুইটারের এমন আগ্রাসী নীতি তাদের পরিচালনাগত দর্শনের সঙ্গেও খাপ খায় না। তাছাড়া পূর্বে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছিল, তাদের নিয়মিত ব্যবহারকারীর মাত্র ৫ শতাংশ ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে।

অ্যাকাউন্ট বাতিলের এমন দৃঢ় পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ এবং সেই হস্তক্ষেপ প্রক্রিয়ায় টুইটারের মত সেবার ব্যহৃত হওয়ার দাবি। ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে রুশ ট্রোলরা ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টুইটারকে যথেচ্ছ ব্যবহার করেছে। এতে জনপ্রিয় মাধ্যমটির মার্কিন ব্যবহারকারীদের মধ্যে তারা ব্যাপক আকারে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে সমর্থ হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, এর প্রভাব পড়েছিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করতে মার্কিন সংসদ টুইটারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিল। গত অক্টোবরে পর টুইটার বাধ্য হয়েছিল এ সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত তাদের সামনে হাজির করতে। এরপর থেকে দ্বিগুণেরও বেশি হারে ভুয়া ও সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট বাতিল করতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।। সংগৃহীত তথ্য থেকে ওয়াশিংটন পোস্টে জানতে পেরেছে, এই প্রক্রিয়ায় ১ দিনে ১০ লাখ টুইটার অ্যাকাউন্ট বাতিল করার মতো উদাহরণও সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছে, এমন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে অ্যাকাউন্ট বাতিল করতে থাকায় বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে টুইটারে মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে যাওয়ার মতো বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। টুইটার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, টুইটারের সন্দেহজনক, ভুয়া ও বিতর্কিত অ্যাকাউন্ট বাতিল করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ব্যবস্থাপনাগত সিদ্ধান্তই নয়, বরং এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের পরিচালনাগত নীতি থেকেও দূরে সরে এলো। পূর্বে ব্যবহারকারীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে পুলিশিং করতে অনাগ্রহী ছিল টুইটার। প্রতিষ্ঠানটি এমন কি নিজেদের ‘বাক স্বাধীনতা দলের বাক স্বাধীনতা শাখা’ আখ্যা দিত।

ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিষয়ে টুইটারের ‘ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি’ বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেল হার্ভে এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছিলেন, ‘এখন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে বাকস্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার করে অন্যের বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার বিষয় দুটির মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা। বাকস্বাধীনতার খুব বেশি কোনও উপযোগিতা থাকে না যদি মানুষ অনিরাপদ বোধ করে।’

ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, এখন কোটি কোটি অ্যাকাউন্ট বাতিল করতে থাকলেও আগে প্রতিষ্ঠানটি বলেছিল, নিয়মিত ব্যবহার হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ ভুয়া বা স্প্যাম ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। আর মাত্র ৮.৫ শতাংশ অ্যাকাউন্টে অটোমেশন সফ্টওয়্যার ব্যবহার করা হয়, যে কারণে সেগুলো বট অ্যাকাউন্ট হিসেবে চিহ্নিত।

ওয়াশিংটন পোস্টকে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর আগে ভুয়া অ্যাকাউন্ট বাতিল করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে টুইটার নিজেই ভুয়া অ্যাকাউন্ট কেনার প্রকল্প হাতে নিয়েছিল, যাতে কিনে নেওয়া ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো থেকে তারা সম্পর্কিত অন্যান্য অ্যাকাউন্টের তথ্য মিলিয়ে দেখতে পারে। ওই প্রকল্পের নাম ছিল ‘অপারেশন মেগাফোন।’ বিভিন্ন দেশের সরকারের সমর্থনে যেসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট অন্য কোনও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মতামত প্রভাবিত করার অপচেষ্টা করে মূলত তাদেরকে থামানোই ছিল ‘অপারেশন মেগাফোনের’ উদ্দেশ্য।