১৯ ঘন্টার মধ্যে হত্যা মামলা রহস্য উদঘাটসসহ ৩ আসামি গ্রেফতার করেছে খুলনা জেলা পুলিশ

0
87

নিজস্ব প্রতিবেদক:
১৯ ঘন্টার মধ্যে হত্যা মামলা রহস্য উদঘাটসসহ হত্যাকান্ডে জড়িত তিন জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে খুলনা জেলা পুলিশ। বুধবার (৩০ আগস্ট) খুলনা জেলা পুলিশ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিং করে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান, পিপিএম-সেবা।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান প্রেস ব্রিফিং করে বলেন, খুলনার খালিশপুর থানাধীন হাউজিং বাজারস্থ জনৈক হাওরজের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও মোড়েলগঞ্জের বর্শিবাওয়া গ্রামের সেলিম হাওলাদারের ছেলে শাওন হাওলাদার ওরফে বাবু (২২) প্রতিদিনের ন্যয় চলতি মাসের ২৬ আগস্ট খালিশপুরের বাসা হতে ভাড়ায় চালানোর জন্য ইজিবাইক নিয়ে বের হয়। পরবর্তীতে রাত ৯টার পর হতে শাওনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় পরিবারের লোকজন খোজাখুজি শুরু করে।

পরদিন ২৭ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৪টায় শাওনের মৃতদেহ বটিয়াঘাটার ডেউয়াতলা গ্রামস্থ কাজীবাছা নদী তীরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসংবাদ পেয়ে বটিয়াঘাটা থানা ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। পরে শাওনের পিতা মৃতদেহটি শাওনের বলে সনাক্ত করে। এ ঘটনায় শাওনের পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রাত দেড়টায় বটিয়াঘাটা থানায় হত্যা মামলা নং-১৮, তারিখ-২৮/০৮/২০২৩ইং, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করেন। ঘটনাস্থ নৌ পুলিশের অধিক্ষেত্র হওয়ায় মামলার তদন্তভার নৌ পুলিশের উপর ন্যস্ত করা হয়।এদিকে মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে খুলনা জেলা পুলিশ ও নৌ পুলিশ সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালায়। এবিষয়ে শুরু থেকেই নৌ পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে জেলা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় ২৯ আগস্ট, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হত্যাকান্ডে জড়ি সন্দেহে জয় বাংলা মোড়স্থ নির্মাণাধীন নতুন জেলখানা এলাকা থেকে মোসলেম গাজী নামের একজনকে আটক করা হয়। তখন আসামির কাছ থেকে ভিকটিম শাওনের ব্যবহৃত মোবাইলটি উদ্ধার হয়। আটক আসামি দাকোপ থানার গুনারী গ্রামের মৃত: হোসেন গাজীর ছেলে।

এরপর আটক মোসলেমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে লবণচরা থানাধীন রূপসা ব্রীজের নিচ থেকে হত্যাকান্ডে জড়ির অপর আসামি, বান্দাবাজর এলাকার ইউসুফ আলী সরদারের ছেলে আনিছুর রহমানকে (৪২) আটক করা হয়। উভয় আসামির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন রাত সোয়া ১১টার দিকে খুলনা সদর থানাধীন নতুন বাজার এলাকা থেকে কয়রার মহেশ^রীপুর গ্রামের আমির সরদারের ছেলে আরেক আসামি মো: রুহুল আমিন সরদারকে (৪০) আটক করা হয়।

আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ২৬ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার সময় শিববাড়ি মোড় হতে দাকোপের পানখালি যাওয়ার কথা বলে ৬শ’ টাকায় শাওনের ইজিবাইকটি ৪ জনে রিজার্ভ হিসেবে ভাড়া করে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আসামিরা ডেউয়াতলা শ্মশানের নিকট পৌছে রাস্তায় ইজিবাইকটি রেখে নদীর পাড়ে যায়। কিছু সময় পর শাওন তাদের ডাকতে নদীর পাড়ে গেলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ইজিবাইকটি ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে এক আসামির প্যান্টের বেল্ট খুলে গলায় পেঁচিয়ে শ^াসরোধ করে তাকে হত্যা করে। তখন আসামিরা শাওনের মৃতদেহ নদীতে ফেলে ইজিবাইক, মোবাইল ও নগদ ২৬০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। লুন্ঠিত ইজিবাইক উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানায় পুলিশ।