হেপাটাইটিস-বি তে আক্রান্ত হচ্ছে খুলনার অধিকাংশ যুবকেরা

0
480

কামরুল হোসেন মনি : প্রাণঘাতি হেপাটাইসিস-‘বি’ ও ‘সি’ তে আক্রান্ত হচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের একটি বড় অংশ। খুলনায় এ রোগে আক্রান্ত তরুণ-যুবকের সংখ্যা কয়েক হাজার। সরাসরি রক্তের শিরায় মাদকদ্রব্য গ্রহণ, অনিরাপদ যৌন মিলন, দন্ত চিকিৎসায় একই যন্ত্রপাতি ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে হেপাটাইসিস-‘বি’ আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হেপাটাইটিস বি-ভাইরাসে আক্রান্তরা প্রায়শ সুচিকিৎসার অভাবে পরবর্তীতে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের রোগ প্রতিরোধে এন্টিভাইরাল ওষুধ কাজ করে না। ব্যয়বহুল চিকিৎসার মাধ্যমে সেসময় লিভার ট্রান্সট্রানজেকশন করতে হয়।
খুমেক হাসপাতালে রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের সূত্র মতে, ২০১৫ সাল থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৫৫ হাজার ৮৪ জনের রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। এর মধ্যে ৫০৯ জনের শরীরের মধ্যে প্রাণঘাতি বিভিন্ন রোগের পজিটিভ সনাক্ত করা হয়। যার মধ্যে হেপাটাইটিস-বি পজিটিভ সংখ্যা ৩৯৭ জনের মতো। হেপাটাইটিস-সি ও এইচআইভি পজিটিভ সংখ্যা পাওয়া গেছে ১৩ জনের শরীরে। এর মধ্যে ২০১৫ সালে ১৪২ জন, ২০১৬ সালে ১২৭ জন ও চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১২৮ জন হেপাটাইটিস-বি রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খুলনায় এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার। এদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ ও যুবক।
খুমেক হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ এস এম তুষার আলম বলেন, এ রোগে আক্রান্তদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী কর্মক্ষম যুবকের সংখ্যা বেশি। এছাড়া মধ্যবয়সী ও অল্প বয়সী নারীরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে অধিকাংশের স্বজনরা আগেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন (বাবা, ভাইয়ের বা মায়ের ক্ষেত্রে)।
জানা যায়, হেপাটাইটিস-‘বি’ সাধারণত লিভারকে আক্রান্ত করে। পরবর্তীতে এটা লিভার সিরোসিসে পরিণত হয়। চিকিৎসকরা জানান, এটি মূলত এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ। মূলত তিন কারণে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অনিরাপদ রক্ত পরিসাঞ্চালনের মাধ্যমে, অনিরাপদ যৌন মিলনের মাধ্যমে ও মায়ের যদি হেপাটাইটিস-বি থাকে তাহলে মায়ের গর্ভ থেকে বাচ্চার হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডাঃ শৈলান্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস আক্রান্ত থেকে বাঁচতে সচেতনতা জরুরি। সেক্ষেত্রে অনিরাপদ যৌন আচরণ থেকে দূরে থাকা, বিশেষ করে রক্তের শিরার মাধ্যমে মাদক গ্রহণ না করা ও ব্যবহৃত সিরিঞ্জ অন্য কেউ ব্যবহার না করা। তিনি বলেন, হেপাটাইটিস বি-ভাইরাস ‘ক্রনিক কেরিয়া’র হিসেবে থাকে যা পরবর্তীতে রোগী লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এ সময় কিছু এন্টিভাইরাল ওষুধ আছে যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কিন্তু কখনো প্রতিকার হয় না। একমাত্র উপায় রয়েছে লিভারটি ট্রান্সট্রানজেকশন করতে হবে। সেক্ষেত্রে এর চিকিৎসা খুব ব্যয় বহুল। তিনি বলেন, কোন পরিবারের মধ্যে এই রোগের পজিটিভ পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে ওই পরিবারের যারা আক্রান্ত হননি তাদেরকে দ্রুত হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের ভ্যাকসিন দিতে হবে।