হলুদের গুণে সেরে উঠলেন ক্যান্সার রোগী

0
461

অনলাইন ডেস্ক :
উত্তর লন্ডনের বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সী ডিনেকে ফার্গুসনের শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে ১০ বছর আগে। সনাক্ত হওয়ার ১৫ মাসের মধ্যেই ক্যান্সারের জীবাণু তার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

ক্যান্সারের চিকিৎসা হিসেবে ডিনেকে কেমোথেরাপি নেওয়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে তার সেল ট্রান্সপ্ল্যান্টও করেন চিকিৎসকরা। তারপরও কোনভাবেই সুস্থ হচ্ছিলেন না ডিনেকে।

২০১১ সালে ডিনেকে ইন্টারনেটে হলুদের নানা গুণের কথা জানেন। শুরু হয় তার অন্যরকম চিকিৎসা। আরও দুবার ষ্টিম সেল থেরাপি ব্যর্থ হওয়ার পর প্রতিদিন হলুদ দিয়ে তৈরি কারকিউমিন ট্যাবলেট খেতে শুরু করেন তিনি। এই ট্যাবলেটের প্রধান উপাদান হচ্ছে কাঁচা হলুদ; যা অনেক রোগের ঘরোয়া প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

প্রতি রাতে খালি পেটে আট গ্রাম করে কারকিউমিন খেতে শুরু করেন ডিনেকে। এর কয়েকমাস পর তিনি বিশুদ্ধ বাতাসে অক্সিজেন নেওয়ার জন্য ব্রিথ্রিং থেরাপি কোর্স করেন। সব ধরনের কেমোথেরাপি বাদ দিয়ে হলুদের তৈরি কারকিউমিন খাওয়া আর ব্রেথিং থেরাপি করেই তিনি ক্যান্সারের চিকিৎসা চালিয়ে যান। পাঁচ বছর পর পরীক্ষা করে দেখা যায় তার শরীরে ক্যান্সারের মাত্রা একেবারেই কমে গিয়ে তা সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। এ সময় তিনি শারীরিকভাবে বেশ সুস্থও ছিলেন।

বিট্রিশ মেডিকাল জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডিনেকের চিকিৎসকরা বলেছেন, আমাদের জানা মতে, প্রচলিত চিকিৎসার বাইরে কারকিউমিন ব্যবহার করে এই প্রথমবার এত ষ্পষ্ট ফলাফল পাওয়া গেল।

কারকিউমিন ট্যাবলেটটি কিনতে ডিনেকের ১০ দিনে মাত্র ৫০ পাউন্ড খরচ হতো। বিশেষজ্ঞরা এরই মধ্যে বিশ্বাস করেন, হলুদ আলঝাইমার, হৃদরোগ এবং হতাশা থেকে বাঁচতে দারুণ কাজ করে। তবে ক্যান্সার চিকিৎসায় এখনও হলুদ সেইভাবে কার্যকর কিনা তা গবেষণায় প্রমানিত নয়।

ডিনেকের চিকিৎসকরা জানান, কারকিউমিনের প্রভাবে বেশ কিছু টিউমারের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। তবে এটা মনে রাখতে হবে যে, সব রোগীর জন্য এটা একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। ডিনেকের ক্ষেত্রে এটা দারুণ কাজ করেছে। অন্য সব চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়ে কারকিউমিন শুরু করার ফলে এর প্রভাবটা একেবারে স্পষ্ট হয়ে দেখা দিয়েছে।

ডিনেকে আশা করেন, তার এই ঘটনা জানার পর আরও বেশি মানুষ হলুদের তৈরি কারকিউমিনের প্রতি আগ্রহী হবেন। তবে ক্যান্সারের প্রতিষেধক হিসেবে এখনই সবাইকে হলুদ ব্যবহারের পরামর্শ দিতে রাজি নন চিকিৎসকরা। সূত্র: সান, মেট্রো