হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় নিজেকে বাঁচাতে আদালতে জাল মেডিকেল সনদ প্রদান:তালার ইউপি সদস্যসহ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা

0
415

 রোকনুজ্জামান টিপু,শেখ নাদীর শাহ্::

ভূয়া মেডিকেল সনদে প্রতিতপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে অবশেষে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার এক ইউপি সদস্য নিমাই সানাসহ কয়েক জন প্রতারক নিজেরাই ফেঁসে গেছেন। হত্যা মামলা থেকে নিজেদের রক্ষা ও নীরিহ প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তারা খুমেক’র কতিপয় অসাধু ডাক্তার-কর্মচারী ও দালালদের যোগসাজশে হাসপাতালটির ভূয়া ও জাল সনদ প্রস্তুত করে কয়েক দফায় তারা প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে একাধিক হয়রানীমূলক মামলা করেন।

এঘটনায় ভূক্তভোগীরা জাল সনদের বিষয়টি বুঝতে পেরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার দীর্ঘ তদন্তে জালসনদের বিষয়টি প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত ইতোমধ্যে ইউপি সদস্য নিমাই সানাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন।

পারিবারিকসহ একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ দুপুর ১২ টার দিকে ইউপি নির্বাচনে খেশরা ইউপির ১নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য ও কুলপোতা গ্রামের মৃত করুনাময় সানার ছেলে নিমাই সানার নেতৃত্বে একদল দূর্বৃত্ত প্রতিপক্ষ’র সমর্থক মেশেরডাঙ্গা গ্রামের মৃত প্রফুল্ল ব্যানার্জীর ছেলে কার্ত্তিক ব্যানার্জীর বাড়িতে আকষ্মিক হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও মারপিট করে। এ সময় কার্ত্তিক বাড়িতে না থাকায় তারা তার স্ত্রী নমিতা ব্যনার্জীকে মাথায় শাবল দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়।

এঘটনায় পরের দিন ২৪ মার্চ কার্ত্তিকের ভাই আদিত্য বাদী হয়ে নিমাইকে প্রধান করে ২০ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জনকে আসামী করে তালা থানায় একটি মামলা করেন। যার নং-১২। উদ্ভুদ জিআর মামলা নং২৯/১৬। পরে মামলাটি বিচারের জন্য চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থানান্তর হয়,যার টিআর মামলা নং-৩০৮/১৮।

সর্বশেষ হামলার শিকার নমিতা ব্যানার্জীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মে সন্ধ্যায় মৃত্যু হলে মামলাসহ নানা আইনী জটিলতায় লাশের সৎকার করতে নাপেরে ৪ দিন পর ১৩ মে নিহতের ভাসুর ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী প্রভাষক আদিত্য ব্যানার্জী বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নমিতার মৃত্যুর বিষয়টি অবহিতপূর্বক তার লাশের সৎকারের জন্য আবেদন করলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক বিলাশ মন্ডল মামলাটির সত্য-মিথ্যা নির্ধারণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদিসহ ১১ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা শাখা(সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

এরপর ইউপি সদস্য নিমাই সানা ও তার সহযোগী কামনাশীষ, অম্বিক মন্ডল গং মামলা থেকে নিজেদের বাঁচাতে এবং পরিকল্পিত ভাবে প্রতিপক্ষদের ফাঁসিয়ে অবৈধ সুবিধা আদায়ের লক্ষে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গুরুতর অপরাধে সাব্যস্ত করা যায়,এমন একাধিক ভূয়া ও জাল মেডিকেল সনদ প্রস্তুত করেন।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে যে, এজন্য চক্রটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কতিপয় অসাধু ডাক্তার-কর্মচারীসহ হাসপাতাল কেন্দ্রিক প্রতারকচক্রের সদস্য রবিউল ইসলাম শিকদার, নারায়ন চন্দ্র মন্ডল, পরিমল সাহা ও মো: শামীমসহ একাধিক প্রতারক চক্রের সদস্যরা নিমাইসানা গংদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন।

এই স্পর্ষকাতর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দীর্ঘ অনুসন্ধানেও জাল মেডিকেল সনদের বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি সনদগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় ভুক্তভোগীদের পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী খুমেক হাসপাতালের সুপারকে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। এর জবাবে খুমেক হাসপাতালের সুপার ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল’ ১০২৫ নং স্মারকে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সনদগুলো সঠিক নয় বলে প্রত্যয়ন দেন।

এর পরি প্রেক্ষিতে চক্রান্তের শিকার মেশেরডাঙ্গা গ্রামের দেবনাথ সরকারের ছেলে স্বপন দেবনাথ বাদী হয়ে খুলনার বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ইউপি সদস্য নিমাই সানাসহ জালিয়াত চক্রের ১৬ জন সদস্যের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-সিআর ৪২৯/১৭।

মামলায় দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত ১৫ সেপ্টেম্বর’২০১৯ সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য নিমাই সানাসহ প্রতারনার সাথে জড়িত কামনাশীষ মন্ডল ও অম্বিক মন্ডলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।

প্রসঙ্গত, ইউপি সদস্য নিমাই সানাসহ প্রতারক চক্রের একাধিক সদস্য’র বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমাও দিয়েছেন।

এদিকে ইউপি সদস্য নিমাই সানার বিরুদ্ধে একটি মামলায় বিজ্ঞ আদালতে চার্জ গঠন হওয়ায় বিধি মোতাবেক তার ইউপি সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করার জন্য ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।