স্থলবন্দর ও কাষ্টমস কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতানৈক্য, বেনাপোল বন্দরে পন্য লোড-আনলোড অচলাবস্থায়

0
160

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাষ্টমসের মধ্যে পন্য রাখাকে কেন্দ্র করে মতানৈকের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বুধবার বেনাপোল বন্দরে পন্য লোড আনলোড সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। কাষ্টমসের সু নির্দিষ্ট নির্দেশনা বাস্তবায়নে পোর্ট কর্তৃপক্ষের অনিহার অভিযোগ করেছে বন্দর ব্যাবহারকারীরা। ফলে শ্রমিকের মধ্যে আমদানি রফতানি বানিজ্যে পন্য লোড আনলোডিং সহ বিভিন্ন কাজে অনুৎসাহিত সহ উত্তেজনা সৃষ্টি ও মদদের জন্য বন্দরের এক কর্মকর্তাকে দায়ী করছেন ব্যবসায়িরা।
কাষ্টমস সূত্র জানাযায়, বন্দরে স্বচ্ছতা ও গতি ফেরাতে দ্রুত পন্য খালাস, রেভিনিও বৃদ্ধিতে সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে মালামাল খালাস ও রক্ষনাবেক্ষনে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নির্দেশনা দেয় বেনাপোল কাষ্টম কর্তৃপক্ষ। বিষয়টির প্রতি অনেকটা দ্বিমত পোষন করেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল স্থলবন্দর উপ পরিচালক মামুন তরফদার জানান, কাষ্টমসের যে নির্দেশনা সেটা অনেকটা সমন্বয় হয়নি। বেনাপোল বন্দর ব্যাবহারকারী ১৮টি সংগঠনের মতামত না নেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ধু¤্রজাল। কারন শ্রমিকরা উত্তেজিত হলে সেটা বানিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে অনেকটাই বন্দরের সাথে কিছুটা গড়মিল দেখা দেবে। সবার মতামত নিয়েই নির্দেশনা বা সিন্ধান্ত বাস্তবায়নের পক্ষে মত দেন তিনি। বেনাপোল সিএন্ডএফ ষ্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, ভারতের শ্রমিকেরা বেনাপোল পেট্টাপোল বন্দর মালামাল খালাসে বিলম্ব ও হয়রানি সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনেছে। দিনের দিন পন্য খালাস করে ট্রাক ফেরত ও ড্রাইভারদের যাতায়াতে সুযোগ সৃষ্টি সহ বিভিন্ন কারনে আন্দোলন ও করে পেট্টাপোল জীবন বাচাও আন্দোলন কমিটি। দু দেশের কাষ্টমও বন্দর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও চান তারা। এসবের দিক বিবেচনা করেই কাষ্টম বেশ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ন নির্দেশনা দেয়। বেশী রাজস্ব সম্বলিত পন্য সামনে রাখা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাস করা-বড় কোম্পানীর মালামাল শেড ও ইয়ার্ডে নির্দিষ্টস্থানে ও সামনে রাখার ব্যাবস্থা সহ স্বচ্ছতা, জবাব দিহিতা, গতি ফেরাতে, হয়রানি বন্ধে সহযোগিতা কামনা করা হয়। কাষ্টমসের ক্ষমতাবলেই নিয়ম মাফিক নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ ভারত চেম্বার অব কমার্সের উপ কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, কাষ্টম সরকারের রেভিনিও বৃদ্ধি সহ আমদানি রফতানি বানিজ্যের সুবিধা-অসুবিধা, ব্যবস্থাপনা বন্দরের পন্য রক্ষনাবেক্ষনে বিভিন্ন বিষয়ে দেখভাল ও নির্দেশনা দিবে এটা বাস্তবায়নে আন্তরিক হবে বিভিন্ন এজেন্সি। বন্দর ব্যাবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনেরও উচিত কাষ্টমসের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা। বন্দর কর্তৃপক্ষ কাষ্টমসের সাথে ঐক্যমতের ভিত্তিকে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে এটার জন্য দ্বিমত থাকা সমচিত নয়। কারন পোর্ট ভাড়া নিয়েই আমদানি রফতানিকৃত পন্য রাখা হয়। সরকার, বানিজ্য ও বন্দর কাষ্টমসের স্বার্থে শ্রমিক ও ব্যাবসায়িদের কল্যানে কাজ করেন কাষ্টম ও বন্দর। এখানে বানিজ্য ব্যাহত হোক এটা ব্যাবসায়িদের কাম্য নয়। কাষ্টমসের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জোর দাবী জানান আমদানি রফতানির সাথে সংশ্লিষ্টরা।