স্ত্রী রুম্মানের গুরুত্বপুর্ণ তথ্য প্রদান : মৃত্যুকালীন জাহিদের জবানবন্দী হুবহু তুলে ধরা হলো

0
685

কামরুল হোসেন মনি:
শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে পুরো শরীরে আগুনে ঝলসে যাওয়া জাহিদ হোসেন ঢাকায় বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত ৮টায় মারা গেছেন। এর আগে শনিবার রাতে তাকে উন্নতি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরনের আগে খুমেক হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে পুলিশের কাছে মৃত্যুকালীন জবানবন্দী প্রদান করেন। ওই জবানবন্দী এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। পাঠকের জন্য তার জবানবন্দী হুবহু তুলে ধরা হলো।
এদিকে পুলিশের হেফাজতে খুমেক হাসপাতালে প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন থাকা জাহিদের স্ত্রী উম্মে রুম্মান গুরুত্বপুর্ন তথ্য প্রদান করেছেন। ছোট ভাইয়ের মৃতু্যুর সংবাদ শুনে বড় ভাই সবুজ কাতার থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। জাহিদের লাশ নিয়ে ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে মৃতের আত্মীয় স্বজন রওনা দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বড় ভাইয়ের উপস্থিতিতে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।
ফরেনসিক মেডিসিন এর টেক্স বুকে লেখক রেডডি তার বইতে উল্লেখ করেন, মৃত্যুকালীন অবস্থায় বা মৃত্যু পথযাত্রী মৃত্যকালীন জবানবন্দীতে কখনো মিথ্যা বলেন না।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, জাহিদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন। তার পরিবার লাশ নিয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দিছেন। এ ঘটনায় পরিবার থেকে মামলা দিলে তা গ্রহন করা হবে। জাহিদের স্ত্রী উম্মে রুম্মান তার স্বামী মৃত্যুর বিষয় গুরুত্বপুর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। তথ্যটি যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কনিবার মৃত জাহিদের মৃত্যুকালীন জবানবন্দী পাঠকের স্বার্থে হুবহু তুলে ধরা হলো। জবান্দীকালীন সে তার পুরো শরীর ঝলসে যাওয়ার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। জীবন-মৃত্যু সন্ধিক্ষনে সময় তার জবানবন্দী প্রদানের সময় কথাগুলো বলতে খুব কষ্টো হচ্ছিল।
প্রশ্ন : ‘জাহিদ কি হয়েছিল, জাহিদ কি হয়েছিল বলো, জাহিদ কি হয়েছিল বলো?
জাহিদ ঃ ওই বাসায়। বাসায়। (শ্বশুর বাড়ি)
প্রশ্ন ঃ তারপর
জাহিদ : বাসায় যেয়ে ওই জ্যাকেট। জ্যাকেট নিয়ে গেছি, একটি কোর্ট দিছেলি ওরা।
প্রশ্ন ঃ কোর্টটি ফেরত দিতে গেছিলেন
জাহিদ : হ্যা
প্রশ্ন ঃ তারপরে
জাহিদ: তারপরে ওরে অনুরোধ করলাম (স্ত্র্রীকে আসার জন্য অনুরোধ করে)। আর হবে না। সব আশা পুরন করবো। তারপরে ও আসে নাই।
প্রশ্ন : তখন
জাহিদ : তার পরে, পড়ে গেলাম। তারপরে পাশে কি আগুন ধরিয়ে দিছে।
প্রশ্ন ঃ আগুন কি ওরা ধরায় দিছে?
জাহিদ ঃ কে দিছে তা বলতে পারি না
প্রশ্ন ঃ তুমি কি নিজে নিজের গায়ে আগুন ধরাইছো?
জাহিদ ঃ আমি ধরায়নি।
প্রশ্ন ঃ তুমি নিজে আগুন ধরাও নাই
জাহিদ ঃ না
প্রশ্ন ঃ তাহলে আগুন কে ধরাইছে
জাহিদ ঃ আগুন কে ধরাইছে, পরে আমি তা দেখতে পাইনি।
প্রশ্ন ঃ আগুন কি পেট্রোল মেরে ধরায় দিছে, না এমনি ধরায় দিছে, না এমনি ধরে গেছে
জাহিদ ঃ বলতে পারি না
প্রশ্ন : তুমি কি নিজে নিজের গায়ে আগুন ধরাইছিলা । তিন-চার বার প্রশ্ন।
জাহিদ : না। না । না।
প্রশ্ন : তাহলে আগুন তোমারে ধরায় দিছে? কিভাবে ধরলো
জাহিদ : পরে আমি রাগ হয়ে চলে আসতে চাইছি, ফিককা মারছে, কি যেন ফিককা বোতল মত আইলো
প্রশ্ন ঃ তোমার গায়ে ফিককা মারছে বোতল
জাহিদ : ফিককা মারলো, তার পরে একটা আগুন.. কি ভাবে কি ভাবে আগুন ধরে গেলো সে সময় ওতো খেয়াল করতে পারেনি। মাথায় বারি খেয়ে.. এর পরে আমি আর কিছু জানি না। পরে আমি চিল্লান শুরু করছি।
এৃত জাহিদের বোন জামাই এ কে আবেদীন ওরফে সাজন সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় এ প্রতিবেদককে বলেন, জাহিদের লাশ নিয়ে এখন খুলনার পথে। ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে বড় ভাই সবুজ কাতার থেকে বাংলাদেশ উদ্দেশ্যে রওনা দিছেন। মঙ্গলবার ভোরে সে খুলনায় এসে পৌছাবে। সে আসার পরই জোহর বাদ জাহিদের লাশ দাফন করা হবে। মামলার সংক্রান্ত বিষয় তার বড় ভাই সবুজ ও অভিভাবকরা সিদ্ধান্ত নেবেন। ##