সুপার কাপ জিতে মৌসুম শুরু করলো চেলসি

0
52

টাইমস ডেস্ক স্পোর্টস: সুপার কাপ জয় দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু করলো চেলসি। স্প্যানিশ গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগা বদলী হিসেবে খেলতে নেমে চেলসিকে মৌসুমের প্রথম শিরোপা উপহার দিয়েছেন। গতকাল বেলফাস্টের উইন্সডোর পার্কে ভিয়ারিয়ালকে টাই ব্রেকারে ৬-৫ গোলে পরাজিত করে উয়েফা সুপার কাপের শিরোপা জিতেছে চেলসি। নির্ধারিত সময়ের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র ছিল। ২০১৮ সালে একজন গোলরক্ষক হিসেবে বিশ্ব রেকর্ড ফি’তে স্ট্যামফোর্ডে ব্রীজে যোগ দেবার পর থেকেই মূল একাদশে জায়গা হারিয়ে ফেলেছিলেন কেপা। কাল অবশ্য কোচ থমাস টাচেলকে হতাশ করেননি ২৬ বছর বয়সী এই স্প্যানিয়ার্ড। অতিরিক্ত সময়ে এডুয়ার্ড মেন্ডির স্থানে খেলতে নেমেই চেলসির ভাগ্য বদলে দিয়েছেন। দুই বছর আগে লিগ কাপের ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে সাবেক কোচ মরিজিও সারির অধীনে বদলী বেঞ্চে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কেপা আলোচনায় এসেছিলেন।
কিন্তু এবার কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়ে একে একে এইসা মান্ডি ও রাওল আলবিওলের শট রুখে দিয়ে চেলসিকে শিরোপা উপহার দিয়েছেন। টাচেল বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি স্বাভাবিক ছিল। বার্নলির বিপক্ষে গত মৌসুমে এফ এ কাপের প্রথম ম্যাচের পরেই আমরা গোলরক্ষক নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। পেনাল্টি রক্ষার দিক থেকে কেপার পরিসংখ্যান অন্য সবার থেকে ভাল। গোলরক্ষক কোচ আমাকে এই তথ্যগুলো দিয়েছে। আমরা খেলোয়াড়দের সাথেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। মেন্ডি বিষয়টি মেনে নেয়ায় আমি দারুন খুশী।’
গত মে মাসে পোর্তোর ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটিকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছেন চেলসি। টাচেলের পাঁচ মাসের মেয়াদে কাল তারা দ্বিতীয় শিরোপা পেল। প্রাক-মৌসুম অনুশীলনেও টাচেলের অধীনে ৪২ সদস্যের দল দারুনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করে তুলেছেন। তারকা সমৃদ্ধ এই দলে এখন ইন্টার মিলান থেকে রোমেলু লুকাকুর আসা সময়ের ব্যপার। ৯৭ মিলিয়ন ক্লাব রেকর্ড পাউন্ডে চেলসিতে যোগ দিতে ইতোমধ্যেই লন্ডনে পৌঁছেছেন এই বেলজিয়ান তারকা।
কাল ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের দারুনভাবে প্রমান করেছেন বøুজরা। ইউরো ২০২০ ফাইনালে খেলা ম্যাসন মাউন্ট, বেন চিলওয়েল, রেসে জেমস ও জর্জিনিও প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে দেরীতে যোগ দেয়ায় মূল দলে জায়গা পাননি। কিন্তু তারপরেও প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় চেলসি। হাকিম জিয়েচ তার প্রাক-মৌসুম ফর্ম ধরে রেখে ২৭ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন। ডানদিক থেকে কেই হাভার্টজের লো ক্রসে জিয়েচ কোন ভুল করেননি। যদিও কাঁধের ইনজুরির কারনে বিরতির ঠিক আগে এই মরোক্কান বদলী বেঞ্চে যেতে বাধ্য হন।
রোমান আব্রামোভিচ দায়িত্ব নেবার পর বদলে যাওয়া চেলসির জন্য গত ২০ বছরে এটি ২০তম শিরোপা হলেও ভিয়ারিয়াল মে মাসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ইউরোপা লিগের ফাইনালে পরাজিত করে প্রথম বড় কোন শিরোপার দেখা পেয়েছিল। উনাই এমেরির দল এক গোলে পিছিয়ে থেকে ধীরে ধীরে খোলসের থেকে বেরিয়ে আসে। বিরতির আগেই সমতায় না ফেরাটা তাদের জন্য দূর্ভাগ্য ছিল। এমেরি বলেছেন, ‘ভিয়ারিয়ালের বর্তমান দলটি নিয়ে আমি দারুন গর্বিত। আমরা জানি কিভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে হয়।‘
দুই অর্ধে আলবার্তো মোরেনো ও জেরার্ড মোরেনোর দুটি শট পোস্টে লেগে ফেরত আসলে হতাশ হতে হয় ভিয়ারিয়ালকে। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য চেলসির ওপর চড়াও হয়ে খেলা শুরু করে স্প্যানিশ দলটি। টাচেলও বাধ্য হয়ে মাউন্ট, জর্জিনহো ও আন্দ্রেস ক্রিস্টেনসেনকে মাঠে নামান। কিন্তু তারপরও শেষরক্ষা হয়নি। ৭৩ মিনিটে ডিয়ার সাথে বল আদান প্রদান করে মেন্ডিকে পরাস্ত করেন মোরেনো।
লিগ শুরুর আগে কোন ম্যানেজারই চাননি অতিরিক্ত আরো ৩০ মিনিট খেলতে। অতিরিক্ত সময়ে অবশ্য অপেক্ষাকৃত ভাল খেলেছে চেলসি। ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ ও মাউন্টের দুটি প্রচেষ্টা দারুনভাবে রুখে দেন ভিয়ারিয়াল গোলরক্ষক সার্জিও আসেনহো।
হাভার্টজের শট রুখে দিয়ে আসেনহো টাই ব্রেকারে ভিয়ারিয়ালকে স্বপ্নের শুরু এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী ছয় শটে চেলসিকে আর থামানো যায়নি।