সুন্দরবন থেকে পাচার কালে দেড় মণ হরিণের মাংশ ও ডিংগি নৌকা সহ দুই আটক

0
717

শেখ মোহাম্মদ আলী, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : শরণখোলা থানা পুলিশ ও মোংলা কোষ্টগার্ড পৃথক অভিযানে  সুন্দরবন থেকে শিকার করে আনা প্রায় দেড় মণ হরিণের মাংস ও একটি ডিংগি নৌকা সহ  দু’ ব্যাক্তিকে আটক করেছে । এ সময় অন্য শিকারী চক্র পালিয়ে যায়। শনিবার ভোর রাতে এ আটকের ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন, শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ তাফালবাড়ী গ্রামের মো, জাফর তালুকদার (৫০) এবং  রায়েন্দা তাফালবাড়ী গ্রামের শামসুল ইসলাম রিপন (৪৫)। তাদের কাছ থেকে বস্তায় ভর্তি ১০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা
হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়,  জাফর ও রিপন সুন্দরবন সংলগ্ন বকুলতলা গ্রাম থেকে একটি বস্তায় করে হরিনের মাংশ নিয়ে মোটর সাইকেলে করে তাফালবাড়ি বাজারের দিকে আসার গোপন সংবাদ পেয়ে থানার এসআই আবুল বাশারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় মোটর সাইকেলযোগে তিন ব্যক্তি দ্রæত যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের চ্যালেঞ্জ করা হয়। এ সময় ছগির বয়াতি নামের মোটর সাইকেল চালক পালিয়ে গেলেও জাফর ও রিপনকে পুলিশ ধরে ফেলে। তাদের কাছ থেকে বস্তা ভর্তি ওই ১০ কেজি মাংস উদ্ধার করা হয়।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবিরুল ইসলাম জানান , হরিণের মাংস পাচারে অভিযোগে তিন জনের নামে শরণখোলা থানায় বন্যপ্রানী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করে আসামীদের বাগেরহাট আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। মামলা নং ১৭তারিখ ৩০/১২/২০১৭ জব্দকৃত মাংস আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে সুন্দরবনে নাইলনের দড়ির ফাঁদ ও বিষটোপ দিয়ে হরিণ শিকার করে তার মাংস দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে আসছে। এই মাংস ৮০০ থেকে ১০০০ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে।

এ দিকে বাংলাদেশ কোষ্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শনিবার ভোর রাতে  কোষ্টগার্ড  সদস্যরা সুন্দরবনের চাদঁপাই রেঞ্জের মিরগামারি খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০ কেজি হরিণের মাংস সহ একটি ডিংগি নৌকা আটক করেছে। এ সময় কোষ্টগার্ডের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে চোরা শিকারীরা গহীন বনে পালিয়ে যায়। আটক নৌকা থেকে কর্তন নিষিদ্ধ ১৬ সিএফটি সুন্দরী লগ কাঠ সহ বিভিন্ন কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে।