সুন্দরবনে বিষ দিয়ে ধরা মাছ যাচ্ছে শহরের আড়তে

0
740

আজিজুর রহমান,খুলনাটাইমস :
সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও নদ-নদীতে বিষ প্রয়োগ করে অবাধে মাছ শিকার করা হচ্ছে। বিষ প্রয়োগে ধরা এসব মাছ যাচ্ছে শহরের বিভিন্ন আড়তে। এতে মৃত্যু ঝুঁকির আশংকা বাড়ছে।

 

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা বেড়েছে। কীটনাশক প্রয়োগে ধ্বংস হচ্ছে বনের বনজ সম্পদ। বিষঃক্রিয়ায় মৃত এসব মাছ খেয়ে হতে পারে জীবনঘাতি রোগ।
অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের একশ্রেনির কর্মকর্তা উৎকোচ নিয়ে মৎস্যদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। যদিও গ্রেপ্তার করে মামলা দায়ের হলেও উপযুক্ত সাঁজা দেওয়া হচ্ছে না তাদের। চলতি মাসে অভিযান চালিয়ে বিষের বোতল ও বিষ দিয়ে ধরা মাছসহ ১৫ জন জেলেদের আটক করে কোস্টগার্ড। জব্দ করা হয়েছে বিষ মিশ্রিত মাছ, জাল ও নৌকা।

বন বিভাগ ও সাধারণ জেলেদের একাধিক সুত্রে জানা গেছে, চলতি ইলিশ-ধরা মৌসুমে কেউ বন বিভাগ থেকে পাস নিয়ে আবার কেউ পাস না নিয়েই মাছ ধরতে বনের বিভিন্ন নদী ও খালে ঢোকে। অল্প পরিশ্রমে অধিক মুনাফা লাভের আশায় তারা বিভিন্ন কীটনাশক সঙ্গে নিয়ে যান। জোয়ার আসার কিছু সময়ের আগে ওই কীটনাশক চিঁড়া, ভাত বা অন্য কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে নদ-নদী ও খালের পানিতে ছিটিয়ে দেয়। এতে একপর্যায়ে ওই এলাকায় থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে ওঠে। পরে এই মাছ সরাসরি চলে যাচ্ছে, চালনা, মংলা, রূপসা, খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন মোকামের আড়তে। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব অন্যদিকে বিষ প্রয়োগে শিকার করা মাছ খেয়ে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণি স্বাস্থ্যগতভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখে পড়ছে।

বিষ দিয়ে মৎস্য শিকারের বিষয় স্বীকার করে নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশনের বন কর্মকর্তা মো. মকরুল ইসলাম খুলনাটাইমসকে  বলেন, এর বিরুদ্ধে আমাদের একটি বিশেষ টিম প্রতিনিয়ত অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন চুরি করে কিছু অসাধু জেলেরা এ কাজ করছে। এর ফলে জলজ প্রাণি কাঁকড়াও মরে নষ্ট হয়ে যায়।