সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধে বাহিনী প্রধান আমিনুলসহ ৪ বনদস্যু নিহত, পরিবারের দাবি নিহতদের সাদা পোশাকে আটক করা হয়েছে আগে

0
311

কয়রা প্রতিনিধি ও স্টাফ রিপোর্ট:
সুন্দরবনে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আমিনুল বাহিনীর প্রধানসহ ৪ জন বনদস্যু নিহত হয়েছে। গত মঙ্গল বার সকাল সাড়ে ৫ টার দিকে সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের শিবসা নদীর খালে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে । এ সময় র‌্যাব ৬ এর দুই জন সদস্য আহত হয়েছেন । বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা হলেন আমিনুল বাহিনীর প্রধান শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার ছেলে আমিনুল (৩৩),তার সেকেন্ড ইন কমান্ড কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের তেতুলতলা গ্রামের রহমান সরদারের ছেলে রফিকুল ইসলাম(৩৫), বনদস্যু বাহিনীর সদস্য বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার জয়প্রয়া গ্রামের মনোরঞ্জন সাহার ছেলে মনীষ সাহা (৩৫) ও সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার দিগলার আইট গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে আক্তারুল ইসলাম(৩৫)।
র‌্যাব-৬ এর ভারপ্রাপ্ত স্পেশাল কোম্পানী কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা খবর পায় বনদস্যু আমিনুল বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের শিবসা নদীর কয়রা খাল নামক স্থানে কয়েকটি নৌকায় অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে অবস্থান করছে । ভোরে র‌্যাবের একটি টিম সেখানে অভিযানে যায় । র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা সুন্দরবনের মধ্যে ঢুকে সশস্ত্র অবস্থান নেয়। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে তারা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ করে গুলি ছুড়তে থাকে ।একপর্যায়ে র্যাবও পাল্টা গুলি চালায় । এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ বনদস্যু আহত হয় । এবং র‌্যাবের দুই জন সদস্য আহত হয় । ঘটনাস্থল থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে । তাদেরকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষনা করেন । কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রবিউল হোসেন জানান , সুরোত হাল রিপোটের পর নিহত ব্যাক্তিদের লাস ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।
তবে খুলনা মেডিকেল কলেজে নিহত মনিষ সাহা এর পরিবার দাবি করে যে মনিষ সাহাকে গত ০২ অক্টোবর খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের বাড়োপূর্ণের মোড় এলাকার ভাড়া বাসা থেকে প্রশাসন পরিচয়ে তুলে নেয় সাদা পোশেকের কিছু লোক। এ বিষয়ে খুলনার রূপসা থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক এবং র‌্যাব-৬ এর পরিচালক বরাবর। মনিষের নিখোঁজের সংবাদও প্রচার হয়েছে গতকালকে খুলনার স্থানীয় পত্রিকায়। একই অভিযোগ রফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদেরও একই দাবি।