সুন্দরবনে খুলনা জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক-৪

0
363

কয়রা প্রতিনিধি:
সুন্দরবনের বনজ সম্পদ রক্ষা ও দস্যু দমনে পশ্চিম সুন্দর বনের খুলনা রেঞ্জে বিশেষ অভিযান করেছে খুলনা জেলা পুলিশ। সুন্দরবন কেন্দ্রীক অপরাধকে ঘিরে কঠোর অবস্থানে থেকে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদ এর নির্দেশনায় খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ (বিপিএম) এর নেতৃত্বে কয়রা উপজেলার কাটকাটা এলাকা থেকে এ অভিযান শুরু করা হয়। খুলনা জেলা পুলিশ ও কয়রা থানা পুলিশের ৫০ সদস্যের একটি দল তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে। যা কয়রার কাটকাটা থেকে শুরু করে গহীন সুন্দরবনের গেওয়া খালি, চাম্টা, জাবা, বেটলু, সোনা মুখ, শলক মনিসহ গহীন সুন্দরবনে রাত ১০ টা পর্যন্ত টহল পরিচালনা করেন। অভিযান কালে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা জেলা (দক্ষিণ) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) ওয়াসিম ফিরোজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) হুমায়ুন করিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) এতে শামুল হক, খুলনা জেলা (ডিবি) ওসি শেখ কনি মিয়া, কয়রা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ রবিউল হোসেন, এস আই রাজিউল আমিন, এস আই আসাদুল ইসলাম, এস আই ইব্রাহিম, এস আই মিন্টু, এস আই বাবুন চন্দ্র, এস আই শারাফাত, সহ ৫০ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অভিযান শেষে কয়রা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ রবিউল হোসেন বলেন, সুন্দরবনকে আমরা স্থানীয়দের ও দেশবাসীর কল্যাণে নিরাপদ রাখতে কাজ করছি। এই বনকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক কর্মকা- বৃদ্ধি পাক, তবে অপরাধ যেন কমে আসে সে জন্য কাজ চলছে। এর জন্য শুধু সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগকারীদের বিরুদ্ধে নয়, যারা দস্যুতা করে, বাঘ-হরিণ শিকার করে তাদের প্রতি আমাদের কঠিন নিষ্ঠুরতা থাকবে। তাদের সবার প্রতি আমাদের একটাই কথা, তারা যেন ভালোর পথে ফিরে আসে, নয়তো তাদের ফল ভোগ করতে হবে। অভিযানে হাতে নাতে ৪ জন কে বিষ দিয়ে মাছ ধরা কালে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ব্যবহার নিষিদ্ধ ৬০ হাত লম্বা ভেশালী জাল, বিষসহ ৫ টি বিষের বোতল ও কয়েকটি হরিণ মারা ফাঁদ উদ্ধার হয়েছে বলে জনান তিনি। খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ বলেন, এক শ্রেণির হরিণ শিকারিরা অসাধু কিছু স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় জেলে বেশে বনের গহীনে প্রবেশ করে। বনের মধ্যে অস্ত্র বা ফাঁদ পেতে শিকার করছে হরিণ যা লোকালয়ে এনে বেশি মূল্যে বিক্রি করছে তারা। তাছাড়া জেলের বেশে বনে প্রবেশ করে নদী ও খালে গিয়ে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছে। তিনি আরো বলেন, সুন্দরবনের খালের মধ্যে বিষ প্রয়োগ করলে শুধু মাছ নয়, এ খালে যা কিছু থাকে সব কিছুই মরে যায়। আর এ বিষযুক্ত মরা মাছ অন্য পশু-পাখি খেলে সেগুলোও মারা যায়। যার ফলে বনের পরিবেশ নষ্টসহ ক্ষতি হয় অপূরণীয়। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনসহ মানবসৃষ্ট নানা কারণে সুন্দরবনের প্রাণীকুল সংকটের মধ্যে রয়েছে। তিনি জানান, এ বনে নানা প্রজাতির পশু-পাখি ছাড়াও রয়েছে মৎস্য সম্পদের ভা-ার। প্রাকৃতিক পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় সুন্দরবনের ভূমিকা অপরিসীম। তাই এ বনের বিপুল পরিমাণ গাছপালা ও পশুপাখি রক্ষার জন্য বিশেষ করে সরকারের নির্দেশনা মতে, চলতি দুই মাস মৎস্য সম্পদের পাশাপাশি নানা অপরাধমূলক কর্মকা-সহ বনের দস্যুদমন ও বনজ সম্পদ রক্ষায়ও কঠোর অবস্থানে থেকে কাজ করছে খুলনা জেলা পুলিশ। এ অভিযান অব্যাহত থাকার ঘোষণা দেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলা পুলিশ সাম্প্রতিক বছর গুলোতে সুন্দরবনে অভিযান পরিচালনা করে ১৪২ জন বন দস্যু গ্রেফতার, ৬৮ টি অস্ত্র, ৫ টিকে ম্যাগাজিন, ১ হাজর ৩৫৩টি গুলি, হরিণের মাংস ৬৩ কেজি, বিভিন্ন প্রকারের কাঠ ১৯৬ পিস, হরিণের চামড়া একটি, ডিঙ্গি নৌকা ১০ টি, মাছ ধরার জাল ১ হাজর ২৫০ ফুট, কীটনাশক ৮ বোতল উদ্ধারসহ বিভিন্ন আইনে মোট ৬৫টি মামলা রুজু হয়।