সুচির পদত্যাগ দাবি নোবেল জয়ী তিন নারীর

0
359

টাইমস ডেস্ক : রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার জন্য মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সুচির পদত্যাগ চেয়েছেন শান্তিতে নোবেল জয়ী তিন নারী। মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির পরিদর্শন শেষে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের ভয়াবহতা কাছ থেকে জানতে টানা তিনদিন কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয় শিবির ঘুরেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী তিন নারী। ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কারমান, ইরানের শিরিন এবাদি ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মরিয়েড মুগুয়ারের কাছে এ সময় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতা তুলে ধরেন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা।

সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে বুধবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন তিন নোবেলজয়ী। রাখাইনে ব্যাপক গণহত্যা-ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়ার তথ্য তুলে ধরেন তারা। এসব ঘটনায় মিয়ানমার সরকারকে দায়ী করে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবিও জানিয়েছেন তিন শান্তিদূত।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের নোবেল জয়ী মরিয়েড মুগুয়ার বলেন, “আমরা যেসব গল্প শুনেছি তার জন্য তৈরি ছিলাম না। নারী ও শিশুর সাথে যে বর্বরতা হয়েছে তা বর্ণনার ভাষা আমার জানা নেই। দয়া করে রোহিঙ্গাদের পাশে আপনারা থাকুন। আমি মনে করি মানবিক দায় থেকে হলেও ভারত ও চীনের উচিত মিয়ানমারকে নিষ্ঠুরতা বন্ধে চাপ দেয়া”।

ইরানের নোবেল জয়ী শিরিন এবাদি বলেন, “বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয়দের ধন্যবাদ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ইরান, সৌদি আরব বা কাতারের মতো মুসলিম বিশ্ব রোহিঙ্গা মুসলমানদের পাশে দাড়ায়নি। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে মিয়ানমার সেনাদের বিচার হওয়া উচিত”।

ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কারমান জানান, সুচির সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তারা সাড়া পাননি। মিয়ানমারের নেত্রীর কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই মানবিক বিপর্যয়ের সময় সুচিরই দায়িত্ব ছিল ক্ষতিগ্রস্তদে পাশে দাঁড়ানো।
ইয়েমেনের নোবেল জয়ী তাওয়াক্কুল কারমান বলেন, “আমারা একশ নারীর সাথে কথা বলেছি, তারা সবাই ধর্ষিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। যেসব শিশুকে পেয়েছি তাদের বেশিরভাগের বাবা-মাকে হত্যা করা হয়েছে। সুচি বিশ্বকে সত্যি বলেননি। তার উচিত ছিল এই অপরাধ থামানো, কিন্তু তিনি তা করেননি। শান্তিতে নোবেল জয় করেও তিনি কীভাবে চুপ করে থাকলেন? ন্যায়বিচার দিতে না পারায় তার পদত্যাগ করা উচিত”।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে গণভবনে দেখা করেন শান্তির তিন দূত। বেসরকারি সংস্থা নারীপক্ষের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসা তিন নোবেলজয়ী এরপর মিয়ানমারে যেতেও আগ্রহী।