সুইসদের জয়ে জমে উঠলো ই গ্রুপের লড়াই

0
313

স্পোর্টস ডেস্ক:
জারদান শাকিরি ও গ্রানিত জাকার অসাধারণ পারফরম্যান্সে সার্বিয়াকে হারিয়ে ই গ্রুপের লড়াই জমিয়ে দিলো সুইজারল্যান্ড। এ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে সুইসরা। অন্যদিকে একই পয়েন্ট নিয়ে গোল গড়ে এগিয়ে থেকে শীর্ষে অবস্থান পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

এই গ্রুপ থেকে ইতোমধ্যে কোস্টারিকা বিদায় নিয়েছে। শেষ ম্যাচটি তাদের জন্য শুধু শো অফ ম্যাচ। কিন্তু সুইসদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সুইসরা আগামী ২৭ জুন তাদের শেষ ম্যাচ খেলবে কোস্টারিকার বিপক্ষে। ওই ম্যাচে জয় পেলে তারা কোয়ালিফাই করবে নক আউটে। সুযোগ আছে সার্বিয়ারও। তারা যদি ব্রাজিলের সঙ্গে জয়লাভ করে তাহলে দ্বিতীয় দল হিসেবে কোয়ালিফাই করবে নক আউটে। সেক্ষেত্রে বাদ পড়ে যাবে ব্রাজিল। আর ব্রাজিল-সার্বিয়া ম্যাচ যদি ড্র হয় এবং কোস্টারিকা-সুইজারল্যান্ডের ম্যাচও ড্র হয় সেক্ষেত্রে ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও সুইজারল্যান্ড দ্বিতীয় দল হিসেবে নক আউটে কোয়ালিফাই করবে।

আর যদি কোস্টারিকা সুইজারল্যান্ডকে হারায় এবং ওদিক থেকে ব্রাজিলের বিপক্ষে সার্বিয়া জয় পায় তাহলে সার্বিয়া সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে। আর ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে যারা গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে। অর্থাৎ, ২৭ জুনই নির্ধারিত হবে এই গ্রুপ থেকে কোন দুইটি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে।

শুক্রবার রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদে সার্বিয়ার মুখোমুখি হয় সুইসরা। শেষটা যদি সুইসদের হয় তাহলে অবশ্যই বলতে হবে শুরুটা ছিল সার্বিয়ার। খেলার পঞ্চম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে সুইসরা। ডান পাশ থেকে টেডিচের বাড়ানো ক্রসে হেড দিয়ে দুর্দান্ত এক গোল করেন গত মৌসুমে লোনে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডে খেলা মিত্রোভিচ।

এবারের আসরে এনিয়ে ২৬ ম্যাচের প্রতিটিতে অন্তত একটি গোল হল। স্পর্শ করল ১৯৫৪ আসরের সর্বোচ্চ টানা ২৬ ম্যাচে গোলের রেকর্ড। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করে সার্বিয়া। কিন্তু সুইসদের প্রতি আক্রমণে সেটা আর পেরে ওঠেনি।

১০ মিনিটে রড্রিগেজের বাড়ানো বলে জেমাইলির শট একটুর জন্য গোলবারের বাইরে চলে যায়। ১৬ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দূরপাল্লার শট নেন সার্বিয়ার মিলানকোভিচ স্যাভিচ। কিন্তু সেটি ছিল একদমই লক্ষ্যভ্রষ্ট। ম্যাচে পুরোটা সময় আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকলেও তেমন গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি সুইসরা।

৩১তম মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ আসে সুইজারল্যান্ডের সামনে। ব্লেরিম জেমাইলি ডি বক্সে খুঁজে পান ফাঁকায় দাড়ানো হারিস সেফেরোভিচকে। তবে দারুণ দক্ষতায় সেবার দলকে বাঁচান সার্বিয়ার গোলরক্ষক ভ্লাদিমির স্তয়কোভিচ। ম্যাচের ৪২ মিনিটে সার্বিয়ার ম্যাটিচ দূরপাল্লার শটে গোল ব্যবধান বাড়াতে চেয়েও ব্যর্থ হন। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সুইসরা।

দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সুইসদের একচেটিয়া আক্রমণে কোনঠাসা হয়ে পড়ে সার্বিয়া। ম্যাচের ৫২তম মিনিটে পুরো সার্বিয়ান সমর্থকদের উল্লাস থামিয়ে দেন আর্সেনাল তারকা গ্রানিত জাকা। গোলপোস্টের ২৫ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের বুলেট গতির শট সরাসরি ঢুকে যায় সার্বিয়ার জালে। গোলরক্ষক ডানে ঝাপিয়ে পড়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। তবে এদিন পুরো মাঠ জুড়ে খেলে প্রতিটি আক্রমণের নেতৃত্ব দেন জারদান শাকিরি। শাকিরির একক নৈপুণ্যে একের পর এক আক্রমণে যায় সুইসরা।

তার ফল হিসেবে ৫৮তম মিনিটে গোলও পেতে পারতো তারা। কিন্তু ডান পাশ থেকে শাকিরির বা-পায়ের আচমকা শট গোলবারে লেগে প্রতিহত হলে হতাশ হতে হয় তাকে। প্রথমার্ধে যেখানে সার্বিয়ানরা বল দখলে রেখেছিল ৬৯ ভাগ সেখানে দ্বিতীয়ার্ধে তারা বল দখলে রাখতে পেরেছিল মাত্র ৩১ ভাগ। এতেই বুঝা যায় সুইসরা দ্বিতীয়ার্ধে কতটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছিল।

এরপর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল সার্বিয়া-সুইজারল্যান্ড। কিন্তু গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোন দলই। তাই সকলেই যখন ধরে নিয়েছিলেন ১-১ গোলের সমতায় ম্যাচ শেষ হচ্ছে তখনই আসল কাজটি করেন জারদান শাকিরি। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ৯০ মিনিটের সময় কাউন্টার অ্যাটাকে মাঝমাঠ থেকে গ্যাভরানোভিচের থ্রু বল আসলো শাকিরির কাছে। সেটিকে নিয়ে দিলেন ক্ষিপ্র গতির টান। যেখানে পেছনে পড়লেন সার্বিয়ার এক ডিফেন্ডার। ডি বক্সের ভেতর বাঁ পায়ের আলতো ছোঁয়াতে গোলরক্ষকের পায়ের নিচ দিয়ে সম্ভবত জীবনের সেরা গোলটি করলেন স্টোক সিটির তারকা জার্দান শাকিরি।

গতরাতের ম্যাচে যদি সার্বিয়া জয়লাভ করত তাহলে ১৯৯৮ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো গ্রুপপর্বের বাধা পেরুতে পারতো।