সাড়ে তিন বছর ধরে ক্লাস চলছে অন্য বিদ্যালয়ে, শুরু হয়নি সংস্কার কাজ

0
549

এম জে ফরাজী : খুলনার সোনাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত হওয়ার সাড়ে তিন বছর পরেও সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। ফলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হচ্ছে অন্য একটি বিদ্যালয়ে। এতে করে যেমন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, তেমনি অস্তিত্ব হারাচ্ছে বিদ্যালয়টি। তবে কি কারণে এখনো সংস্কারকাজ শুরু হচ্ছে না তা বলতে পারলেন না- জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাও। ফলে কবে নাগাদ নিজ বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে পারবে শিশু-শিক্ষার্থীরা তা জানা নেই কারও।
সূত্র জানায়, নগরীর নিউমার্কেটস্থ সোনাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৮৭০ সালে। ১১৮ বছর পর ১৯৮৮ সালে বিদ্যালয়ের দো-তলা ইমারত নির্মাণ করা হয়। পরে ১৯৯৩ সালে তৃতীয় তলার কাজ শেষ হয়। ২৫ বছর পর ২০০৫-২০০৬ অর্থ বছরে বিদ্যালয়টির সংস্কার করা হয়। অনেকদিন সংস্কারের অভাবে বর্তমানে বিদ্যালয়টি একদিকে হেলে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন কক্ষে ফাটল ধরেছে, কোন কোন জায়গা ফেটে পড়ছে। ছাদের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে নিচে পড়ছে। ২০১৫-২০১৬ সালে সংঘটিত বিভিন্ন ভূমিকম্পের কারণে বিদ্যালয়টি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর ফলে সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো নিরাপদ নয়। যেকোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অন্যত্র ক্লাস করানোর ব্যবস্থা করানো হয়েছে বলে জানায় বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা।
সূত্র আরও জানায়, সংস্কারের অভাবে অনেক আগেই বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে ২০১৫-১৬ সালে বারবার ভূমিকম্পের কারণে বিদ্যালয় ভবন একদিকে হেলে পড়েছে। এতে নতুন করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে নানা শঙ্কার সৃষ্টি হওয়ায় এ ভবন থেকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিরত রাখা হয়েছে। তাদেরকে নিরাপত্তার জন্য সেখান থেকে পাঠদান বিরত রাখতে বলেছে শিক্ষা অফিস। এমতাবস্থায় ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি সদর থানা শিক্ষা অফিসার বরাবর বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করে পার্শ্ববর্তী সোনাডাঙ্গা আবুবক্কর খান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান করার আবেদন করেন বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা। পরে সহকারী শিক্ষা অফিসার মোছাঃ কামরুন্নাহার হাছিনা বানু বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। ওই সময় বিদ্যালয়টির বাথরুমের ছাদ নিচে ধসে পড়ে। এরপর শিক্ষিকাদের আবেদন সাড়া দিয়ে সদর থানা শিক্ষা অফিস অন্যত্র ক্লাস করানোর অনুমতি দেন।
এরপর ২০১৬ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে সোনাডাঙ্গা আবুবক্কর খান আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে প্রতিদিন দুই শিফটে দুই স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ ওই বিদ্যালয়েও নেই। চারটি কক্ষের মধ্যেই দুই স্কুলের ৬ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হয়। তাতে এক প্রকার তাড়াহুড়ো করে ক্লাস করাতে হচ্ছে। তাতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে দুই স্কুলেরই শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে সোনাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ থাকায়, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চায়ের দোকান দেওয়া হয়েছে। সেখানে আড্ডায় মত্ত থাকেন এলাকার লোকজন। ভবনের এক দিক হেলে পড়া। কোথাও কোথাও পলেস্তরা ধসে পড়ছে, জানালার কাচ ভাঙ্গা। সবমিলিয়ে এক ভৌতিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে।
সোনাডাঙ্গা আবুবক্কর খান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী হাওলাদার খুলনা টাইমসকে জানান, শিক্ষা অফিসের নির্দেশেই আমাদের স্কুলে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন দুই শিফটে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হচ্ছে। কবে নাগাদ তারা নিজেদের ভবনে ফিরবে তা কারও জানা নেই।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম সিরাজুদ্দোহা খুলনা টাইমসকে বলেন, খুলনা সদর ক্লাস্টারের ৫টি স্কুল সংস্কারের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে তালিকা পাঠানো হয়েছিলো। যেটি অনেক আগে পাশ হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি স্কুলের ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে কি কারণে বাকি তিনটি বিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়নি তা আমার জানা নেই।
তিনি আরও জানান, আমি একটি প্রোগ্রামে খুলনার বাইরে আছি। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে আমি উক্ত বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করার ব্যবস্থা করবো। আশা করি শীঘ্রই এর নির্মাণকাজ শুরু করতে পারবো।