সাতক্ষীরায় শীতের শুরুতেই খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

0
1112

সেলিম হায়দার, সাতক্ষীরা থেকে :

শীতের শুরুতেই খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা। শীত মানেই যেন খেজুর রস। শীতের সকালে নানাভাবে খাওয়া হয় এ রস। সাতক্ষীরার সদর, তালা, কলারোয়া, দেবহাটা, আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলায় এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় সাতক্ষীরার এলাকার খেজুর গাছ থেকে আগের বছরের মতো পর্যাপ্ত রস পাচ্ছেন না গাছিরা।

সারা বছর অযতেœ অবহেলায় পড়ে থাকা গ্রাম-গঞ্জের খেজুর গাছের কদর বেড়েছে। তারা নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুর গুড় দেয়ার চুক্তিতে পুরো মৌসুমের জন্য গাছ লিজ নিয়ে রস সংগ্রহ এবং সেই রস থেকে গুড় তৈরি করছেন। তবে খেজুরগাছ সঙ্কটের কারণে এ বছরও চাহিদা অনুযায়ী রস পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করেছেন গাছিরা ।

কয়েক বছর আগেও সাতক্ষীরার এলাকার প্রতিটি বাড়িতে, খেতের আইলের পাশে ও রাস্তার দুই ধার দিয়ে ছিল অসংখ্য খেজুরগাছ। কোনো পরিচর্চা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠতো খেজুর গাছগুলো। প্রতিটি পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করা হতো গুড়। অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এলাকার চাহিদা পূরণ করে বাড়তি গুড় সরবরাহ করা হতো দেশের বিভিন্ন স্থানে।

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, লবণ পানির আগ্রাসন ও জ্বালানি হিসেবে ইট ও টালি পোড়ানোর কাজে অবাধে খেজুর গাছ ব্যবহারের ফলে মারাত্মকভাবে কমে যায় খেজুরগাছ। বর্তমানে বসতবাড়ি কিংবা রাস্তাঘাটের পাশেও দেখা মিলে না খেজুরগাছের। অনেকটাই বিলপ্তির পথে পরিবেশবান্ধব গুরুত্বপূর্ণ এ গাছ। এক সময় রস সংগ্রহ করে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করলেও বেশির ভাগই ছেড়ে দিয়েছেন এ পেশা। দুই-একজন এখনো ধরে রেখেছেন।

গাছিরা জানান, তিন-চার দিন হচ্ছে রস সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে এখনো রস বেশি মিলছে না। শীত বাড়লে রসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বলে তারা জানান।

নভেম্বর মাসের মাঝামাছি থেকে ফেব্রæয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত এই ৪ মাস খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা যায়। এসময় রস থেকে গুড় তৈরি হয়। কনকনে শীতে বাড়ির আঙ্গিনায় রোদে বসে খেজুরের রস পান করা গ্রাম বাংলার মানুষের এতিহ্য। একইভাবে সন্ধ্যাকালীন সময়ে গ্রামীন পরিবেশটা খেজুর রসে মধুর হয়ে উঠে।