সাতক্ষীরায় ডিসি অফিস চত্বরে ভূমিহীনদের ওপর হামলায় প্রতিবাদ সভা

0
182

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে দেবহাটার খলিশাখালিতে বসবাসরত ভূমিহীনদের ওপর হামলা ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনাটি ঘটে। এরআগে সকাল ১০টায় খলিশাখালির ১ হাজার ৩২০ বিঘা জমি দখল সংক্রান্ত ও মালিকানা বিষয়ে যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের আহ্বানে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় হাজির হন হামলার শিকার খলিশাখালির এসব ভূমিহীনেরা। সভা শেষে বাড়ী ফেরার জন্য সম্মেলন কক্ষ থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চত্বরে পৌঁছানোর সাথে সাথে ভূমিহীনদের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট শুরু করেন খলিশাখালি থেকে দখলচ্যুতরা।
এঘটনায় খলিশাখালির বিস্তৃর্ন জমির মালিক চন্ডীচরণ ঘোষের তৎকালীন প্রজার উত্তরসূরী মৃত হরিপদ স্বর্ণকারের ছেলে সুনীল স্বর্ণকার, ওমর আলী গাজীর ছেলে শরিফুল ইসলাম, মৃত মফেজ ঢালীর ছেলে গোলাপ ঢালী, মোজাম গাজীর ছেলে রফিকুল ইসলাম, লিয়াকত আলীর ছেলে আহছানউল্লাসহ কয়েকজন ভূমিহীন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন খলিশাখালির ভূমিহীন নেতারা। মারপিটের একপর্যায়ে কোর্ট চত্বরের সামনে অবস্থানরত লোকজন ছুটে আসলে আহতদের ফেলে রেখে সটকে পড়ে হামলাকারীরা। এসময় নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচতলায় আশ্রয় নেন আহত ভূমিহীনেরা। পরে খলিশাখালি থেকে প্রায় অর্ধশত ভূমিহীন সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ভূমিহীন জনপদে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এঘটনায় আহত সুনীল স্বর্ণকার বাদী হয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হামলার শিকার সুনীল স্বর্ণকার বলেন, চন্ডীচরণ ঘোষের থেকে খলিশাখালির বিস্তৃর্ণ জমির ডিএস মালিকানা প্রাপ্ত হন আমার পূর্ব পুরুষ গনেশ স্বর্ণকার সহ চন্ডীচরণ ঘোষের তৎকালীন প্রজারা। এসব প্রজাদের হটিয়ে জাল কাগজপত্র বানিয়ে দীর্ঘদিন ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছিলেন শিমুলিয়া গ্রামের কাজী আব্দুল মালেকের ছেলে কাজী গোলাম ওয়ারেশ সহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী। এনিয়ে চলমান মামলার শুনানী অন্তে ওই জমি কন্ট্রোল ও ম্যানেজমেন্টের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট। যার প্রেক্ষিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে জমির মূল মালিক চন্ডীচরণ ঘোষের তৎকালীন প্রজাদের উত্তরসূরীসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার ভূমিহীনেরা সম্মিলিতভাবে খলিশাখালি নামীয় ১,৩২০ বিঘা জমির দখল নিই। এঘটনার পর একের পর এক ভূমিহীন জনপদে হামলা, অগ্নিসংযোগ, মারপিট ও মামলা দিয়ে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল দখলচ্যুতরা। সোমবার দখলকৃত ওই সম্পত্তির মালিকানা বিষয়ে সভা আহ্বান করে পরদিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য আমাদের খলিশাখালির ভূমিহীনদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। যার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ওই সভায় আমিসহ কয়েকজন ভূমিহীন হাজির হই। সভায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং খলিশাখালি থেকে দখলচ্যুত কথিত মালিকপক্ষও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উভয়পক্ষের কাগজপত্র ও যুক্তি শোনাবোঝা করে করে সাড়ে ১১টায় সভা শেষ করেন জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির। এসময় আমরা বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে সম্মেলন কক্ষ থেকে বের হয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচের চত্বরে পৌঁছানো মাত্রই দখলচ্যুত প্রভাবশালী সখিপুর গ্রামের মৃত আছমাতুল্যাহর ছেলে আব্দুল মজিদ, একই গ্রামের আব্দুল কবিরাজের ছেলে নজরুল ইসলাম, মৃত আব্দুল মালেক কাজীর ছেলে গোলাম ওয়ারেশ, ফজর আলীর ছেলে আনছার হাজী, রাজাউল্লাহর ছেলে আলম সহ ২০/২৫ জন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা ও মারপিট করতে থাকে। তারা আমাদের পিটিয়ে জখম করে এবং আমাদের পরনের জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে। একপর্যায়ে কোর্ট চত্বরসহ আশপাশে অবস্থানরত লোকজন আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসলে সেখান থেকে সটকে পড়ে হামলাকারীরা। হামলার ঘটনাটি মোবাইল ফোনে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারকে অবহিত করে জেলা প্রশাসক বরাবর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ভূমিহীনদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে রাতেই খলিশাখালির ভূমিহীন জনপদে এক প্রতিবাদ সভা করেন ভূমিহীনেরা। হামলা ও মারপিটের পর থেকে ওই জনপদের কয়েক হাজার ভূমিহীন পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্যে উল্লেখ করেন ভূমিহীন নেতারা।