সাতক্ষীরার দেবহাটা মিনি সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রের দ্বার প্রান্তে

0
1791

আব্দুর রব লিটু, দেবহাটা:
ভারত-বাংলা সীমান্তের ইছামতি পাড়ের রূপসী ম্যানগ্রোভ এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নজরে। আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রের দ্বার প্রান্তে সাতক্ষীরার দেবহাটার মিনি সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ। দেবহাটায় ভারত বাংলার সীমান্তবর্তী নদী ইছামতির পাড়ে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে দর্শনার্থীদের ভীড়। এই গরমের মধ্যেও একটু স্বস্তির নিশ^াস ফেলতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে দর্শনার্থীরা । রুপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রটি দেবহাটা উপজেলার শিবনগর মৌজার ১ নং খতিয়ানের ৩৯৮ নং দাগের ইছামতি নদীর তীরে জেগে ওঠা চরভূমি। যার আয়তন ৩১.৪৬ একর। যার মধ্যে আছে ০৭ একর আয়তনের একটি পুকুর। রুপ বদলানো ম্যানগ্রোভটি তিলে তিলে এখন সাতক্ষীরা জেলা তথা বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। নদীর তীরে অবস্থিত রূপসী ম্যানগ্রোভ (মিনি সুন্দরবন)এর কদর যেন এখন সবার কাছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে দর্শাণার্থীরা উপভোগ করছে এই সৌন্দর্যের লিলা ভূমি। রুপসী ম্যানগ্রোভ পিকনিক স্পটটি প্রশাসনের পৃষ্টপোষকতায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে তার রুপ বদলে ইতিমধ্যে অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র রুপ ধারন করেছে। এটি আরো নান্দনিক ও নয়নাভিরাম করে একটি সৌন্দর্যপূর্ন ভাবে মানুষের চিত্ত বিনোদনের অন্যতম স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং চলমান রয়েছে এখনো অনেক কাজ। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের নজরে এসেছে এটি। তাইতো জনপ্রশাসন পদক ২০১৯ এ প্রাথমিক বাছাইয়ে স্থান পেয়েছে মিনি সুন্দরবন নামে খ্যাত এই রুপসী ম্যানগ্রোভ। আগামী (২৮ জুন) শুক্রবার পদকে বাছাই প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব (পিএসিসি) ড. মোঃ হুমায়ুন কবীরের নের্তৃত্বে উপ সচিব মোহাম্মাদ হোসেন, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকরী সচিব গাজী তারিক সালমান, ন্যাশনাল কনসালটেন্ট (এটুআই প্রোগ্রাম) এর যুগ্ন সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ম্যানগ্রোভটি পরিদর্শনে আসছেন। তাই ম্যানগ্রোভটির চলমান উন্নয়ন কাজ আরো দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন এই উন্নয়ন কাজগুলো সার্বক্ষনিক তদারকি করছেন। ভারত-বাংলাদেশ বিভাজনকারী ইছামতি নদীর কুল ঘেষে দেবহাটা উপজেলার শীবনগর গ্রামে গত কয়েক বছর আগে মানুষের চিত্ত বিনোদনের লক্ষ্যে দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সুন্দরবনের আদলে গড়ে তোলা হয় “রুপসী ম্যানেগ্রাভ” বিনোদন কেন্দ্র। এখানে সুন্দরবন থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এনে রোপন করা হয়, খনন করা হয় একটি দিঘী, তৈরী করা হয় একটি রেস্ট হাউজ। সেসময় থেকে এখানে দুর দুরান্ত থেকে সাধারন মানুষ সহ প্রশাসনের বড় বড় কর্মকর্তারা আসেন কিছুটা শান্তির পরশ নিতে। বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই দর্শনার্থী ও ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে অপরূপ সৌন্দর্যের তীর্থভূমি রূপসী দেবহাটার ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রটি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব বয়সী হাজারো দর্শণার্থীরা চিত্ত বিনোদনের তৃষ্ণা মেটাতে স্বপরিবারে ভিড় জমাচ্ছেন এখানে। বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আর সবুজের সমারোহে সুন্দরবনের আদলে গড়ে ওঠা ম্যানগ্রোভ বনটির অপরূপ সৌন্দর্যের নান্দনিক মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখতে কেউ কেউ পরিবার পরিজনদের নিয়ে আবার কেউবা মেতে উঠছেন সেলফিতে। পাশাপাশি কৃত্রিম সব জীবজন্তু, খেলনা সামগ্রীসহ নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমন্ডিত এ পর্যটন কেন্দ্রটিতে পরিবারের সাথে আনন্দে মেতে উঠছে শিশুরাও। পর্যটন কেন্দ্রটির ম্যানেজার দিপঙ্কর কুমার ঘোষ জানান, রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রটির রুপকে আরো নান্দনিক ও সৌন্দর্যমন্ডিত করতে প্রতিদিনই এখানে কাজ করতে হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদারকিতে ৩কিঃ মিঃ পিচের রাস্তার কাজ সহ সকল ধরনের উন্নয়ন দ্রুত গতিতে বাস্তবায়নের লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন এই পিকনিক স্পটটি আরো সুন্দর করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহনের কথা জানিয়ে বলেন, প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য এই বিনোদন কেন্দ্রটিতে রয়েছে। তাই এটিকে আরো নান্দনিক ও সৌন্দর্যপূর্ন করতে ইতিমধ্যে ২০ কোটির বেশী টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে জানিয়ে ইউএনও বলেন, খুব তাড়াতাড়ি উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্প থেকে এই বিনোদন কেন্দ্রটিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাত স্মরনে একটি গেট নির্মান, আরসিসি ঢালাই রাস্তা ও সিসি ঢালাই রাস্তা নির্মান, দিঘীর উপরে ট্রেইল নির্মান ও মিনি চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে বলে ইউএনও জানান।