সাতক্ষীরার ইছামতি নদীতে উদ্ধার লাশের সন্ধান: প্রেমের জেরে মহেশপুরে মা-মেয়ে খুন

0
689

মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা:
ইছামতি নদীর বাংলাদেশী সীমান্তের ২ স্থানে উদ্ধার হওয়া মা-মেয়ের লাশের সন্ধান মিলেছে। দেবহাটা ও কালিগঞ্জ এবং মহেশপুর থানা সুত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রæয়ারী মহেশপুরের নিখোঁজ হওয়া মা মেয়ের লাশ ইছামতি নদীর নওয়াপাড়া সীমান্তে সোমবার বিকালে কন্যা শিশু এবং তার ২দিনপর বুধবার রাত ৮ টায় কালিগঞ্জ কালিন্দি নদীর চর থেকে বোরকা পরিহিত মহিলাটি শিশুর মা’র মরাদেহ উদ্ধার হয়। লাশ দুটি পৃথক পৃথক থানা পুলিশ উদ্ধার করে আইনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরে ফেইজবুকে ছবি পোষ্ট হওয়ার পর ঝিনাইদহ থেকে একটি সাড়া আসে। তারই সূত্র ধরে খবর নিয়ে উক্ত লাশের পরিচয় পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া ২টি মারদেহের মধ্যে সাড়ে ৪ বছরের শিশুটির নাম মুন্নি আক্তার এবং শিশুর মা রিপনা আক্তার(২২)। উদ্ধাকৃতরা হলেন ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের বাসিন্দা। নিহতের মা ও শিশুর নানি মেহেরুন নেছা জানান, প্রায় সাড়ে ৫ বছর পূর্বে তার আপন ভাই আওলাত শেখের ছেলের সাথে ছোট কন্যা রিপনাকে বিয়ে দেওয়া হয়। মেয়েকে বিয়ের পর স্বামী তাদের বাড়িতে রেখে দিয়েছিলেন। সংসারে ভালোই সুখ, শান্তি ছিল। কিন্তু গত গত ১০ ফেব্রæয়ারী সকালে বাড়ি হতে রিপনা ডাক্তার দেখানোর জন্য বের হয়। বিকাল গড়িয়ে সন্ধা হলেও বাড়িতে না ফিরলে মোবাইল ফোনে কল দেয় পরিবারের অন্য সদস্যরা। এসময় রিপনার মোবাইল ফোনটি বন্ধ দেখালে আশেপাশে খোঁজ নিতে থাকে তারা। আতœীয়ের বাড়িতে বহু খোঁজাখুজির শেষে ঘটনার ২দিন কেটে যাওয়ার পর ১২ ফেব্রæয়ারী তারিখ মহেশপুর থানায় শিশুর পিতা ও মহিলার স্বামী মুছা শেখ একটি নিখোঁজ ডায়েরী করে। যার নাম্বার-৫২১। পুলিশ রিপনার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নাম্বারের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পারে একই এলাকার আব্দুল খালেকের পুত্র আব্দুল আলিম(২৬)এর সাথে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলত সে। এমনকি রিপনার সাথে সর্বশেষ আব্দুল আলিমের সাথে কথা হয়েছে বলে জানায় মহেশপুর থানার এসআই জিয়া। এছাড়া এলাকায় খবর নিয়ে জানতে পারে আব্দুল আলিমের সাথে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অভিযুক্ত আব্দুল আলিম এর শ্বশুরবাড়ি সাতক্ষীরায় হওয়ায় তাদেরকে সাতক্ষীরার ইছামতি সীমান্তে এনে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি ঘটনার পর থেকে আব্দুল আলিম এলাকায় পলাতক রয়েছে বলে জানায় রিপনার স্বামী মুছা শেখ।##