সাকিব-রশিদে দ্বিতীয় শিরোপার পথে হায়দরাবাদ

0
374

স্পোর্টস ডেস্ক:

গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলা সানরাইজার্স হায়দরাবাদ পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই অবস্থান করছিল। কিন্তু প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে এসে ডু প্লেসির অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুন্যে পরাজয়বরণ করে ফাইনালের অপেক্ষা করতে হয় তাদের। অবশেষে গতরাতে কলকাতা নাইরাইডার্সকে ১৩ রানে হারিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফাইনালের চেন্নাইয়ের পর জায়গা করে নিলো হায়দরাবাদ। এদিন ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল ছিলেন সাকিব আল হাসান ও রশীদ খান। আগামী ২৭ মে একাদশতম টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসের মুখোমুখি হবে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।

শুক্রবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচটিতে টস জিতে কলকাতা নাইটরাইডার্স ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাটিংয়ে নেমে কিছুটা ধীর গতিতে ইনিংস শুরু করেন শেখর ধাওয়ান ও ঋদ্ধিমান সাহা। প্রথম ৭ ওভারেই দলীয় স্কোরের ঘরে ৫৬ রান যোগ করেন এ দুই ওপেনার। ৮ম ওভারে ধাওয়ান যাদবের বলে ফিরে গেলে প্রথম মোড়ক লাগে হায়দরাবাদ শিবিরে। ওই একই ওভারের ৫ম বলে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকেও ফেরত পাঠান যাদব।

এরপর নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে সাকিব আল হাসান এসে ঋদ্ধিমান সাহার সঙ্গে উইকেট মেরামতের দায়িত্ব নেন। দলীয় ৮৪ রানে ঋদ্ধিমান সাহা ব্যক্তিগত ৩৪ রান করে ফিরে গেলে মাঠে এসে সাকিবের সঙ্গে জুটি বাঁধেন দিপক হুডা। কিন্তু হুডার একটি শট কুলদিপ যাদবের হাতে লেগে নন স্ট্রাইক অ্যান্ডে আঘাত হানলে দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হন সাকিব আল হাসান। এর আগে ২৪ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ২৮ রান করেন এই তারকা অলরাউন্ডার।

দলীয় ১৩৭ রানে হায়দরাবাদের ৭ম উইকেটের পতন ঘটলে এক সময় মনে হচ্ছিল রান বুঝি দেড়শ ছাড়াবে না। কিন্তু ব্যাট হাতে মাঠে নেমে শুরুতে চার মেরে রানের খাতা খুলে ঝড়ের আভাস দেন আফগান রিক্রুট রশিদ খান। শেষ পর্যন্ত রশিদ খানের কল্যাণে দলীয় স্কোর ১৭৪ রানে গিয়ে ঠেকে। রশিদ খান শেষ পর্যন্ত ১০ বলে ৪ ছয় ও ২ চারে সাহায্যে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। কলকাতার পক্ষে কুলদীপ যাদব ২টি, শিভম মাভি, সুনিল নারিন ও পীযুষ চাওলা ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সুনীল নারিনের ব্যাটে ঝড়ো শুরু পায় কলকাতা। মাত্র ৩.২ ওভারেই ৪০ রান তুলে ফেলে কলকাতা। এরপরই সিদ্ধার্থ কাউলের বলে নারিন আউট হন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আরও ৪৭ রান যোগ করেন ক্রিস লিন ও নিতিশ রানা। রানা আউট হওয়ার সময় ৮.৩ ওভারে দলীয় সংগ্রহ ৮৭ রান। এরপরই নাইট শিবিরে মোড়ক লাগে। ৮৭ থেকে ১১৮ রান পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে নাইটরা। এরপর আর কোনো ব্যাটসম্যান বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে পারেনি কোনো ব্যাটসম্যান।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। প্রথম বলে চার হলেও পরের দুই বলে টানা দুই উইকেট তুলে নিয়ে হায়দ্রাবাদের জয় নিশ্চিত করেন ক্যারিবিয় অলরাউন্ডার কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। শেষ পর্যন্ত কলকাতা ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানে গিয়ে থামে এবং ১৪ রানের পরাজয়বরণ করে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে। এদিন ব্যাট বলে অলরাউন্ড পারফর্ম করে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার শোকেসে তোলেন রশিদ খান।

হায়দরাবাদরে পক্ষে রশিদ খান ৩টি, ব্র্যাথওয়েট ও সিদ্ধার্থ কাউল ২টি এবং সাকিব আল হাসান ১টি উইকেট লাভ করেন।