সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে দলীয় দখলবাজদের তালিকা তৈরি করছে

0
191

টাইমস ডেস্ক:
ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় কোনো অপকর্ম করে ছাড় পাওয়া যাবে না। অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি ঙতহণ করেছে। যারা দলের নাম ভাঙিয়ে সরকারি সম্পত্তি, নদী, বালুমহাল, সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল করেছে তাদের তালিকা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে দলীয় দখলবাজদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। চারভাগে ভাগ করে ওই তালিকা তৈরি করে খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট হাইকমান্ডের কারছে জমা দেওয়া হবে। তারপর চলবে দখলবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ঙতহণ। ওই তালিকায় সরকারদলীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র কিংবা স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ বা দাপুটে নেতার নাম রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দলীয় পরিচয়ে যারা ঢাকার প্রাণ প্রবাহ বুড়িগঙ্গাসহ চারপাশের নদী অবৈধভাবে দখল করে শিল্প-কলকারখানা কিংবা স্থাপনা গড়ে তুলেছে তাদের প”থক তালিকা করা হচ্ছে। তাছাড়া ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, বন্দরনগরী চট্টঙতামসহ বিভাগীয় জেলাগুলো এবং অন্যান্য জেলা-উপজেলা-পৌরসভা পর্যায়েও দখলবাজদের তালিকা করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক নেতার মতে, দলীয় পরিচয়ে অপকর্ম করার দিন শেষ। অপরাধী যতোই শক্তিশালীই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান ও ফরিদপুর আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে ওই বার্তা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে বেদখল হওয়া সরকারি সম্পদ ও অন্যের জায়গা দখলমুক্ত করার উদ্যোগ ঙতহণ করা হয়েছে। যারাই দলীয় পরিচয়ে নদী, বালুমহাল, সরকারি কিংবা অন্যের সম্পত্তি দখল নিয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এসব অপকর্মের সাথে কোথাও কোথাও সরকারদলীয় এমপি-উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র কিংবা স্থানীয় থানা-উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও যুক্ত। হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুদের জায়গা দখলের অভিযোগ করেছেন। শুধু দখলই নয়, ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, ক্ষমতাসীন দলের দাপট দেখিয়ে অনেকেই ব্যাংক লুট করছে, বালু মহল দখল, নদী দখল এবং সংখ্যালঘুর বাড়ি দখল করছে। আবার কেউ সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক স”ষ্টি করতে নানা অপচেষ্টাও চালাচ্ছে। ২০১০ সালে প্রণীত বালুমহাল আইনে সেতু, সড়ক, মহাসড়ক, রেললাইনের পাশ থেকে বালু তোলা নিষিদ্ধ হলেও রাজধানীর বুড়িগঙ্গাসহ পার্শ¦বর্তী এলাকায় তা চলছেই। ক্ষমতাসীন দলের নেতা, সহযোগী সংগঠনের নেতা, দলীয় এমপি-উপজেলা চেয়ারম্যান এমনকি পৌর মেয়ররাও এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার কারণে ৫৪ জেলার আড়াই শতাধিক স্থানে বর্তমানে নদী ভাঙছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, দলীয় অপরাধীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ বরাবরই কঠোর। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানেই তার প্রমাণ মিলেছে। ফরিদপুরে দলীয় নেতাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। একইভাবে যারা দলের নাম ভাঙিয়ে নিজের আখের গোছাবে, তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অঙ্গীকার তিনি কোনো অপরাধীকে ছাড় দেবেন না। সে দলের হোক কিংবা কারও ছত্রছায়ায় থাকুক। দখলবাজ, সন্ত্রাসী, নৈরাজ্যকারীর জায়গা আওয়ামী লীগে হবে না। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা ঙতহণের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা ঙতহণ করা হবে। যতো দিন যাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দখলদারের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে আরো কঠোর হবেন।
এ প্রসঙ্গে অতিসম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার যে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। নিজ দলের কেউ অপরাধ করলে শাস্তি প্রদানের সাহস একমাত্র শেখ হাসিনাই রাখেন।