সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে কয়রায় বাঁধ নিয়ে ষড়যন্ত্র

0
244

ওবায়দুল কবির সম্রাট, কয়রা:
রিং বাঁধ ভেঙে পানিতে প্লাবিত হওয়া এটা যেন কয়রা উপজেলার মানুষের দীর্ঘ দিনের নিত্য বসবাস। কিন্তু কিছু অসাধু চক্র সে রিং বাঁধ নিয়ে করছে ষড়যন্ত্র। চলছে ক্ষমতা দখলের পায়তারা। গেলো ১৮ নভেম্বর, বুধবার গভীর রাতে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বিধ্বস্ত কয়রা উপজেলা সদরের ঘাটাখালি রিং বাঁধ ভেঙে ঘাটাখালি ও গোবরা গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এমনটা শোনা গেলেও আদৌ কি রিং বাঁধ ভেঙে ছিলো। নাকি ভাঙার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আরো শোনা যায়, রিং বাঁধ ভেঙে কয়েকটি মৎস্য ঘের ভেসে যায়। ওই রাতেই নাকি জনসাধারণের চেষ্টায় বাঁধ মেরামত সক্ষম হয়।
বাঁধের পার্শ্ববর্তী স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ রিংবাঁধ কিভাবে ভাঙলো বুঝতে পারছি না। তবে কতিপয় ঘের ব্যবসায়ী মাছ ধরার নামে গোপনে রিংবাঁধ ছিদ্র করে জোয়ারের পানি উঠানোর ফলে ভেঙে যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক কানাঘোষা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর ধারণা সামনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনসাধারণের মাঝে সরকারবিরোধী মনোভাব তৈরি করতে বাঁধকে ইস্যু করে আবারো ষড়যন্ত্র চলছে। কিছুদিন আগে একই স্থানে বাঁধ কেন্দ্রিক ষড়যন্ত্রে হামলার ঘটনাও ঘটে এবং মামলাও রুজু হয়।
বাঁধ ভাঙা নিয়ে কয়রা থানার ওসি মো রবিউল হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। কেউ যদি ষড়যন্ত্র করে বাধ ভেঙে থাকে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তান্ডবে উপজেলার পাউবো বাঁধের ১৪ টি পয়েন্ট ভেঙে উপজেলার চারটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয় সাংসদের প্রচেষ্টায় জরুরী ভিত্তিতে পাউবো ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে ১৩টি স্থান আটকাতে সক্ষম হয়। এতে করে লক্ষাধিক মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে উত্তর বেদকাশীর কাশির হাটখোলা নামক স্থান ভাঙা আটকাতে না পারায় জোয়ারের পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।
সাতক্ষীরা পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মশিউল আবেদীন বলেন, আম্পানের আঘাতে বিধ্বস্ত স্থানগুলি জরুরী ভিত্তিতে মেরামত সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, উত্তরবেদকাশীর কাশির হাটখোলার ২ হাজার ২শ মিটার, ঘাটাখালি হরিণখোলার ১ হাজার ৭শ মিটার, গোলখালীর ৭শ মিটার ও গাববুনিয়ার ২শ আশি মিটার বাঁধ মেরামতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দায়িত্ব নিয়েছে ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরুও করেছে। রিং বাঁধের বাইরে মূল বাঁধের বিধ্বস্ত স্থানে মাটি ও বালু ভরাট অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত মূলবাঁধ মেরামত সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। চক্রটি এর আগে গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বিধ্বস্ত কয়রা সদরের দুই নম্বর কয়রা নামক স্থানে বাঁধ মেরামতের নামে জামায়াত-বিএনপি একত্রিত হয়। দেশ-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে পাশে উচু স্থান ও মসজিদ থাকা সত্ত্বেও উপজেলার সকল জামায়াত-বিএনপি নেতার উপস্থিতিতে নদীর পানিতে ঈদের জামাত আদায় করে। আর এই জামাতে ইমামতি করেন খুলনা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আ খ ম তমিজউদ্দিন ও সাথে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি ও তার সাঙ্গোপাঙ্গ।
ষড়যন্ত্রকারীরা পানিতে ঈদের জামাত কে ইস্যু করে দেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরালের চেষ্টা করে। বিষয়টি সরকার আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত টিম গঠনের মাধ্যমে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।
নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে জামায়াত-শিবিরের ওই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যায়। জনসাধারণকে ভুল বুঝিয়ে তাদের মধ্যে সরকার বিরোধী মনোভাব তৈরি প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। দেশ-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে সরকার বিরোধী কতিপয় পত্র-পত্রিকার লোকজন ভাড়া করে জামায়াত-বিএনপি আবারো ষড়যন্ত্রে মেতেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, শোনা যাচ্ছে একটি পক্ষ মাছ ধরার জন্য বেঁড়িবাধ কাটছে। তিনি আরও বলেন, আমরা লোনা পানি থেকে কয়রাবাসীকে রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাশে থেকে উপজেলা প্রশাসন আর্থিকসহ সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। বেঁড়িবাধ রক্ষায় সব ধরনের সহযোগিতা করাসহ সকল এনজিওদের বাঁধ রক্ষার কাজে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কেউ যদি রাতের আঁধারে বাঁধ কাটার চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, আগামী মার্চ মাসে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি চক্র মেতে উঠেছে বাঁধ ভেঙে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে। চক্রান্তকারীরা জনসাধারণকে ভুল বুঝিয়ে, তাদের মাঝে সরকার বিরোধী মনোভাব তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এমনটাই অনুসন্ধানে জানা গেছে।