সন্তোষপুর ইউনিয়ন মাতৃস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবায় একধাপ এগিয়ে

0
519

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মানসম্পন্ন পরিবার পরিকল্পনা ও মাতৃস্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য দক্ষিণবঙ্গের জেলা শহর বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ৭ নং সন্তোষপুর ইউনিয়নের পরিবার কল্যান কেন্দ্র একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। নিরাপদ এবং ঝুকিমুক্ত সন্তান প্রসব আর পাশাপাশি গুনগত মানসম্পন্ন পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান এই ইউনিয়ন পরিষদের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত। যার ধারাবাহিকতায় সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা সেবা কেন্দ্রটি প্রত্যন্ত এই অঞ্চলের মানুষদের বিশেষ করে নারীদের নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দেয়ার কাজ করে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই সেবাকেন্দ্রটিতে মাসে গড়ে ২০/২৫ জন গর্ভবতী মা এসে তাদের সন্তান প্রসব করেন এবং প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করেন। সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বৃদ্ধির কারন হিসেবে এ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কে এম জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, আমরা সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে একটি এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় করেছি। এ্যাম্বুলেন্স ক্রয়ের ব্যাপারে চিতলমারি উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা রির্বাহী অফিসার সার্বিক ভাবে সহায়তা করেছেন। সেবা গ্রহীতাদের সুবিধার্থে, চালকের মোবাইল নাম্বার ইউনিয়নের প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে- শুধুমাত্র জ্বালানী খরচের বিনিময়ে যে কোন সময় এ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা নিতে পারেন।
সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিউটি আক্তার উল্লেখ করেন যে,, বেসরকারী সেবা সংস্থা মেরীস্টোপ বাংলাদেশ এবং সুশীলন তাদের ধারাবাহিক এ্যাডভোকেসি কার্যক্রমের মাধ্যমে ইউএইচ এন্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভা কার্যকরী এবং নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাগেরহাট জেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সন্তোষপুর উপজেলা চেয়ারম্যান, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দের উপস্থিতিতে সামগ্রিকভাবে মাতৃস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে চাহিদা নিরূপণ করা হয় যার ভিত্তিতে আমরা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায়, ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব বাজেট এবং লোকাল গভর্নেন্স সার্পোট প্রজেক্ট এর সহায়তায় এই পরিবার পরিকল্পনা ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য ২০,০০০,০০ টাকা বরাদ্দ করা হয় এবং এই বাজেট থেকে এ্যাম্বুলেন্সটি ক্রয় করা হয়। তিনি জানান, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন ১৭হাজার ৯৫৩টি পরিবারের মায়েদের পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদ সবসময় সচেষ্ট রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ তাদের এই সাফল্যের জন্য সুশীলন ও মেরীস্টোপস বাংলাদেশ এর ভুমিকাকে প্রশংসা করেন এবং ইউনিয়নের পরিবার কল্যান কেন্দ্রের উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদের ভুমিকা আরো জোরদার করার জন্য সুপারিশ করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিউটি আক্তার তার সাক্ষাতকারে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর থেকে ইউনিয়নবাসীর অন্যান্য সেবা প্রদানের সাথে সাথে পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদানের বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে চলেছেন। এ সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য সেবা সফলভাবে প্রদান করায় ইতোমধ্যে এ ইউনিয়ন পরিষদ স্বাস্থ্য মেলা পুরষ্কার পেয়েছে। সন্তোষপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে রয়েছে শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান করানোর জন্য আলাদা কক্ষ। এ কক্ষে মায়েরা নিশ্চিন্তে তাদের সন্তানদের বুকের দুধ পান করান। এছাড়াও রয়েছে স্যানিটেশেন কর্নার। এ স্যানিটেশন কর্নার থেকে নারীরা তাদের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ব্রান্ডের স্বাস্থ্যসম্মত প্যাডসহ বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারছেন। নির্ঝাঞ্ঝাটে নারীরা তাদের প্রত্যেক মাসের বিভিন্ন উপকরণ এখান থেকে সংগ্রহ করছেন। সবমিলিয়ে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদানের বিষয়টি দেশের অন্যান্য বিভিন্ন ইউনিয়নের পরিষদের কাছে উদাহরণ হতে পারে।
প্রকৃতপক্ষে, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য স্থানীয় সরকারের কোন বিকল্প নেই এবং ইউনিয়ন পরিষদ এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে সক্ষম যার উদাহরণ আমরা এই সন্তোষপুর ইউনিয়ন। সরকার, এনজিও এবং স্থানীয় সরকারে কার্যকরী অংশগ্রহণ এই সাফল্য এনে দিয়েছে যা একটি অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদ এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরিবার কল্যান কেন্দ্র্গুলোকে আরো গতিময় আর কার্যকরী করে তুলবে যার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহনের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।