সাব-রেজিস্ট্রারের নৈপুণ্যে আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা যুবক’র জমি বিক্রি

0
733

এম জে ফরাজী, খুলনা:
খুলনায় আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও যুবক হাউজিংয়ের ১০ কাঠা জমি গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। নগরীর আযমখান সরকারি কমার্স কলেজের পাশে যুবকের ২০ কাঠা জমির মধ্যে ১০ কাঠা জমি সাধারণ গ্রাহকদের ফাঁকি দিয়ে গোপনে ২৪ জন গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। রেজিস্ট্রির সময় ওই জমির মূল ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
এছাড়া জমি বিক্রিতে অনিয়মেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, ২৪ জন গ্রাহকের মধ্যে যুবকের খুলনা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মোল্যার আত্মীয় স্বজনই রয়েছেন ৬ জন। এ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সূত্র জানায়, আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় অতি গোপনে গত সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখ যুবকের ২৪ জন গ্রাহকের নামে ১০ কাঠা জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। যার নেপথ্যের নায়ক যুবকের বর্তমান চেয়ারম্যান হোসাইন আল মাসুম। এ ঘটনায় জড়িত রয়েছে সম্প্রতি বদলি হওয়া খুলনা সদর সাব রেজিস্ট্রার মো: মিজানুর রহমান ও তার সহযোগী ফারুক, রওশন ও দলিল লেখক মনিরুল ইসলাম।
উক্ত জমির ক্রেতারা হলেন মোল্যা আব্দুর রাজ্জাক, মতিয়ার রহমান, সালমা বেগম, বেলায়েত হোসেন মিলন, তাওহিদুল ইসলাম, সোহেলী পারভীন, গুলশান আরা বেগম, ডা. মো: আসাদুল ইসলাম, ডা. আনোয়ারুল আজিম, সরদার কিসমত আলী, শামীম আরা বেগম, মোশাররফ হোসেন, রাশিদা খাতুন, নাঈমা খাতুন ডলি, গাজী আব্দুস সালাম, মো. তৌহিদুজ্জামান, জিএম শরিফুল হক, গাজী আব্দুল হক, রাবেয়া ইয়াসমিন, হাসনা হেনা, মাহমুদা আকতার রেখা, খুরশিদ আক্তার কলি ও উম্মে সালমা। এদের মধ্যে রাজ্জাক মোল্যার আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন ৬ জন।
অভিযোগ রয়েছে, একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন যুবকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লোকমান হোসেন। তিনি জেল থেকে বের হওয়ার পর রাজ্জাক মোল্যার সহযোগিতায় জমি বিক্রির চেষ্টা করেন। এসময় সদর সাব রেজিস্ট্রার বদলি হয়ে গেলে রেজিস্ট্রির কাজ ঢাকায় বসে সম্পন্ন করা হয়। দলিলে সাক্ষী হিসেবে যার নাম ব্যবহার করা হয় সেটিও ভুয়া বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণ গ্রাহকরা জানান, আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে কিভাবে জমি বিক্রি করা হলো তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ এসব সম্পত্তি বিক্রি করা হলে গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই। আর যাদের কাছে জমি বিক্রি করা হয়েছে, তাদের নাম গ্রাহক তালিকায় নেই।
এ বিষয়ে যুবকের বিভাগীয় কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মোল্যার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সাধারণ গ্রাহকদের কাছে জমি বিক্রি করা হয়ে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ঠঁকিয়ে তাদের সর্বশান্ত করে হাতিয়ে নিয়েছিলো সব টাকা। ২০০৬ সালের ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞার ফলে যুবক বন্ধ হয়ে যায়। যুবকের কাছে সাধারণ গ্রাহকদের পাওনা রয়েছে ৬২৮ কোটি টাকারও বেশি। গ্রাহকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৬ মে সরকার সারাদেশে যুবকের সম্পত্তি ক্রয় বিক্রয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে বর্তমানে তাদের কর্তারা গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রতারণা মামলার আসামী।