সংখ্যালঘুদের উপর হামলার পুনরাবৃত্তি রুখিতে হইবে

0
589

 

রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার দায় স্বীকার করিয়াছেন রংপুর জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফজলার রহমান। তিনি সংঘটিত ওই ঘটনায় দায়েরকৃত দুইটি মামলার প্রধান আসামি। ফেসবুকে কথিত একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করিয়া গত বত্সর ১০ নভেম্বর রংপুরের ঠাকুরপাড়া গ্রামে হিন্দুদের বাড়িতে লুটপাট-ভাঙচুর হয়। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, গত বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিক হোসেনের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ফজলার রহমান এই দায় স্বীকার করিয়াছেন মর্মে জানাইয়াছেন রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি আরো জানাইয়াছেন যে, ঘটনার দিন মাইকিং করানো, লোকজন সংঘবদ্ধ করা, মানববন্ধন ও সমাবেশে নেতৃত্ব দেওয়ার কাজটি তিনি করিয়াছেন। এই জবানবন্দিতে তিনি দায় স্বীকার করিয়াছেন পুরা ঘটনায় জড়িত থাকিবারও। ইহার পূর্বেও বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে উঠিয়া আসিয়াছিল যে, রংপুরে হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত। হামলার পর পরই সেই সময় অভিযোগ উঠিয়াছিল যে, ওই হামলার ব্যাপারে প্রস্তুতি চলিতেছিল কয়েকদিন ধরিয়াই। মাঝে মিছিল-সমাবেশও হইয়াছে। বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে গ্রামের ৩০টি হিন্দুবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছিল।

কোনো একটি উপলক্ষ তৈরি করিয়া কিংবা বিনা উপলক্ষেই এলাকা-বিশেষে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করিয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত লজ্জার। কিছু দিন পূর্বে নাসিরনগর, গোবিন্দগঞ্জ ও অভয়নগরে যথাক্রমে দরিদ্র হিন্দুপাড়ায়, সাঁওতাল বসতিতে এবং মালো (জেলে) পাড়ায় ঘটে হামলার ঘটনা। অজুহাত ভিন্ন হইলেও অভিযোগ রহিয়াছে যে, এইসকল হামলার লক্ষ্য হইল ওইসকল সংখ্যালঘুর জায়গা-জমি-বাস্তুভিটা এবং সম্পদ-সম্বল দখল। বলিবার অপেক্ষা রাখে না, কেহ যদি ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দিয়া থাকেন তাহার অপরাধের শাস্তি আইন অনুযায়ীই হইবে। কিন্তু যদি ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটানো হয়—অর্থাত্, ধর্মকে অবমাননা করা হইয়াছে—এই অজুহাত তুলিয়া ধর্মপ্রাণ নিরীহ মানুষকে উত্তেজিত করা হয়, তবে তাহা অত্যন্ত ঘৃণিত অপরাধ বটে। রামুর উত্তম, নাসিরনগরের রসরাজ বা রংপুরের আলোচ্য ঘটনার টিটুও যে, ফেসবুক জালিয়াতির উদ্দেশ্যমূলক শিকার হইতে পারে, তাহা আমাদের প্রশাসনকে বুঝিতে হইবে। সন্দেহ নাই যে রংপুরের ঘটনা রামু ও নাসিরনগরের ঘটনার ধারাবাহিকতায় সংঘটিত।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন কোনোক্রমেই কাম্য নহে। আমরা দেখিয়াছি, ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এই বত্সরের শেষার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করিয়াও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করিতে পারে স্বার্থান্বেষী মহল। সুতরাং ফেসবুকসহ যেকোনো সামাজিক মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাইয়া এইব্যাপারে সদাসতর্ক থাকিতে হইবে। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকেও বুঝিতে হইবে, তাহাদের যেন কেহ কোনো উদ্দেশ্যমূলক অপতত্পরতায় ব্যবহার করিতে না পারে। সর্বোপরি, হামলাকারীদের ব্যাপারে প্রশাসনকে আপসহীন হইতে হইবে।