সংকটে ধুকছে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিট

0
163

টাইমস ডেস্ক:
জনবল, আইসিইউ’র অপ্রতুলতাসহ নানান সংকটে ভুগছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিট। প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ হয়নি ইউনিটটি। ১শ শয্যার ইউনিট হওয়ার কথা থাকলেও স্থান জটিলতায় ফিরিয়ে দিতে হয়েছে শতকোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব। পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের অগ্নিদগ্ধ রোগীর শেষ ভরসা এই ইউনিটটি যেন জ¦লছে নিভু নিভু প্রদীপের মতো। সক্ষমতা মাত্র ২৬ শয্যার হলেও এই ইউনিটে প্রতিদিন ভর্তি থাকে ৭০-৮০ জন রোগী। শুধু তা-ই নয়, চিকিৎসক সংখ্যাও মাত্র ৫ জন। এত বিপুল সংখ্যক রোগীর সেবা দিতে এই চিকিৎসকদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। এ ছাড়া নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সংকট থাকায় গুরুতর রোগীদের বাধ্য হয়ে নিয়ে যেতে হয় ঢাকায়। জানা গেছে, ২০১৪ সালে ১০০ শয্যার বিশেষায়িত একটি বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবনায় ১০ শয্যার আইসিইউ ছাড়াও তিনটি অস্ত্রোপচার কক্ষ এবং অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়। সে অনুযায়ী ২০১৬ সালে এই প্রকল্পের অর্থায়নে এগিয়ে আসে চীন সরকার। বার্ন ইউনিট গড়ে তুলতে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনাও করে চীন। কিন্তু চমেক কর্তৃপক্ষ বার্ন ইউনিট স্থাপনের জায়গা দিতে না পারায় অর্থায়ন থেকে সরে আসে চীন। চমেক হাসপাতালের তথ্যমতে, বর্তমানে বার্ন ইউনিটে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক, একজন রেজিস্ট্রার ও দুজন সহকারী রেজিস্ট্রার আছেন। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকও চিকিৎসা দেন রোগীদের। কিন্তু অধিক সংখ্যক রোগী হওয়ায় যথাযথ চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চমেক হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে বার্ন ইউনিটটে ভর্তি আছেন ৭৪ জন রোগী। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় বেশিরভাগ রোগীকে রাখা হয়েছে মেঝেতে। এতে ইনফেকশন বাড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী বলেন, ভর্তি হলেও তেমন একটা চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না হাসপাতালে। রোগীর সংখ্যাও অনেক বেশি। এখানে চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ঢাকায় যেতে হচ্ছে অনেককে। চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, সীমিত জনবল দিয়ে সাধ্যমতো সেবাদানের চেষ্টা করছি। ২৬ শয্যার বিপরীতে ৭০-৮০ জন রোগী থাকে। শীতকালে এই সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টাই জরুরি এই ইউনিটে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এ ছাড়া নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রও নেই। এজন্য জটিল রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে হয়। এই সংকট কবে নাগাদ কাটবে, তা অনিশ্চিত। এ বিষয়ে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম বলেন, আলাদা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে অনেক আগেই। চীন সরকারের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি চুক্তিও হয়। কিন্তু জায়গা নির্ধারণজনিত জটিলতায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী হওয়া স্বত্বেও এই অঞ্চলে পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট গড়ে না ওঠা দুঃখজনক। বড় ধরনের কোনো অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটলে তা সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা নেই চমেক বার্ন ইউনিটে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ডেপুটি গভর্নর আমিনুল হক বাবু বলেন, ১ কোটি মানুষ বসবাস করে এই শহরে। এত বড় জনগোষ্ঠির জন্য মাত্র ২৬ শয্যার বার্ন ইউনিট অতি নগণ্য। সময় থাকতে এখনই কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নিমতলী কিংবা বেগুনবাড়ি ট্র্যাজেডির মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। চট্টগ্রামে ১শ শয্যার একটি বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠা করার অত্যন্ত জরুরী।