শ্লীলতাহানির অভিযোগ অসত্য দাবি দাকোপের শিক্ষকের

0
497

আজিজুর রহমান, দাকোপ (খুলনা) থেকে :
খুলনার দাকোপ উপজেলায় গুনারী শীতল চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শশাংক সানার বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ। জেলহাজতে শিক্ষক, অনেকের মন্তব্য ঘটনাটি সত্য নয় বানোয়াট।
গত বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) উক্ত স্কুলের ৪র্থ শেন্রীর এক ছাত্রীর বাবা তার শিশু কন্যাকে যৌন হয়রানির দায়ে দাকোপ থানায় শিক্ষক শশাংক সানার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছে। মামলা নম্বর-০৪। এরপর থানা পুলিশ গত শনিবার (১০ মার্চ) অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এ ঘটনার পর এলাকায় দু’টি গ্রæপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মামলার এজাহারে জানা যায়, উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের গুনারী শীতল চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসরুমে ডেকে নিয়ে গত রোববার (২৫ ফেব্রæয়ারী) বেলা ২টা ৩০ মিনিটে অভিযুক্ত শিক্ষক বালিকাটির যৌন হয়রানি ঘটিয়েছে।
গত সোমবার গুনারি গিয়ে জানা যায়, ওই দিন বেলা ২টায় শীতল চন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শীতল চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক স্কুলের পাশে তাঁদের এক প্রাক্তন ছাত্রের ছেলের মুখে ভাত অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ খেতে যান। এ বিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কাকলী গোলদার, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহ-প্রধান শিক্ষক পরিমল কান্তি মিস্ত্রীসহ অন্যান্য সহকারী শিক্ষক এবং নিমন্ত্রনবাড়ীর প্রধান কর্তা বাবুরাম মন্ডল জানান, গত ২৫ ফেব্রæয়ারী সকল শিক্ষকের সাথে অভিযুক্ত শিক্ষক বেলা ২টায় নিমন্ত্রণ বাড়ীতে যান এবং প্রায় ৪টার দিকে সেখান থেকে চলে যান। কাকলী গোলদার জানান ওই দিন ২টার পর আর স্কুল চালানো হয়নি।
যে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ঘটানো হয়েছে বলা হচ্ছে তার ৪র্থ শ্রেনীর অন্য সহপাঠিরা বলে, সেদিন ২টার সময় স্কুল ছুটি হয়ে যায় আর আমাদের সাথে সেও বাড়ী চলে যায়।
ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রাজেন্দ্রনাথ সরদার ও বিদ্যুৎসাহী সদস্য ইরামতি ঘরামী বলেন, ঘটনা ঘটার কথা বলা হচ্ছে ২৫ ফেব্রæয়ারী আর সভাপতি মিটিং ডেকেছে ৭মার্চ। এমন একটি ঘটনা যদি ঘটে তাহলে কেন মেডিকেল চেক-আপ করা হয়নি। পাতানো ঘটনা ঘটিয়ে শশাংক সানার কাছেও মোটা অংকের টাকার দাবি করা হয়। তিনি টাকা না দেওয়ায় বিষয়টি এতদুর গড়িয়েছে। তার আরও জানান, মাধ্যমিক স্কুলের এবং প্রাথমিক স্কুলের সভাপতি দীনেশ নারায়ন সরদার স্কুলে নিয়োগ এলেই নিয়োগ বানিজ্য করে থাকেন । প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাইট গার্ড কাম পিওন নেওয়ার বিষয়ে তিনি বানিজ্য করতে চেয়েছিলেন এ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের উপর সভাপতির রাগ রয়েছে। ইতিপূর্বে ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি মনিন্দ্র নাথসহ কয়েকজন সদস্য আমাদের সাথে উক্ত দুই শিক্ষকের বদলি করানোর বিষয়ে আলাপ করেছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ম্যানিজিং কমিটির সদস্য জানান, উক্ত স্কুলের সভাপতির পরিবার পরিজন গত ৩০ বছর ধরে ভারতে থাকেন, তিনি দুই দেশের বাসিন্দা। স্কুলে নিয়োগ এলে তিনি এসে মোটা অংকের বানিজ্য করেন। তার ইচ্ছামত সব না হলে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের অপসারণের দাবির কারণ জানতে চাইলে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাকলী গোলদার জানান, স্কুলের নাইটগার্ড-কাম পিওন নিয়োগ-এর বিজ্ঞপ্তি এলে আমাদের স্কুলের জন্য ২০ জন প্রার্থী আবেদন করে। তখন স্কুলের সভাপতি থানায় সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ভোলানাথ মন্ডলের আপন বড় ভাইয়ের ছেলে গুরুদাস মন্ডলকে টাকার বিনিময়ে চাকুরী দিতে চায়। আমি তখন তাতে রাজি না হয়ে বলি, নিয়োগ কমিটি যাকে নিয়োগ দেবেন আমি তাকে নিয়ে কাজ করব। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শশাংক বিশ্বাসের সাথেও সভাপতির কথা কাটাকাটি হয়। তখন থেকেই সভাপতি আমাদের বদলির জন্য বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমার সহকারী শিক্ষককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিশেষ কারণে অবশ্য উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাইট গার্ড নিয়োগ আপাতত বন্ধ রয়েছে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দীনেশ নারায়ন সরদারের কাছে ২৫ ফেব্রæয়ারির ঘটনা কেন ৭মার্চ সভা ডাকা হলো এ বিষয়ে জানতে চাইলে। তিনি সঠিক কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, বিভিন্ন কারণে বিলম্ব হয়েছে। মেয়েটির আসলে যৌন হয়রানি ঘটানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে। তিনি জানান, অভিভাবক বলছে তাই শুনলাম এর বেশী কিছু জানি না।
এদিকে বিষয়টির সত্যতা উৎঘাটনের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে একটি তদন্ত টিম উক্ত স্কুল ভিজিট করেন গত ১২ মার্চ। তদন্ত টিমের প্রধান সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পলাশ মন্ডল জানান। তদন্ত করতে এসে দেখলাম দু’টি গ্রæপ। মৌখিক বক্তব্য শুনতে গেলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে আবার লিখিত বক্তব্য দিতে বললে কেউ দিতে রাজি হচ্ছে না তাই তদন্তের সার্থে অন্য উপায় অবলম্বন করা হবে।