শোকে পাথর রূপসাবাসী, নেপাল ট্রাজেডি; আলিফের লাশ বাড়িতে

0
561

সাইমুম মোর্শেদমারুফ হোসেন পান্না খুলনা থেকেঃ
নেপালে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় খুলনার আলিফুজ্জামান আলিফের ভাগ্যে কি ঘটেছে- সেটি সপ্তাহ খানিক আগেই প্রকাশ পেয়েছে সমস্ত গনমাধ্যমে।নেপালে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নিহত সবার লাশ দেশে ফিরলেও, ফেরা হয়নি আলিফের।দুই দিন পরে গতকাল বৃহস্পতিবার আলিফকে দেশে আনা হয়। আর এই দুইদিন আলিফের পরিবারের সদস্যদের সময় কেটেছে উৎকণ্ঠায়। গত ১৯ মার্চ বুধবার বিভিন্ন গনমাধ্যমে আলিফের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করায় শোকে পাথর হয়ে পড়েছিলো আলিফের পরিবার সহ সমস্ত খুলনাবাসী। স্তব্ধ হয়েছিলো আলিফের মমতাময়ী মায়ের কণ্ঠস্বরও। বাকরুদ্ধ হয়ে অসহায়ের মতো ছেলের পথের দিকে চেয়ে ছিলেন তিনি। আলিফুজ্জামানের বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোল্লা আসাদুজ্জামান বিলাপ করে বলছিলেন ‘বাবা তুমি কোথায় চলে গেলে, আল্লাহ আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দাও, আমি আর কিচ্ছু চাইনা’ অবশেষে আলিফ বাড়ি ফিরলো,তবে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো।

 

 

গত ১২ মার্চ নেপালে বিমান বিধ্বস্তে নিহত রূপসা উপজেলার আইচগাতী গ্রামের আলিফুজ্জামান আলিফের লাশ গতকাল ২২ মার্চ গভীর রাতে গ্রামের বাড়ীতে এসেছে। আজ ২৩ মার্চ জুম্মা বাদ বেলফুলিয়া ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় নামাযের জানাজা শেষে রাজাপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

আলিফের ছোট ভাই ইয়াছির আরাফাত জানান, গতকাল ২২ মার্চ বিকাল ৫:২০ টায় নেপাল থেকে তার ভাই আলিফের মৃত দেহটি পেয়েছেন। এরপর আলিফকে ঢাকা বাইতুল মোকাররম জামে মসজিদে কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে একটি জানাজা সম্পন্ন করানো হয়। উল্লেখ্য নেপালে বিমান বিধ্বস্তে ২৬ জন বাংলাদেশীর মৃত্যু হলেও সম্প্রতি ২৩ জনের মৃতদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। কিন্তু আলিফের লাশ পুড়ে বিবর্ণ হয়ে যাওয়ায় নিহত আলিকুজ্জামান আলিফের লাশ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তার বাবা-মার রক্তের নমুনা নেয়া হয়েছে। সোমবার ১৯ মার্চ রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি অফিসে রক্ত দেন তারা আলিফের বাবা মোল্লা আসাদুজ্জামান ও মা মনিকা বেগম তাদের রক্ত দেন।মা-বাবার ডিএনএ পরীক্ষার পর তা আলিফের ডিএনএ রিপোর্টের সাথে মিল হওয়ায় অবশেষে গতকাল নেপাল থেকে আলিফের লাশ দেশে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, ১২ মার্চ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ৪৯ আরোহীর মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে চার পাইলট-ক্রুসহ ২৬ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ২৩ জনকে শনাক্ত করে ১৯ মার্চ দেশে নিয়ে আনা হয়।

এদিকে আলিফকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে খুলনার রুপসা এলাকায় বিশাল জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়েছে।
আলিফের বন্ধু আত্বীও সহপাঠী সহ আলিফের পরিচিতজনেরা আলিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্মৃতির কথা আওড়াচ্ছেন। সময় যতই গড়িয়ে যাচ্ছে ততই স্বজনদের ভিড় বাড়ছে। বাড়ছে শোকের মাতম।

জানা যায়,আলিফ রূপসার বেলফুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং খুলনার আহসান উল্লাহকলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। এরপর ২০০৭ সালে তিনি কাজের সন্ধানে সৌদিতে যান। সেখান থেকে ২০১০ সালে ফিরে খুলনা সিটি কলেজে ভর্তি হয়ে ডিগ্রি পরীক্ষা দেন। সর্বশেষ তিনি খুলনার বিএল কলেজ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এখনও কয়েকটি পরীক্ষা বাকি রয়েছে।এছাড়াও, খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা ও বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন তিনি। খুলনার বিএল কলেজ থেকে এবার মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। ৩ ভাইয়ের মধ্যে আলিফুজ্জামান ছিলেন মেঝ।

আলিফের দুলাভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, ৬ মাস আগে আলিফের বড় ভাই বিয়ে করেছে। আলিফ ঠিকাদারী ব্যবসা করতো, আলিফকে বিয়ে দেয়ার কথা চলছিল।

আলিফের বন্ধু জিয়াউল হক মিলন বলেন, আলিফ তার বাল্যবন্ধু ও সহপাঠী ছিলো। ওর সাথে দেখা হলে সব সময় হেসে কথা বলতো। ওর মাস্টার্স পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার মধ্যে ১০ দিনের গ্যাপ থাকায় সেই সময়ে নেপাল যাচ্ছিল। ও ঘোরাঘুরি খুব পছন্দ করতো। ফেরুয়ারির মাঝামাঝি ইন্ডিয়ায় গিয়েছিলো।

আলিফের ভগ্নিপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৬ মাস আগে আলিফের বড় ভাই বিয়ে করেছেন। আলিফের বিয়েরও কথা চলছিল।’