শেষ দিনের প্রচারণায় উৎসবের আমেজ

0
395

এম জে ফরাজী : সকাল থেকেই ঝড়ো হাওয়া-বৃষ্টি। তবুও ম্লান হয়নি প্রার্থীদের প্রচারণা। ঝড়-বৃষ্টির ফাঁকে ফাঁকে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। সেই কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত শেষ বারের মতো প্রচারণা, মিছিল, কুশল বিনিময় করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত খন্ড খন্ড মিছিলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় খুলনায়। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজ নিজ ওয়ার্ডে মেয়র প্রার্থী ও নিজের পক্ষে বিশালাকার শোডাউন করেছেন। ভোটার ছাড়া শিশুরাও অংশ নেয় মিছিলে। হাতে প্রতিকী মার্কা, মুখে ভুভুজেলা এ যেন অন্যরকম পরিবেশ। সব মিলিয়ে গতকাল রবিবার খুলনা ছিল মিছিলের নগরী। শেষ দিনের প্রচারণাজুড়ে ছিল আনন্দ উৎসব। উৎসবের আমেজে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পছন্দের প্রার্থীর প্রচারণা অংশ নেন সাধারণ নারী-পুরুষরা।
দিনের শুরুতে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে নগরীর দৌলতপুর এলকায় গণসংযোগ ও পথ সভা করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। আর নিজ বাসভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে কর্মর্সচি শুরু করেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫ মেয়র প্রার্থীর জন্যই রবিবার ছিল বিরামহীন প্রচারণার দিন। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি তারা ভোটারদের সাথে সালাম ও কুশল বিনিময় করেন। আগামীকাল মঙ্গলবার খুলনা সিটিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বিজিবি মোতায়েন : খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের নিরাপত্তায় ১৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিজিবি সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টহলসহ নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। বিষয়টি বিজিবি খুলনা সেক্টরের টুআইসি মেজর হান্নান খান নিশ্চিত করেছেন।
মেজর হান্নান খান জানান, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ১৬ প্লাটুন অর্থাৎ ৬৪০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা টহল ও স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার দিকে সতর্ক নজর রাখছেন।
সরঞ্জামাদি বিতরণ ও নিরাপত্তা : ভোটের আগের দিন আজ সোমবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে মালামাল পৌঁছানো ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ২২-২৪ জন আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে খুলনা সিটিতে তিন ধাপে নির্বাহী হাকিম দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটের আগে-পরে চার দিন বিচারিক হাকিম রয়েছে মাঠে। খুলনায় ভোটের দিন নির্বাহী হাকিম থাকবেন ৪৯ জন ও বিচারিক হাকিম ১০ জন। পুলিশ-এপিবিএন-আনসার ব্যাটালিয়ান নিয়ে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ১০টি টিম; র‌্যাবের ৩১টি টিম; বিজিবি থাকবে ১৬ প্লাটুন। ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষক থাকবেন ১০ নির্বাচন কর্মকর্তা।
যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা : খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন উপলক্ষে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ৮৮ ধারার বিধান বলে খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিন উল আহসান কেসিসি এলাকায় কতিপয় যান্ত্রিক যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। ১৪ মে দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৫ মে দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, বেবিট্যাক্সি/অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক এবং টেম্পো ইত্যাদি চলাচল করতে পারবে না। তাছাড়া ১৩ মে দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৬ মে সকাল ছয়টা পর্যন্ত সকল ধরণের মোটর সাইকেল চলাচল করতে পারবে না। নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত যানবাহন, জরুরী চিকিৎসা, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সেবা প্রদান কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাভূক্ত হবে না। এ আদেশ অমান্য করা হলে তা দন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।