শিশু শিক্ষার্থীদের কান্নার রোল : ডিসি’র সাথে আজ বসবেন অভিভাবকরা 

0
352
কামরুল  হোসেন মনি:
শিশু শিক্ষার্থী সাফিয়াল মোস্তালিন। এবার ৩য় শ্রেণীতে সরকারি জিলা স্কুলে ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পূর্বে ঘোষিত ফলাফলে ‘ডে শিফটে’ ওই স্কুলে মেধা তালিকায় তার নাম ওঠে। ছেলের সাফল্যতে খুশিতে বাবা-মা আত্মীয়-স্বজনকেও মিষ্টি মুখ করান। ছেলের ভর্তির জন্য স্কুল ড্রেস ও ভর্তি ফরমও সংগ্রহ করেন। এই আনন্দ একটি ঘোষণায় ম্লান হয়ে যায়। আনন্দের পরিবর্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চোখে নেমে আসে কান্নার রোল।
শনিবার জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেনীতে ভর্তি পরীক্ষায় পূর্ব ঘোষিত ফলাফল বাতিল করে সংশোধিত ফলাফল ঘোষণায় শিশু শিক্ষার্থী সাফিয়াল মোস্তালিন এর নামের তালিকায় ওঠেনি। তার মতো আরো অনেক শিক্ষার্থীদের একই অবস্থা পরিনত হয়। শিশুদের ভর্তি ফলাফল নিয়ে স্কুল ও জেলা প্রশাসনের এ গাফিলতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মোঃ সেলিম হোসেন তার ছেলে সাফিয়াল সোস্তালিন জড়িয়ে কান্নারত অবস্থায় বলেন, বাতিল হওয়া ফলাফলে তার ছেলে উত্তীর্ণ হয়েছিল। এ জন্য তার ছেলের স্কুল ড্রেস বানাতে দেয়া হয়। পরবর্তীর তালিকায় তার ছেলের নাম নেই। সেন্ট জোসেফস স্কুলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল, এখন সেই সুযোগও নেই। ছেলেটি খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, স্কুলে ভর্তির তালিকা আরও একদিন সময় নিয়ে প্রকাশ করতো। এখন বলছে ত্রুুটির কারণে এটা সংশোধন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের আজ এই পরিস্থিতি। তিনি ওই পূর্বে ঘোষিত ভর্তির ফলাফল প্রকাশটি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। আমরা স্থানীয় এমপির সাথে কথা বলেছি। আজ জেলা প্রশাসক’র সাথে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে বসার সিদ্বান্ত হয়েছে।
ব্যবসায়ী শেখ ওবায়দুল ইসলাম বলেন, তার শিশু পুত্র শেখ রাতুল ইসলাম পূর্বে ঘোষিত ভর্তির তালিকায় নাম ছিল। শনিবার সংশোধিত তালিকায় তার ছেলের নাম না থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মেধাতালিকায় তার ছেলের নাম ছিল। এতো দিনের পরিশ্রম এক নিমিষেই ভেঙ্গে গেল। এই অবস্থায় তার শিশু পুত্র কান্নাকাটি করছেন, খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিছেন।
ফারাবি হোসেন’র মা ফারজানা আক্তার জানান, তার ছেলে জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। তিনি এমনই খুশিতে বাড়ীর সকলকে মিস্টি খাওয়ান। জেলা স্কুলে ভর্তির জন্যও তিনি প্রস্তুতি নেন। কিন্তু ডিসি এমনই সময় পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত করে দেন। এতে করে তারা দুচিন্তায় পড়েন। সেই দুচিন্তাই অবশেষে দ্বিতীয় দফায় ফলাফল ঘোষণার পর সত্য হলো। তার ছেলে এবার কৃতকার্য হতে পারেনি। এতে করে তারা পুরো পরিবার ক্ষোভে ও দুঃখে ফেটে পড়েন। অভিভাবক সেলিম হোসেন বলেন, সার্ভার নস্ট হলে ডিসি রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করলো কেন। তারপর জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ই বা কি দেখে স্বাক্ষর করলেন। সব কিছু ঠিক করার পর তা আবার কিভাবে ভূল হলো। তিনি অবিলম্বে এ ফলাফল স্থগিত করে পূর্বের ফলাফল বহাল রাখার জোর দাবি জানান। অভিভাবক আহসান হাবিব বলেন, পূর্বের ফলাফল বহালের জন্য যা যা করার দরকার তাই করা হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এড. কুদরত ই খুদা বলেন, এখন শিশুদের মনের ওপর কি প্রভাব পড়েছে তা কি ডিসি বুঝবেন। অনিয়মের কারণে আজ তাদের ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেল। দিন রাত কোমতলমতি শিশুসহ তার অভিভাবকরা কস্ট করে যে ফল পেল তাও আবার বাতিল করা হলো। এ সব অনিয়ম রুখতে অবিলম্বে কোমলমতি শিশুদের ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের জোর দাবী জানান এ নাগরিক নেতা। একই সাথে ঘোষিত পূর্বের ফলাফল বহালেরও দাবী তাঁর।
 শনিবার সকালে জিলা স্কুলের ৫৭ জন, ইকবাল নগরের ৭৬ জন, দৌলতপুর মুহসীন স্কুলের ৮ জন এবং মন্নুজান স্কুলের একজন ভর্তি পরীক্ষার উত্তীর্ণ তালিকা থেকে বাদ পড়ায় নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হয়।
অভিভাবকদের পক্ষে মো. সেলিম হোসেন লিখিত বক্তব্য বলেন, গত ১৯ ডিসেম্বর খুলনা জিলা স্কুল ও সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির জন্য ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী ওই রাতেই ফলাফল ঘোষণার কথা থাকলেও ফলাফল ঘোষণা করা হয় ২১ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৬টায়। ঘোষিত ফলাফলে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য ফরম বিতরণ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ করে ২১ ডিসেম্বর রাতে খুলনা জেলা প্রশাসক ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করেন। পুনরায় শনিবার সকাল ৯টায় ¯’গিত থাকা ফলাফল ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। ঘোষিত ওই ফলাফলে খুলনা জিলা স্কুলের দিবা বিভাগের ১২০জনের মধ্যে ৫৭ ছাত্র বাদ পড়ে। একইভাবে সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ১২০জনের মধ্যে ৭৬জন ছাত্রী বাদ পড়ে। ফলাফল ঘোষণার পর পূর্বে উত্তীর্ণ হওয়া শিশুরা পরবর্তীতে ঘোষিত ফলাফলে তাদের নাম না থাকায় তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।
উল্লেখ্য, ২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসক আমিন-উল-আহসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ ও ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত খুলনা মহানগরীর ৭টি সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩য় ও ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়। যা অনিবার্য কারনবশতঃ স্থগিত ঘোষণা করা হলো।