শিবচরে পদ্মায় বাল্কহেড ও স্পিডবোট সংঘর্ষ, ২৬ মরদেহ উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন

0
63

টাইমস ডেস্ক:
সোমবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শিবচর উপজেলার বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে পদ্মা নদীতে কাঁঠালবাড়ি ঘাটের অদূরে একটি বাল্কহেডের (বালু টানা কার্গো) সাথে স্পিডবোটের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নৌ-পুলিশের একটি দল দ্বিতীয় দফা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কাঁঠালবাড়ি নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে যাত্রীবাহী একটি স্পিডবোট বাংলাবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভোর প্রায় ৬টার দিকে স্পিডবোটটি শিবচর কাঁঠালবাড়ি (পুরাতন ফেরিঘাট) ঘাটের কাছে আসলে পদ্মা নদীতে থাকা একটি বাল্কহেড এর পেছনে সজোরে ধাক্কা লেগে উল্টে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে নৌপুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নিহত রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট শংকরদির পাড় গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে বয়াতীর ছেলে আবু তাহের বয়াতী, কুমিল্লার দাউদকান্দি গৌরীপুর-এর আবুল হোসেনের ছেলে কাউছার, চাঁদপুর মতলব থানার মোহনপুর গ্রামের আলী হোসেন, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থানার ছাদেক বেপারীর ছেলে রিয়াজউদ্দিন, ফরিদপুর বোয়ালমারী থানার একই পরিবারের বাবা-ছেলে পান্নু সরদার ও তার ছেলে ইয়ামিন-এর পরিচয় জানা গেছে। সংবাদ লেখা পর্যন্ত অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি। লাশগুলো উদ্ধার করে কাঁঠালবাড়ি ঘাটের পাশে একটি স্কুল মাঠে রাখা হয়েছে। সেখানে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন। এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উপ-পরিচালক মো: আজহারুল ইসলামকে প্রধান করে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন।
কাঁঠালবাড়ি নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর থেকে আমরা ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করেছি। দুইজনকে আহতাবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কতজন বোটে ছিল তা জানা যায়নি। প্রথম দফার পর বর্তমানে দ্বিতীয় দফা উদ্ধার কাজ চলছে।’
উল্লেখ্য, লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকার পাশপাশি নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে এরই মধ্যে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কিছু অসাধু স্পিডবোট চালক সিন্ডিকেট গড়ে অবৈধভাবে প্রথম থেকেই যাত্রী পারাপার করে আসছে।