শিক্ষামন্ত্রীর পিওসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0
368

অনলাইন ডেস্ক :
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মো. মোতালেব হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিন এবং লেকহেড স্কুলের পরিচালক খালেক হাসান মতিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার দিনগত রাতে ডিবির এসআই মনিরুল ইসলাম মৃধা বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলাটি করেন।

বনানী থানার ডিউটি অফিসার এসআই রফিজ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার রাতে ঘুষের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ১৬১, ১৬২ ও ১৬৩ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতে তোলা হবে।

এরআগে রোববার রাতে মোহাম্মদপুরের বছিলা থেকে মোতালেবকে এবং নাসির উদ্দিন ও খালেদ হাসান মতিনকে গুলশান থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এই তিনজনের মধ্যে মোতালেব ও মতিনকে ২০ জানুয়ারি বিকেলে বছিলা ও গুলশান থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যায় বলে থানায় জিডি করা হয়েছে। আর ১৮ জানুয়ারি বনানীর একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সেখান থেকে বেরোনোর পর দুপুর থেকে নাসিরের খোঁজ মিলছিল না বলে তার পরিবার জানিয়েছিল।

তবে, রোববার গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই তিনজনই তাদের হেফাজতে আছে। ওই তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্বীকার করে রোববার রাতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেছিলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নানা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোতালেব ও নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাসিরের কাছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। আর মতিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগে।

শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নে। আগে থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরি করলেও দুই বছর আগে নাহিদের পিও হিসেবে বদলি হয়ে তিনি মন্ত্রীর দফতরে আসেন। মোতালেব গ্রিন রোডে সরকারি কোয়ার্টারে থাকেন। বছিলায় নিজস্ব জমিতে তিনি ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করছেন। সেখান থেকেই তাকে তুলে নেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছিল পরিবার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেকহেড গ্রামার স্কুল খুলে দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডে ফাইল চালাচালি করছিলেন শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব এবং উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিন। লেক হেড গ্রামার স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এরা মোটা অংকের টাকা নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছিলেন।

জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা ও ধর্মীয় উগ্রবাদে উৎসাহ দেয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে লেকহেড স্কুল বন্ধ করে দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি করে এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ করে স্কুলটি চালুর নির্দেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত।