শিক্ষাকে পূজি করে রমরমা বাণিজ্য প্রকাশনী সংস্থা ও শিক্ষকদের 

0
1416

ফকির শহিদুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনাটাইমস: 
খুলনায় শিক্ষাকে পূঁজি করে শিক্ষক ও প্রকাশনী সংস্থার রমরমা বাণিজ্য দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এক বাণিজ্য শেষ হতে না হতেই আরেকটি যাত্রা শুরু করেন তারা। আর এভাবেই বছরজুড়ে চলে তাদের শিক্ষার রমরমা বাণিজ্য। আর কোচিং বাণিজ্যতো আছেই। যদিও এর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কঠোর বার্তা আছে, তবু থেমে নেই শিক্ষার এই বাণিজ্য। বাণিজ্যের মধ্যে রয়েছে নতুন বছরের বুকলিস্ট, স্কুল ড্রেস, কিন্ডার গার্ডেনের নিজস্ব বই-খাতা-ব্যাচ, নির্ধারিত দোকানের গাইড বই ক্রয় সহ নানা উপকরণ।

বছরের শুরুতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলে প্রকাশনী সংস্থারগুলোর লোভনীয় কমিশনের প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতার দৌড়ে বুক হাউজের মালিকরা নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিকে মোটা অংকের অগ্রিম টাকা দিয়ে রেখেছে । আর এই অগ্রিম টাকা পাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠঅনের প্রধানরা স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের অভিবাবকের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে বুক লিস্ট। যেখানে হাতে লেখা নির্দিষ্ট দোকান (ওমুক বুক হাউজ) থেকে বই ক্রয় করতে হবে। অন্যথায় সেই বই চলবে না। প্রয়োজনে এজন্য ছলেবলে বিভিন্ন অজুহাত দেখান সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা ।
আবার কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের বলে দেয় ওমুক গাইড কিনতে হবে । এজন্য বাইরে থেকে ক্রয়ের বদলে তার কাছ থেকে সংগ্রহ করলে কম মুল্যে পাওয়া যাবে বলে  জানান। এরপর শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্যতো আছেই। স্ব স্ব ক্লাস টিচারের কাছে কোচিং করতে বাধ্য হয় শিক্ষার্থীরা । শিক্ষার্থীরা ও অভিবাবকদের মনে একটি আশংকা থাকে যে ক্লাস সারের কোচিং বা ক্লাস সারের নির্ধারিত কোচিং মুখি হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ।
খুলনার বর্তমান জেলা প্রশাসক যোগদানের প্রথম কর্মদিবসে কোচিং বানিজ্য নিয়ে কঠোর হুশিয়ারী দেন। তবুও থেমে নেই অবৈধ্য কোচিং বানিজ্য । বিভিন্ন স্কুলের এক ধরনে অসাধু শিক্ষকরা নিজ ক্লাসের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মগজ ধোলাই করেন যে, তার কোচিংয়ে পড়লে পাশের সম্ভাবনা শতভাগ নিশ্চিত। ফলে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষৎ চিন্তা করে কোচিং পাঠান তার অভিভাবক। এককালিন অথবা মাসিক হারে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিলেও অভিভাবকরা থাকেন নিরব। এভাবেই কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে শিক্ষা বাণিজ্যে চলে দিনের পর দিন।
জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে বছরের প্রথম থেকেই জমজমাট হচ্ছে বুক লিস্ট,ড্রেস টেইলাস্ ও কোচিং সেন্টার। বছর শুরু হওয়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের কাছে ধরিয়ে দেয়া হয় বুক লিস্ট,ড্রেস টেইলাস্ বানিজ্যের তালিকা । প্রথম ও দ্বিতীয় তালিকার পর্ব শেষ হতে না হতেই তৃতীয় ধাপ কোচিং । নগরীর বেশিরভাগ স্কুলগুলোতে ভালোভাবে ক্লাস না হলেও শিক্ষার্থীদের কমতি নেই কোচিংয়ে।
নগরীতে ওপেন কোচিং সেন্টার নিয়ে শিক্ষা বিভাগ বা জেলা প্রশাসনের তেমন কোন তৎপরতার দেখা মিলছে না । খুলনায় বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর নতুন নতুন কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি শিক্ষকের বাসা বাড়িতে গোপনে চলছে কোচিং এর পাঠদান। দৌলতপুর কলেজ রোড, খালিশপুর বিআইডিসি রোড, কোহিনুর মোড় থেকে পৌরসভা মোড়, মহাসিন কলেজ রোড, মুজগুন্নি ও বয়রা আবাসিক ,মহিলা কলেজ রোড, শামসুর রহমান রোড, পিটিআই মোড়, দোলখোলা মোড়, করোনেশন ও জেলা স্কুলের আশপাশসহ অন্যান্য জায়গায় অবিস্থত এ কোচিং সেন্টারগুলো ।
অভিভাবকরা জানান, বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কোচিংয়ে ভাল ক্লাস করান অধিকাংশ শিক্ষকরা।
খুলনা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহ আব্দুল সাদীর সাথে কথা হলে তিনি জানান,সবেমাত্র খুলনায় নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। জেনেছি জেলা প্রশাসক স্যার কোচিং বানিজ্যের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে। অবৈধ্য কোচিং বানিজ্য বন্ধে তিনি জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানান
খুলনা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর টি এম জাকির হোসেন বলেন, শিক্ষা আইন পাস হলে কোচিং সেন্টার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। তাছাড়া স্কুল সময়ে কোনভাবেই কোচিং করতে দেওয়া হবে না। যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং বানিজ্যে জড়িত রয়েছে, সুনির্দিষ্ঠ তথ্য পেলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।