শিক্ষক-কর্মচারীদের আমরণ অনশন রোববার থেকে

0
251

টাইমস ডেস্ক :
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা রোববার আমরণ অনশন শুরু করবেন। ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের ফুটপাতে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে অবস্থান করছেন তারা। রাজপথেই তাদের থাকা-খাওয়া চলছে। সরকারের দায়িত্বশীল কেউ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। এদিকে শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের দাবি পূরণে কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু চাইলেই এমপিওভুক্ত করা সম্ভব নয়। এজন্য অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে।

নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। গত শুক্রবার রাতে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রেস ক্লাবের সামনের ফুটপাতের ওপর কাগজ, কাপড় বিছিয়ে শুয়ে রয়েছেন। পৌষের ঠান্ডা থেকে বাঁচতে অনেকে পলিথিন নিয়েছেন। সকাল থেকেই নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সরব হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারীরা। শনিবার প্রেস ক্লাবের সামনে দেখা যায়, এমপিওভুক্তি, সহকারী শিক্ষকদের মতো বেতন, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়সহ বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন এবং প্লেটে ‘মা ভাত দাও’, ‘মা এমপিও চাই’, ‘করুণা নয় নিজেদের অধিকার চাই’ এমন নানা স্লোগান লিখে শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। মাঝে মধ্যে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে কেউ কেউ গান গেয়ে সবাইকে উৎসাহিত করছেন। নেতারা বক্তৃতা করে তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরছেন।

আন্দোলন সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল বিকেলে ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহামুদুন্নবী ডলার সমকালকে বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীরা নিজেদের অধিকার আদায়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন পার করছেন। এতে অনেকে অসুস্থ হয়েও পড়ছেন। টানা পাঁচ দিন আন্দোলন চালিয়ে গেলেও কেউ তাদের দেখছেন না। দাবি আদায়ে বাধ্য হয়েই তারা আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাচ্ছেন।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য: শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আন্দোলনকারী নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করতে অনেক দিন ধরেই সরকার কাজ করছে। এটা নিয়ে সংসদেও কথা বলেছেন; কিন্তু তিনি চাইলেই হবে না, এটা একটা প্রক্রিয়ার বিষয়। স্থায়ী পদ সৃষ্টি করতে হবে। এর সঙ্গে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় জড়িত, অর্থছাড়ের বিষয় জড়িত। তিনি বলেন, বাজেটে এমপিওর আলাদা বরাদ্দ রাখার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে, বৈঠক করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটিও হয়েছে। সেই কমিটি এ নিয়ে কাজ করছে।

এমপিও দেওয়া না গেলে শিক্ষকদের পাঠদানের অনুমতি দিচ্ছেন কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এই অনুমতি দেওয়ার সময় শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় যে, তারা এমপিও ছাড়াই পড়াবেন। এই শর্ত মেনেই তারা পাঠদানের অনুমতি নেন; কিন্তু পরে আবার আন্দোলন করেন।