শহিদুলের জামিন আবেদন শুনতে বিচারপতি বিব্রত

0
426

খুলনাটাইমস ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিন আবেদনের শুনানিতে বিব্রত বোধ করেছেন এক বিচারপতি। গতকাল বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খোন্দকার দিলিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ । বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য উত্থাপন করা হলে এক বিচারপতির বিব্রতবোধ করার কথা জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, এর ফলে আইন অনুযায়ী বিষয়টি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। প্রধান বিচারপতি আবেদনের শুনানির জন্য তৃতীয় একটি বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহদীন মালিক, সারা হোসেন ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। পরে আইনজীবী সারা হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আদালতকে বলেছিলাম, জামিনের আবেদনটি শুনানি করা হোক। সিদ্ধান্ত কী হবে, সেটি আদালতের ব্যাপার। আমরা শুনানির সুযোগ চাই। কিন্তু আদালত বিব্রত বোধের কথা বলেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আদালত থেকে বলা হলো, বাস্তবতা বুঝতে হবে।

আমি আদালতকে বলেছি, বাস্তবতা কী এটাই যে, একজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানো হবে? তাকে আটকে রাখা হবে?’ সারা হোসেন আরো বলেন, ‘আমরা এই বিব্রত বোধের কারণ জানতে চেয়েছি, কিন্তু কি কারণ সেটি আমাদেরকে জানানো হয়নি। আমাদের আবেদনটি পাঁচ দিন ধরে কার্যতালিকায় রয়েছে। কিন্তু শুনানি করা যায়নি। গতকালও অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষেই সময় নেয়া হয়েছে। তারপরও আজ (গতকাল) কেন আদালত বিব্রত বোধ করেছেন, তা আমরা বুঝতে পারছি না।’ সারা হোসেন বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা পেতে এই আদালতেই আসতে হবে। এখানে এসে যদি নাগরিক হিসেবে ফিরিয়ে দেয়া হয়, তাহলে কোথায় যাবো- সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।’ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘শহিদুল আলমের মামলাটি আজ (গতকাল মঙ্গলবার) শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ছিল। সকালে যখন তাদের আইনজীবীরা আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন, তখন দুজন বিচারপতির মধ্যে একজন বিব্রত বোধ করেছেন। ফলে, এই মামলার নথিপত্র এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। প্রধান বিচারপতি আবার অন্যকোনো বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য নির্ধারণ করবেন।’ এর আগে গত ২৮শে আগস্ট শহিদুল আলমের জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

শহিদুল আলমের আইনজীবীরা জানান, গত ১২ই আগস্ট ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিনের আবেদন করা হলে শুনানির জন্য ১১ই সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়। পরে মহানগর দায়রা আদালতে ২৬শে আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মো. ইমরুল কায়েস এক আদেশে নির্ধারিত তারিখেই (১১ই সেপ্টেম্বর) জামিন শুনানি হবে বলে শহিদুল আলমের আইনজীবীদের জানিয়ে দেন। এরপর শহিদুল আলমের জামিনের জন্য গত ২৮শে আগস্ট হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। প্রসঙ্গত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় শহিদুল আলম একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। পরে উস্কানিমূলক গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গত ৫ই আগস্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় ৬ই আগস্ট তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।