শরণখোলায় বেড়ীবাধ ভেঙ্গে জোয়ারে মানুষ ভাসছে

0
399

শেখ মোহাম্মদ আলী, শরণখোলা থেকে: গত দু’দিন ধরে বগী গ্রামের মানুষ জোয়ারের পানিতে ভাসছে। নিদ্রাহীন ভাবে কাটছে রাত। অনেকের বাড়ীতে চুলোয় ভাতের হাড়ি ওঠেনি । অন্যের বাড়ীতে সাময়িক আশ্রয় নিয়ে খাবার জুটেছে। মঙ্গলবার ভোর রাতে বাগেরহাটের শরণখোলার বগী এলাকায় ওয়াপদা বেড়ীবাধ ভেঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে।
বগী গ্রামের মৃত কালাম মুন্সির স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩০), ও মৃত খালেক হাওলাদারের স্ত্রী ফরিদা বেগম (২৮) তাদের বাড়ীঘরে পানি উঠে যাওয়ায় পাশের এমদাদ মুন্সির বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছেন। খুলনাটাইমস’র কাছে কষ্টের কথা জানিয়ে তারা বলছিলেন মোরা এহোন যামু কই? এ ভাবে অনেকেই অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিদিন দুইবার জোয়ারের সময় বগী, বগী দশ ঘর ও বগী সাত ঘর গ্রামসহ আশে পাশের লোকালয় পানিতে তলিয়ে যায়। বাড়ীঘরে পানি উঠে যায়। পানি ঠেকানোর ব্যবস্থা এখনো করা হয়নি।
সরেজমিনে ভাঙ্গন এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিন’দিন আগে থেকেই অল্প অল্প করে বাধ ভাংতে থাকে। মঙ্গলবার ভোর রাতে বলেশ্বর নদীর জোয়ারের তোড়ে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৩৫/১ পোল্ডারের নির্মানাধিন উপকূলীয় বেরীবাধের (সিইআইপি প্রকল্প)) প্রায় ২০০মিটার অংশ বাধ ভেঙে তিন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিন শতাধিক ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পাঁচ শতাধিক পুকুর ও ঘেরের মাছ । প্রায় ৫ শ একর জমির আমন ক্ষেত বিনষ্টের আশংকা করা হচ্ছে।
বগী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম মুন্সী (৬৫) জানান, ব্যাংক থেকে তিনি লাখ টাকা লোন নিয়ে আমনের চাষ করেছেন। বাধ ভেঙে তাঁর সব শেষ হয়ে গেছে। চাষী জাকারিয়া (৩৫), আফজাল তালুকদার, কামাল পঞ্চায়েত (৩৮) জানান, বাধ ভেঙে বগী, বগী দশ ঘর ও বগী সাত ঘর গ্রামের প্রায় ৫০০ একর জমির আমন ক্ষেত পানির সাথে ভেসে আসা কচুড়িপানায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।। ভেসে গেছে পাঁচ শতাধিক পুকুর ও ঘেরের মাছ । জোয়ারের পানিতে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় বহু পরিবারে রান্নাবান্না হচ্ছেনা।
সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বাধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাতের জোয়ারে আারো পানির চাপ বেশি হয়েছে। বগী থেকে গাবতলা আশার আলো মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার বাধের অন্ততঃ ১০টি পয়েন্ট মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস বলেন, বেরীবাধ ভাঙ্গনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিইআইপি প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি এখনও নিরুপন করা হয়নি।
সিইআইপি প্রকল্পের স্থানীয় প্রকৌশলী শ্যামল দত্ত মোবাইল ফোনে বলেন, ভাঙ্গন এলাকায় পানি ও গভীরতা বেশী । রিংবাধের প্রয়োজনীয় মাটির জমি নেই। স্থাণীয় মানুষ তাদের জমি থেকে মাটি দিলে অবিলম্বে রিংবাধ দেওয়ার কাজ শুরু হবে।