শরণখোলায় বিল থেকে কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার

0
485

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের শরণখোলায় একটি বিল থেকে মো. আরিফ হোসেন (২০) নামের এক কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার নলবুনিয়া কাসিমুল উলুম কওমী মাদরাসার পেছনের বিল থেকে তার লাশ উদ্ধার কওে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত আরিফ খুলনা বিএল কলেজের বাংলা অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলো। বিষয়টি হত্যা না আত্মহত্যা এনিয়ে এলাকায় বেশ জল্পনা চলছে।
তবে, নিহত আরিফ তার নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তার বাবার উদ্দেশে ২৬ মার্চ একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেছে। সেটি হুবহু তুলে ধার হলো- আব্বু আমি পারলমা না, তোমার শাসন পুরোপুরি মেনে নিতে। আমি কেন এমন হলাম, এর উত্তর আমার কাছে নাই। আজ তুমি আমার জন্য অপমানিত। আব্বু আমি পাপী, আমি পারিনি তোমার যোগ্য সন্তান হতে। তোমরা আমার থেকে কতো কিছু আশা করেছিলে, আমি লেখাপড়া করব, কিন্তু আমি পারলমা না। আমি কি করে যেনো হেরে গেছি আব্বু, আমি পাপী আব্বু, আমি পাপী।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মধ্য নলবুনিয়া গ্রামের কাঠমিস্ত্রি আলামিন হাওলাদারের একমাত্র ছেলে খুলনা বিএল কলেজের বাংলা বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলো আরিফ। সে প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় ফেল করায় ২৬ মার্চ দুপুরে বাবা তার কাছে জানতে চাওয়ায় বাপ-ছেলে বেশ ঝগড়াঝাটি হয়। একপর্যায়ে বাপ-ছেলের মধ্যে মারামারিও হয়। এর পর সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। বিলের মধ্যে লাশ পাওয়ার বিষয়ে এলাকাবসীর মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানাতে পারেনি। পরিবারের ধারণা আরিফ ক্ষোভে অপমানে আত্মহত্যা করেছে।

 

এব্যাপারে নিহত আরিফের মা’ আসমা বেগমের কাছে জানতে চাইলে এদিন বিকেল ৪টার দিকে মোবাইল ফোনে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার একটি মাত্র ছেলে। আর দুই মেয়ের একজন প্রতিবন্ধী। প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় ফেল করায় আরিফ বেশ কিছুদিন ধরে ঠিকমতো খাওদাওয়া করতো না। সব সময় মন খারাপ করে থাকতো। সোমবার দুপুরে (২৬ মার্চ) ওর বাবা এনিয়ে রাগারাগি করে। দু-একটি চড়থাপ্পড়ও মারে। এরপর সন্ধ্যায় সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। আর ফেরেনি। ওর বাবার অনেক স্বপ্ন ছিলো ওকে (আরিফ) নিয়ে। কিন্তু সব কিছু শেষ হয়ে গেলো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সহিদুল ইসলাম আকন বলেন, ছেলেটি লেখাপড়ায় বেশ ভালো ছিলো। দরিদ্র বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করে অনেক কষ্টে ছেলের পড়ার খরচ দিতেন। কিন্তু পরীক্ষায় ফেল করায় বাপ-ছেলের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হয়। শুনেছি ফেল করার ব্যাপারে জানতে চাওয়ায় ক্ষীপ্ত হয়ে বাবার গায়ে হাত তুলেছে আরিফ। কিন্তু তার মৃত্যুর বিষয়ে সঠিক কিছু বলা যাচ্ছে না।
শরণখোলা থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. কবিরুল ইসলাম জানান, নলবুনিয়া কওমী মাদরাসার পেছনের বিল থেকে কলেজ ছাত্র আরিফের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের পাশে চালের পোকা মারা (জিংক ফসফেট) ট্যাবলেটের খোঁসা পাওয়া গেছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না। ##