শরণখোলায় চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি : এক সপ্তাহে দু’দোকান সহ ৩ টি গরু চুরি

0
864

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি, খুলনাটাইমস:
বাগেরহাটের শরণখোলায় শরণখোলায় চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারে দুটি দোকান সহ রাজেশ্বর গ্রামে এক কৃষকের ৩ টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। ৯ ও ১১ জানুয়ারী দিনগত রাতে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রায়েন্দা বাজারের শেরে বাংলা সড়কে অবস্থিত একটি বিকাশের দোকান, পূর্ব মাথার একটি মুদি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা কৌশলে বিকাশের দোকানের টিনের চালা কেটে এবং মুদি দোকানের বেড়া খুলে নগদ টাকাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মালামাল সহ কয়েকলাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। অপরদিকে গত ১৩ জানুয়ারি গভীর রাতে রাজেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা বারেক জোমদ্দারের বাড়িতে চোর চক্র হানা দিয়ে তার গোয়ালে থাকা ৩টি গরু নিয়ে গেছে । ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক জানায়, চুরি যাওয়া গরুর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। এসব ঘটনায় বাজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক প্রকার আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বিকাশ ব্যবসায়ী খোকন শিকদার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে গত ১০ জানুয়ারী শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং কৃষক পরিবারের পক্ষ থেকে শরণখোলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত দশ বছরে বাজারটির বিভিন্ন দোকান সংগঠিত চুরির কোন রহস্য উৎঘাটিত না হওয়ায় বাজার পরিচালনা কমিটি সহ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাজারটিতে রাতে পুলিশের টহল কার্যক্রম বন্ধ, পাহারাদার সংকট থাকা সহ বিভিন্ন সড়কের বহু বাতি অকেজো থাকায় চুরির ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। প্রশাসনের তেমন নজরদারী না থাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার বখাটে যুবকরা বাজারের বিভিন্ন অলিগলিতে অবস্থান করে আড্ডায় মেতে ওঠে। এবং ব্যবসায়ীদের দূর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র নানা অনৈতিক কর্মকান্ড চালায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. খোকন শিকদার বলেন, ওইদিন রাত পৌনে একটার দিকে দোকান বন্ধ করে প্রতিদিনের মতো তারা বাড়িতে চলে যান। পরের দিন বুধবার সকাল ৮টার দিকে দোকান খুলে ক্যাশবাক্স ভাঙা এবং দোকানের মালামাল তচনছ অবস্থায় দেখতে পান। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, চোরেরা ক্যাশবাক্স্রের বিভিন্ন ড্রয়ারে রাখা নগদ ২লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ দোকানে থাকা ২০ কার্টন বেনসন সিগারেট, ১০ কার্টন গোল্ডলিফ সিগারেট, ১০ কার্টন ক্যাপেস্টান সিগারেটসহ অন্যান্য মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। যার ক্ষতির পরিমান প্রায় সাড়ে ৩লাখ টাকা। এছাড়া মুদি ব্যবসায়ী তুহিন শিকদার বলেন, ১১ জানুয়ারী গভীর রাতে কে বা কারা তার দোকানের বেড়া খুলে চাল, ডাল, তেল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে।
এ ছাড়া উপজেলার প্রধান এ বাজারটিতে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকলেও তা মূলত অকার্যকর। বাজারে মাত্র দু’জন পাহারাদার রয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিয়মিত পাহারার ব্যবস্থা করা হয়না। ফলে, রাতেরবেলা এতো বড় বাজাটির সহ¯্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার সম্পদ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এসব কারণে এ বাজারটিতে এ পর্যন্ত যতোবার চুরির ঘটনা ঘটেছে তার একটিরও রহস্য আজও উদঘাটন হয়নি। প্রতিবছর এধরণের চুরির ঘটনায় বাজার ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বাজারে পাহারা ব্যবস্থা জোরদার ও চুরির রহস্য উদ্ধারে প্রশাসন এবং বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রায়েন্দা বাজার ব্যবস্থা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, লোকজন বাজার পাহারার কাজে আসতে চায়না। এব্যাপারে প্রশাসনের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এব্যাপারে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবিরুল ইসলাম জানান, চুরির ঘটনায় বিকাশ ব্যবসায়ী খোকন শিকদার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। চুরির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ###