শত শত টন মৃত জাটকা সাগরে ফেলে দেয়ার অভিযোগ : ইলিশ উৎপাদন ভেস্তে যাবার আশংকা

0
572

শেখ মোহাম্মদ আলী, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি :
বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারের বিশেষায়িত আধুনিক ফিসিং  ট্রলিং জাহাজে করে ব্যাপকভাবে জাটকা নিধন ও আহরণকৃত মাছের মধ্যে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি সাইজের শত শত টন মৃত জাটকা ইলিশ সাগরে ফেলে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে ইলিশ উৎপাদনে সরকারের সকল প্রকার উদ্যোগ ভেস্তে যাবার আশংকা দেখা দিয়েছে।

সাগর থেকে ফিরে আসা জেলে ও মৎস্য আড়ৎদার  সুত্রে জানা যায়, চট্রগ্রাম অঞ্চলের দু’শতাধিক ও খুলনার ৬/৭টি বিশেষায়িত আধুনিক মানের ফিসিং ট্রলিং জাহাজে করে যন্ত্রের সাহায্যে ছোট-বড় ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরন করে থাকে। মাছ ধরতে যে জাল ব্যবহার করা হয়, তা খুবই ছোট ফাঁসের। বড় মাছের সাথে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি সাইজের জাটকা ইলিশ ও বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ
ধরা পড়ে  ওই জালে।
শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মজিবর রহমান তালুকদার ও মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ফরাজী জানান, প্রতি গোনে (মাছ শিকারের সময়)  ট্রলিং জাহাজগুলি শত শত টন জাটকা ইলিশ ধরে তাদের ট্রলিং জাহাজে স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রয়োজনীয় বড় মাছ রেখে ছোট জাটকা ফেলে দিচ্ছে সাগরের পানিতে। গত কয়েক সপ্তাহে শরণখোলার জেলেরা ওই ট্রলিং জাহাজ থেকে কিছু খাদ্য সামগ্রী ও নাম মাত্র মূল্যের বিনিময়ে   বেশ কয়েকটি ফিশিং ট্রলার বোঝাই করে ৫/৬ ইঞ্চি সাইজের জাটকা ইলিশ নিয়ে এসেছে।
ট্রলার গুলির মধ্যে উপজেলার রাজৈর গ্রামের জাকির হোসেনের মালিকানাধীন এফবি সাইফুল ইসলাম ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সন্নাসী এলাকার সেলিম মিয়ার এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের নাম জানা গেছে। তারা আরো  জানান, ইলিশ উৎপাদন
বৃদ্ধির জন্য সরকার একের এক নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। ২২ দিন ইলিশ অবরোধ করে সফলতাও এসেছে। ফলে, চলতি বছরে সাগরে ইলিশ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলেদের জালে প্রচুর পরিমানে ইলিশ ধরা পড়েছে। হাসি ফুটেছে ট্রলার মালিক ও জেলেদের মুখে। এতে উপকুল এলাকায় জেলে পল্লী ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রানচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।কিন্তু এভাবে ট্রলিং জাহাজে জাটকা ইলিশ নিধণ হওয়ায় সরকারের উদ্যোগ ভেস্তে যাবে। অপরদিকে, ফিসিং ট্রলিং জাহাজ গুলো অনেক সময় সাধারণ ফিসিং ট্রলারের জাল ছিড়ে নিয়ে বলে শরণখোলার মৎস্য ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান। তিনি অভিযোগ করে বলেন গত সপ্তাহে  ট্রলিং জাহাজ তার লক্ষাধিক টাকা মূল্যের জাল মাছ ধরা অবস্থায় ছিড়ে নিয়ে গেছে। এর প্রতিবাদ করলে ট্রলিংয়ের জেলেরা সাধারণ জেলেদের মারধর করে থাকে ।
বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক দুলাল হোসেন জানান, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি সাইজের ইলিশ (জাটকা) ধরা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ হলেও এ আইনকে তোয়াক্কা না করে চট্রগ্রামের দু’শতাধিক ও খুলনার ৬/৭টি  ফিসিং ট্রলিং জাহাজ বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে এক রকম যুদ্ধ ঘোষনা করে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম শেষ করে দিচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহে পাথরঘাটার টিপু আলমের মালিকানাধীন এফবি আল্লারদান ফিশিং ট্রলার ও মহীপুরের অন্ততঃ ১০টি ট্রলারে আনুমানিক এক’শ মন ৪/৫ ইঞ্চি সাইজের জাটকা ওই ট্রলিং জাহাজ থেকে বিনামূল্যে নিয়ে এসেছে পাথরঘাটা বাজারে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে। সংগঠনের সভাপতি আঃ মান্নান জানান, মৎস্য অধিদপ্তর এবং নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড এ ব্যাপারে যদি দ্রæত ব্যবস্থা না নেয় তাহলে সাগরে ইলিশ উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটবে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেছেন।
শরণখোলা উপজেলা সিনিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় সরকার জানান, বিষয়টি জানার পর উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সাগর এলাকায় জাটকা আহরনে তাদের কিছু করার থাকেনা। তবে, লোকালয়ে কোন প্রকার জাটকা বিক্রি কিংবা মজুদের বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে।
মৎস্য বিভাগের খুলনা অঞ্চলের উপ পরিচালক রনজিৎ পাল জানান, ইলিশ উৎপাদন বুদ্ধির লক্ষ্যে সরকার খুবই আন্তরিক। অভিযোগের বিষয়টি দেখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নেয়া হবে।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন ষ্টাফ অফিসার লেফটেনেন্ট আব্দুল্লাহ্ আল মাহামুদ মুঠোফোনে জানান, এ বিষয়টি তার জানা নেই আর
কোষ্টগার্ডেও  টহল কার্যক্রম গোটা উপকূল সহ দুবলার চর পর্যন্ত গভীর সাগরে টহল করে নৌবাহিনী এ ধরনের খবর পেলে  গভীর সমুদ্রে টহলকারী নৌবাহিনীকে অবহিত করা হবে।