লিগ কাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি সিটি-ইউনাইটেড

0
222

খুলনাটাইমস স্পোর্টস : ইংলিশ লিগ কাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটি। বুধবার কোয়ার্টার ফাইনালে নিজ নিজ ম্যাচে নীচু সারির লিগের দুই প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে শেষ চার নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টারের দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বী। দ্বিতীয়ার্ধে রাহিম স্টার্লিংয়ের দুই গোলে সিটি লিগ ওয়ানের অক্সফোর্ডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে। অন্যদিকে ওল্ড ট্রাফোর্ডে চতুর্থ টায়ারের দল কোলচেস্টার ইউনাইটেডকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনালে উঠেছে ইউনাইটেড। গুডিসন পার্কে লিস্টার সিটির বিপক্ষে স্বাগতিক এভারটন দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল দারুনভাবে লড়াইয়ে ফিরে আসলেও শেষ পর্যন্ত পেনাল্টিতে ৪-২ গোলে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র ছিল। শেষ চারে লিস্টারের প্রতিপক্ষ এস্টন ভিলা। গত দুই মৌসুম ধরে লিগ কাপে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে সিটিজেনরা। তিন বছর আগে লিগ কাপে পেপ গার্দিওলার একমাত্র পরাজয়টি এসেছিল ইউনাইটেডের বিপক্ষে। চলতি মাসের শুরুতে রেড ডেভিলসদের কাছে প্রিমিয়ার লিগে ২-১ গোলের পরাজয়ের প্রতিশোধের একটি সুযোগও এসেছে গার্দিওলার শিষ্যদের সামনে। জানুয়ারিতে লিগ কাপ সেমিফাইনালে দু’টি লেগ অনুষ্ঠিত হবে। ইউনাইটেড ম্যানেজার ওলে গানার সুলশার বলেছেন, ‘সবাই শিরোপা জেতার জন্য মাঠে নামে। সিটির বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে আমি মুখিয়ে আছি। তাদের বিপক্ষে যে আমরা ভাল করতে পারি তা আগেও প্রমান করেছি।’ অক্সফোর্ড সফরে সিটি আটটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। কিন্তু তারপরেও তারা ছিল অপ্রতিরোধ্য। ২২ মিনিটে হুয়াও ক্যানসেলোর গোলে এগিয়ে যায় সিটি। এটি ছিল সিটির হয়ে ক্যানসেলোর প্রথম গোল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাটি টেইলরের গোলে সমতা ফিরিয়ে অক্সফোর্ড ম্যাচটিকে কঠিন করে তুলে। এমনকি সিটির তুলনায় তারা গোলে শটও নিয়েছে বেশি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্টার্লিংই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। ৫০ ও ৭০ মিনিটে এই ইংলিশ স্ট্রাইকারের গোলে সিটির জয় নিশ্চিত হয়। গার্দিওলা বলেন, ‘ম্যাচটি বেশ কঠিন ছিল, তবে শেষ মুহূর্তে আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিয়েছি। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের গোলের জন্য বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। বিশেষ করে প্রচন্ড বাতাসে কর্ণার, থ্রো-ইন ও লং পাস দিতে অসুবিধা হচ্ছিল।’ শেষ আটে জায়গা করে নিতে কোলচেস্টার টটেনহ্যাম ও ক্রিস্টাল প্যালেসের মত বড় দলকে হারিয়েছে। যে কারনে তাদের বিপক্ষে মাঠে নামতে গিয়ে বেশ সতর্ক ছিল ইউনাইটেড। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ নষ্ট করার জন্য মার্কোস রাশফোর্ডকে দোষারোপ করাই যায়। দ্বিতীয়ার্ধের ৬ মিনিটে অবশ্য ইউনাইটেডকে এগিয়ে দিয়ে সেই ব্যর্থতা অবশ্য কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে ইংলিশ এই ফরোয়ার্ড। মৌসুমে এটি তার ক্যারিয়ার সেরা ১৪তম গোল। ইউনাইটেডের অপর দুই গোলেরও যোগানদাতা ছিলেন রাশফোর্ড। ৫৬ মিনিটে রায়ান জ্যাকসনের আত্মঘাতি গোলের পর ৬১ মিনিটে এন্থনি মার্টিয়ালের গোলে ইউনাইটেডের জয় নিশ্চিত হয়। এভারটনের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই দুই গোল করে লিস্টার মৌসুমে তাদের অসাধারণ ফর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিল। জেমস ম্যাডিসন ও জনি ইভান্সের গোলে ২৯ মিনিটেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফক্সেসরা। কিন্তু অস্থায়ী ম্যানেজার ডানকান ফার্গুসনের অধীনে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে এভারটন। ৭০ মিনিটে বেন ডেভিস অসাধারণ এক গোল করে এভারটনের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখেন। ইনজুরি টাইমে লেইটন বেইন্সের গোলে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। লিস্টারের হয়ে ম্যাডিসন প্রথম স্পট কিকটিই নষ্ট করেন। কিন্তু লিস্টার গোলরক্ষক কাসপার শিমেচেল এভারটনের সেঙ্ক টোসান ও বেইন্সের প্রথম দু’টি শট আটকে দিয়ে নায়কে পরিণত হন। এরপর জেমি ভার্দির গোলে লিস্টারের জয় নিশ্চিত হয়।