রোহিঙ্গা সংকটে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বাংলাদেশ

0
248

অনলাইন ডেস্ক : রোহিঙ্গা সংকটে শাšিপূর্ণ সমাধান চায় বাংলাদেশ। রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া নির্যাতিত রোহিঙ্গারা যাতে সসম্মানে নিজ দেশে ফিরে যায়, সেটাই সরকারের লক্ষ্য। সেভাবেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ-ভিয়েতনামের মধ্যে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকে শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা জানান।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভিয়েতনাম বাংলাদেশের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। সফররত দেশটির প্রেসিডেন্ট ত্রান দাই কুয়াং তাদের প্রত্যাবাসনে সব সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট রোববার ঢাকায় পৌঁছেন। সোমবার সকালে তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। সকাল ১০টায় ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপ্রধান আসেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। এ সময় শেখ হাসিনা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক শেষে শুরু হয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। সেখানে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন শেখ হাসিনা, ভিয়েতনামের পক্ষে তাদের রাষ্ট্রপ্রধান ত্রান দাই কুয়াং। এ সময় ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রান দাই কোয়াং এর বাংলাদেশ সফরে দুই দেশের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, শিল্প এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিষয়ে তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপ্রধানের সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার দুই পক্ষে আলোচনা শেষে এসব সমঝোতা সই হয়। আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভিয়েতনামের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ত্রান দাই কোয়াং।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদে সহযোগিতা নিয়ে ২০১২ সাল থেকেই ভিয়েতনামের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা রয়েছে। সেটিই নবায়ন হয়েছে এবার।

বাংলাদেশের পক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং ভিয়েতনামের পক্ষে কৃষি এবং গ্রাম উন্নয়নমন্ত্রী নুয়েন জুয়ান সেউয়ং এই চুক্তিতে নিজ নিজ পক্ষে সই করেন। শিল্পের যন্ত্রাংশ উৎপাদনে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতায় কই করেন বাংলাদেশের শিল্প সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং মিয়ানমারের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী কাও চুয়ক হুয়াং। সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ইব্রাহীম হোসেন খান ও ভিয়েতনামের সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার ড্যাং থাই বিচ লিয়েন সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

১৪ বছরের ভিয়েতনাম রাষ্ট্রপ্রধানের এই প্রথম সফরে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভিয়েতনাম নেতা ত্রান দাই কোয়াংও। সমঝোতা স্মারক সই শেষে দুই দেশের একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ হয়। এতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানানো হয়। মঙ্গলবার ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপ্রধানের বাংলাদেশ ছাড়ার কথা রয়েছে।