রেমিট্যান্সের অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পরামর্শ

0
35

টাইমস ডেস্ক:
উৎসাহ দিয়ে রেমিট্যান্সের অর্থ পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার জন্য ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরামর্শ দেন। বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, সব জায়গাতে আমাদের রেমিট্যান্সের ছোঁয়া চলে এসেছে। রেমিট্যান্সের যে টাকা দেশে আসছে তার সবগুলো কিন্তু খরচ হয় না। ব্যাংকিং সিস্টেমে অনেক লিকুইড ক্যাশ আছে। এই রেমিট্যান্স যারা পাঠাচ্ছেন তাদের উৎসাহ দিয়ে আপনাদের বাজারে নিয়ে আসতে পারেন। তিনি বলেন, বিদেশে যেখানে বাংলাদেশি ভাই-বোনেরা আছেন, সেখানে আপনাদের ডিজিটাল আউটলেট ওপেন করেন। আপনাদের ডিজিটাল আউটলেট ওপেন করার জন্য যাবতীয় অনুমতি বা সহায়তা যতটুকু আমাদের পক্ষে সম্ভব সবটুকু আমরা করবো। আপনারা নিট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশি ভাই-বোনদের টাকা আনার ব্যবস্থা করেন। এর মাধ্যমে আপনারা হবেন সমৃদ্ধ এবং দেশও হবে সমৃদ্ধ। এ সময় বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যদি একটা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যকর অর্থনৈতিক অবস্থা দিতে পারি, এই বাজারে টাকার কোনো অভাব হবে না। তিনি বলেন, কোভিড পরবর্তী সময়ের মধ্যেই আমরা যাতে লেনদেন কয়েকগুণ বাড়াতে পারি, এক হাজার কোটি টাকার আশপাশে না, আমরা এটাকে দুই, তিন, চার, পাঁচ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করতে চাই। এ বিষয়ে আপনাদের (ব্রোকার) যেকোনো উপদেশ আমরা গ্রহণ করবো। আমরা সেই পর্যায়ে যদি সত্যি নিয়ে যেতে পারি, আপনাদের অনেক ব্রোকারেজ হাউজ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য ভালো হবে। সেই সঙ্গে আপনারাও ভালো থাকবেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন এখন এত ভালো হয়েছে যেকোনো জায়গায় যেতে আগে যেখানে ১০ ঘণ্টা থেকে একদিন লাগতো, সেখানে এখন দুই থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে যাওয়া যায়। বিদ্যুৎ চলে গেছে ঘরে ঘরে। শোনা যাচ্ছে এক বছরের মধ্যে দেশের সম্পূর্ণ অংশে বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন শুরু হয়ে যাবে। শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম জানান, আগে ব্রোকারেজ হাউসগুলো দৈনিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ লেনদেন করতে পারত। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এটাকে ৮ লাখ টাকায় উন্নীত করার ব্যবস্থা করেছি। আমরা এ-সংক্রান্ত চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পেয়ে গেছি। সুতরাং আপনারা নগদ লেনদেন এখন ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত করতে পারবেন। তিনি বলেন, আমরা গত কয়েদিন ধরে সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন কিছুটা কম দেখতে পাচ্ছি। তবে আমরা মনে করি যেহেতু প্রাইমারি মার্কেট একটু মুভমেন্ট হচ্ছে এবং আমাদের বেশকিছু জমে থাকা আইপিও’র অনুমোদন দেয়া হয়েছে, সে কারণে হয়তো প্রাইমারি মার্কেটে অ্যাক্টিভিটি একটু বেড়ে গেছে। সে কারণে হয়তো কিছুদিন এ রকম হতে পারে। তারপরও সেকেন্ডারি মার্কেট যাতে ভাইব্রেন্ট থাকে, সে জন্য আপনাদের স্বার্থেই সবদিকে খেয়াল রাখবেন। ডিবিএ’র সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক শেখ সামসুদ্দিন, ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান এবং বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানে ‘ব্রোকার হাউসের সেবাসমূহ ও বিনিয়োগকারীর অধিকার’ বিষয়ে কি-নোট উপস্থাপন করেন ডিবিএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও। বিএসইসির কমিশনার শেখ সামসুদ্দিন বলেন, কনসোলিডেটেড কাস্টমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (সিসিবিএ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা এই সিসিবিএ ব্যবহার করেন তাদেরকে আমরা অনেক সময় যথাযথভাবে ব্যবহার বা নিয়ন্ত্রণ করতে দেখি না। এই সিসিবিএ’র বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের কারণে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিএসইসি বাধ্য হয় বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিতে। স্টক ডিলার ও ব্রোকারদের আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বিএসইসির এই কমিশনার বলেন, স্টক ডিলার ও ব্রোকারদের যে সমস্ত আচরণ প্রয়োজন, সেগুলো বিধিমালায় বলা আছে। এ আচরণ বিধিমালা মেনে চললে অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। এজন্য ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দিতে হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, আমি দেখেছি অতীতে আমাদের পুঁজিবাজার অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অর্থনীতির অনেক উন্নতি হয়েছে। গত দেড় দশকে আমাদের অর্থনীতি উন্নতি করে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। কিন্তু আমাদের পুঁজিবাজার পিছিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, কনসোলিডেটেড কাস্টমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট’র টাকা গ্রাহকের টাকা। কিন্তু অনেক সময় অভিযোগ উঠে গ্রাহকরা ঠিকমতো টাকা পান না। আমরা আশা করবো ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ না পাওয়ার। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, একটি কোম্পানি কিভাবে তার ব্যবসাকে নিয়ে যাচ্ছে। একটি অর্থবছরে কিভাবে তারা প্রফিট করেছে বা লোকসানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তা জানার অধিকার বিনিয়োগকারীদের আছে। কিন্তু আমরা দেখছি অনেক কোম্পানি যারা নিয়মিত তথ্যই প্রকাশ করে না। প্রাইস সেনসিটিভ তথ্য তো দূরের কথা, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভাও করে না। নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করে না। অথচ সেইসব কোম্পানির শেয়ারের প্রতি আমরা অনেক সময় বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দেখতে পাই। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণœ হয়, অধিকার লঙ্ঘিত হয়।