রূপসা ঘাটে জীবনের ঝুকি নিয়ে চলছে যাত্রীরা, নিয়ম থাকলেও মানা হচ্ছে না

0
359

রূপসা প্রতিনিধি:
রূপসা ঘাটে জীবনের ঝুকি নিয়ে চলছে যাত্রীরা। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকা চলাচল করছে দিন-রাত। উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানামা করছে মাঝিরা। এমনকি রাতের বেলায় নৌকায় থাকে না কোন বাতি। দিনে বা রাতে যেকোনো সময়ের চিত্র এখন সকলের চোখে চোখে।
জানা যায়, প্রায় ৪ বছর আগে মাঝিদের দাবির পেক্ষিতে পারাপারের জন্য ২ টাকা থেকে ৩ টাকা করেন খুলনা-৪ আসনের প্রয়াত এমপি। তাতে উল্লেখ করা হয় ছোট নৌকায় ২৫ জন ও বড় নৌকায় ৩০ জন পারাপার করবে। কিছু দিন নিয়মটি মানলেও এখন নিয়মের কোন বালাই নেই। জীবনের ঝুকি নিয়ে পার হচ্ছে হাজারও লোক। এখন ছোট নৌকায় ৩৫ জন ও বড় নৌকায় ৪০ জন যাত্রী আনা-নেওয়া করা হচ্ছে।

আরো জানা যায়, নৌকায় অতিরিক্ত লোক নেবার প্রতিবাদ করলে মাঝিরা তাদের লাঞ্চিত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া শিশুদের দিয়ে রাতে ও দিনে নৌকা চালাতে দেখা যায়। রাতের বেলা থাকেনা কোন আলোর ব্যবস্থা। তবে মাঝে মধ্যে জেলা ও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে তাদের এ সকল অপরাধের জন্য জরিমানা করেন। কয়েকদিন যাবার পর তা পূর্বের জায়গায় ফিরে আসে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৃষ্টি-বাদলের মধ্যে নদী পার হচ্ছেন প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ। নৌকায় লোক উঠানো-নামানোর নেই কোন নিয়ম। বিশেষ করে মহিলাদের টেনে আচঁড়ে ধরে উঠানো হয়। ঘটছে প্রতিনিয়ত য়াত্রীদের সাথে কথা কাটাকাটি। নৌকার উঠা নামার জায়গা থাকলেও সেখানে না গিয়ে মাঝিদের ইচ্ছামত যেখানে সেখানে ভীড়াচ্ছে নৌকা। যার ফলে মহিলা, শিশু ও বৃন্ধরা নৌকায় উঠতে পারছে না।
ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে শুরু করে প্রায় সপ্তাহজুড়ে খুলনার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঘাটে পারাপারেরর তদারকি করেন বলে জানান স্থানীয় মোঃ আমিরূল ইসলাম। তিনি জানান, মাইকিং করে প্রতিটি নৌকায় গুণে গুণে লোক উঠানো হয়েছিল। তখনকার ঘাটের পরিস্থিতি অনেকটায় ভাল থাকে। যাত্রীরা নির্ভয়ে যাওয়া আসা করে। কিন্তু এখন ঝড়-বৃষ্টি যাই হোক না কেন প্রতিটি নৌকায় যাত্রী বেশি থাকে। প্রশাসনের তৎপরতায় নেই। তাছাড়া তদারকির অভাবে ঘাট মাঝিরা দিন দিন যা খুশি তাই করছে। রাতে বৃষ্টি হলে জন প্রতি ৫ টাকা করে নেওয়া হয়। যাত্রীদের জিম্মী করে এ টাকা নেওয়া হয়।
প্রতিদিন পারাপার হন উজ্জল নামে ব্যবসায়ী এক যুবক তিনি বলেন, ঘাটের এ অনিয়ম নিয়ে একাধিক বার মাঝি সমিতির নেতাদের বলেছি কিন্তু কোন কাজ হয়না। আমাদের সাথেও মাঝিদের হয় কথা কাটাকাটি। মাঝিদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন। ছাড় পাইনি সরকারী ,বেসরকারী কর্মকর্তারাও। তাই এখন আর কোন কথা বলি না।
সূত্র জানায়, ঘাট থেকে প্রভাবশালী কয়েকজন নেতারা মাসোয়ারা নেয়। যে কারনে মাঝিরা নিয়ম থাকা স্বত্তেও তোয়াক্কা করেন না।
এ ব্যাপারে যাত্রী শরিফুল ইসলাম বলেন, ঝুকির মধ্যে দিয়ে প্রতিদিন রূপসাঘাট দিয়ে শহরে যাওয়া আসা করি। নিয়মের কোন বালাই এখানে নেয়। নৌকা মাঝিরা ইচ্ছামত কাজ করেন।
এ সকল অনিয়মের বিষয় মাঝি সমিতির নেতা হারেজ জানান, নিয়মের মধ্যে থেকে নৌকায় যাত্রী পারাপার করি। তবে কিছু সমস্যা থাকতে পারে। তবে যেসকল সমস্যা আছে তা অচিরেই সমাধান হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে মাসিক আইন শৃংখলা সভায় মাঝি সমিতির নেতাদের ডেকে বার বার নিয়মের কথা বলে দিয়েছি। তারপরও তারা অনিয়ম করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।আমরা কয়েকবার ভ্রাম্যমান অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে জরিমানাও করেছি।