রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী : বড় পর্দায় দেখবে খুলনাবাসী

0
704

টাইমস প্রতিবেদক : দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় । এই উদ্বোধন অনুষ্ঠান খুলনা তথ্য অফিস শহীদ হাদিস পার্কে বড় পর্দায় প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছে। খুলনা জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল স্বাক্ষরিত এক খবর বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় আণবিক শক্তি করপোরেশন-রসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রæপ অব কোম্পানিজ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই পারমাণবিক বিদুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিউক্লিয়ার ক্লাবে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। আর প্রধানমন্ত্রীর আগমনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ জেলাবাসীর মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকাজুড়ে নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার বলয়।

রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটমের) নেতৃত্বে ২০১৩ সালে শুরু হয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। এ প্রকল্প নির্মাণে প্রতিদিন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশি মিলে এক হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন। দুটি পর্বে এক লাখ ১৮ হাজার ১৮০ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

এর আগে ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর পাবনা সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় চার বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো তিনি পাবনা আসছেন। তাই সড়ক, মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শোভা পাচ্ছে বিলবোর্ড, শুভেচ্ছা বাণী সম্বলিত ফেস্টুন-পোস্টার।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশের মধ্যে দিয়ে রুপপুরের আলোয় আলোকিত হবে দেশ। এ নিয়ে সর্বত্র বিরাজ করছে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

জানা গেছে, স্বাধীনতার আগে ১৯৬১ সালে পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে প্রথম উদ্যোগ নিলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়া সফরকালে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য চুক্তি সই করেন। ওই বছরেই শুরু হয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ। বৃহস্পতিবার এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল স্থাপনা ‘রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং’ বা উৎপাদন কেন্দ্রের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রূপপুরে পারমাণবিক বিদুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. শওকত আকবর বলেন, ব্যয়বহুল এই বিদুৎকেন্দ্রটিতে থাকছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বিশিষ্ট ভিভিইআর প্রযুক্তি এবং আট মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় দুটি চুল্লি। চুক্তি অনুযায়ী পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য নিয়ে যাবে রাশিয়া। ইতিমধ্যেই সফলভাবে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে।

আস্তর্জাতিক সব মানদন্ড মেনেই চলছে এই নির্মাণ কাজ। পারমাণবিক এই বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সর্বাধুনিক দুটি বিদ্যুৎ ইউনিট থাকবে। বিশ্বের ৩২টি দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নিউক্লিয়ার ক্লাবে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ।

এ প্রল্পটি চালু হলে যেমন দেশের অর্থনৈতিক গতি সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি মধ্যম আয়ের দেশ থেকে দেশ আরও উন্নত হবে। এমনটাই সম্ভাবনার সুবাতাস বইছে রূপপুরকে ঘিরে আগামীর বাংলাদেশ।